July 22, 2017, 8:34 pm | ২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং,শনিবার, রাত ৮:৩৪

ভারতের অনাগ্রহে ঝুলে আছে চার দেশের ইনফরমেশন হাইওয়ে প্রকল্প!

ICTঢাকা জার্নাল : কাজ শেষ দুই বছর আগে। প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন শেষে চলে গেছেন নিজ দায়িত্বে। তবে এখনও চালু করা যায়নি চার দেশের ‘সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন’ বা সাসেক নামের প্রকল্পটি। একটি দেশের অনাগ্রহের কারণে কাজ শেষ হওয়ার পরও ঝুলে গেছে প্রকল্পটি। ফলে চার দেশের যৌথ তথ্যপ্রযুক্তি মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত সাসেক প্রকল্প এখনও তাই স্বপ্নেই অবস্থান করছে।

সাসেক নামের প্রকল্পে যুক্ত চারটি দেশ- বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটান। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয়েছে চারটি দেশের যৌথ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক মহাসড়ক। একই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে চার দেশের সাধারণ মানুষ উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারার কথা। কিন্তু, ২০১৪ সালের জুন মাসে সাসেক প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও তা চালু করা যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ের আগে বাংলাদেশ অংশের কাজ শেষ হলেও ভারতের অংশের কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও চালু হয়নি এই মহাসড়ক।

প্রসঙ্গত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ ও সরকারের অর্থায়নসহ সাসেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ এলাকায় শক্তিশালী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ব্যবহার বৃদ্ধি। এছাড়া সাসেক দেশগুলোর মধ্যে স্বল্প খরচে আইটি সংযোগ উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় আইসিটি সুযোগ পৌঁছানো সম্প্রসারণ, গ্রামীণ মহিলাদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা।

সাসেক প্রকল্পের সাবেক পরিচালক আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এমদাদুল হক জানান, ২০১৪ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের বাংলাদেশে অংশের কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি দেশের কাজ শেষ হতে বাকি থাকায় প্রকল্পটি ওই সময় চালু করা সম্ভব হয়নি।

আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার পথে ট্রেঞ্চ খুঁড়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বসানো হয়। ঢাকার মগবাজারের বিটিসিএল এক্সচেঞ্জ থেকে পঞ্চগড় হয়ে ভারতের শিলিগুড়ি এবং কলকাতা হয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে এসটিএম-১৬ এর লাইনটি আরও গতিশীল করতে বিটিসিএল-এর (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড) ঢাকার মগবাজার, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এক্সচেঞ্জে যন্ত্রপাতি বসানোও শেষ হয়।

অন্যদিকে ভারতের শিলিগুড়ি হয়ে অপটিক্যাল ফাইবার শিগগিরই বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে সংযোজন করার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের অনাগ্রহের কারণে শিলিগুড়িতে পয়েন্ট তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি। সূত্র আরও জানায়, ভারত এডিবির কাছ থেকে এই প্রকল্পের জন্য কোনও ঋণ নেয়নি। সে ক্ষেত্রে তাদের কোনও চাপ না থাকায় প্রকল্পটি চালুতে তাদের আগ্রহ কম।

সাসেস প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘ওদের (ভারতের) পিয়ারিংটা হবে শিলিগুড়িতে। ওখানে কানেক্টিং হওয়ার কথা, কিন্তু এটা হচ্ছে না। গত মিটিংয়ের আগের মিটিংয়ে আমি গিয়েছিলাম, যেটা ভূটানে হয়। তাদের (ভূটানকে) আমি বলেছিলাম, আপনারা ভারতের সঙ্গে মিটিং করেন। ভারতে এই সেবাদানের সঙ্গে যুক্ত ছিল ভারতী সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএএসএনএল)। ওই মিটিংয়ে ভারত ছিল না।’ তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় নেপাল ভারতকে কিছু বলছে না। ভারত আগ্রহ দেখালে এই প্রকল্প অনেক আগেই শুরু (চালু) করা যেত। তিনি মনে করেন, ‘ভারত আগ্রহ না দেখানোয় এবং দেরি হওয়ার কারণে ভূটান ও নেপাল এই প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যদিও আগে তাদের আগ্রহ ছিল।’

সুশান্ত কুমার সাহা আরও বলেন,‘আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। এডিবি যে অর্থায়ন করেছে তাদেরও একটি ভূমিকা আছে। তারা চাইছে হাই প্রোফাইল কাউকে দিয়ে প্রকল্পটি উদ্বোধন করাতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যিনি সম্মতি দেবেন তাকে দিয়ে, এমন কি দু’জনকে দিয়ে হলেও এই প্রকল্প উদ্বোধন করাতে চায় তারা। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই এলাকাটি সাবমেরিন কেবলের বিকল্প কানেক্টিভিটি পাবে। এলাকার গুরুত্ব বেড়ে যাবে। অত্র এলাকার সাধারণ মানুষও কানেক্টিভিটির আওতায় আসবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই অতিরিক্ত সচিব জানান, এই এলাকার ফিজিক্যাল হাইওয়েগুলো এখনও ইনফরমেশন হাইওয়ে হিসেবে অ্যাক্টিভ হয়নি।

নথি ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় সাউথ সাসেক দেশগুলোর ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সাসেক ইনফরমেশন হাইওয়ে স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের জুন মাসে শেষ হয় সাসেক প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজ।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল