January 19, 2017, 2:36 pm | ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, দুপুর ২:৩৬

‘জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলেছি প্রমাণ করতে পারলে পদত্যাগ করবো’

subidঢাকা জার্নাল: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলার পরদিনই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলেছি, তা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, আমি রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করবো’।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে জরুরি প্রেস ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি (কুমিল্লা-১) আসনের এই  সংসদ সদস্য।

বুধবার (১৭ আগস্ট) সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির  বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ঘটনাটি নিয়ে আলোচনাকালে সুবিদ আলী ভূঁইয়া জিয়াকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ নিয়ে কমিটির বৈঠকেই সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। দলের একাধিক সংসদ সদস্য তার এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন এবং অনেকে পদত্যাগ দাবি করেন।

ওইদিন তার বক্তব্য নিয়ে কমিটিতে বিতর্ক হয়েছিল বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন কমিটির সভাপতি সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী।

বুধবার সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রকাশিত স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ উল্লেখ করা নিয়ে আলোচনার সময় সুবিদ আলী ওই কথা বলেছিলেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে ইউজিসি’র চেয়ারম্যান কিছু বলার আগেই সুবিদ আলী বলে ওঠেন, জিয়াই বাংলাদেশের ‘প্রথম  রাষ্ট্রপতি’। এটা তিনি তার বইতেও লিখেছেন।

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, তিনি বলেছিলেন, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করার সময় জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, যে ভুল পরে শোধরানো হয়। ওই কথাটিই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন তিনি।

নিজের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস’ গ্রন্থে এ বিষয়ে লিখেছেন বলে জানান তিনি। সবিদ আলী ভূঁইয়া দাবি করেন, গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সংসদীয় ওই কমিটির সদস্যরাই এ কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকরা তুলে ধরলে সুবিদ আলী বলেন, ‘সেটা কে কি বলেছেন, আমি কিছু জানি না’।

সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সদস্য সুবিদ আলী বর্তমান সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি।

লিখিত বক্তব্য সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে একজন সংসদ সদস্য সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি কি তাহলে বলতে চান, জিয়াই প্রথম রাষ্ট্রপতি?’ আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করি ‘জিয়া কি তার জীবোদ্দশায় কখনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবি করেছিলেন? এটাতো বিএনপির পলিটিক্যাল বক্তব্য। জিয়াতো দাবি করেননি’।
‘আমি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই, আমি জিয়াউর রহমানকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ কখনো বলিনি। আমার বক্তব্যের কোনো পর্যায়েই এ ধরনের উদ্ধৃতি ছিলো না’।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সুবিদ আলী বলেন, ‘জিয়াকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলবো কেন? আমি ক্লু পাচ্ছি না। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি কিভাবে হন? তখনতো সরকারই হয়নি’।

‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ার জন্য তিনি কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি-না- জানতে চাইলে সুবিদ বলেন, ‘যে যাই বলুক, ট্রুথ শ্যাল প্রিভেইল। কে আমার সম্পর্কে কি বললেন, আমি জানি না। না জেনে বলতে পারছি না। গণমাধ্যম যদি দিয়ে থাকে, না জেনে দিয়েছে। আমার খাইয়া কাজ নেই ব্যবস্থা নেবো। রাজনীতি করলে অনেক কথাই হয়’।

তিনি বলেন, ‘একজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কেউ যদি অ্যাওয়ার্ড পান, তবে সেটা আমি। কিন্তু পাইনি। বাংলাদেশে অনেক কিছুই ঘটে’।

‘এ বিতর্কের মাধ্যমে আমাকে এবং আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে হেয় প্রতিপন্ন ও বিতর্কিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াতকে  মিথ্যা ইস্যু তৈরি করে দেওয়া হয়েছে’।

নিজ এলাকায় বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এমপি হওয়ার পর বলেছি, তার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম। একটা কেসও দেইনি’।

ঢাকা জার্নাল, আগস্ট ১৮, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল