January 19, 2017, 8:11 am | ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, সকাল ৮:১১

ইস্তাম্বুলে বোমা হামলাকারীরা রুশ, উজবেক ও কিরগিজ

Turkeyঢাকা জার্তুনাল : রস্কে ইস্তাম্বুলের প্রধান বিমানবন্দরে এ সপ্তাহে বন্দুক ও বোমা হামলা চালানো তিন আইএস সন্দেহভাজন রাশিয়া, উজবেকিস্তান এবং কিরগিজস্তানের নাগরিক বলে জানিয়েছেন এক তুর্কি সরকারি কর্মকর্তা।

তুরস্কে ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দরটিতে এ বছর এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।

তিন বোমারু প্রথমে বাইরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গুলি চালায়। এরপর তাদের দুইজন ভেতরের টার্মিনাল ভবনে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায়। তৃতীয়জন নিজেকে উড়িয়ে দেয় প্রবেশপথে। হামলায় ৪১ জন নিহত হওয়া ছাড়াও ২৩৯ জন আহত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তুর্কি কর্মকর্তা হামলাকারীদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা ছাড়া আর বিস্তারিত কিছু জানান নি। তদন্তকারীরা বোমা হামলাকারীদের পরিচয় সনাক্ত করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সরকারপন্থি ইয়েনি সাফাক পত্রিকা বলেছে, রাশিয়ার বোমা হামলাকারী এসেছে চেচনিয়া সীমান্তবর্তী দাগেস্তান থেকে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মস্কো ওই এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দুটো যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে।

কিরগিজস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী কিরগিজ নাগরিকের হামলায় জড়িত থাকার ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, উজবেক নাগরিকের ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য উজবেকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবারের রাতের ওই হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুরস্কের পুলিশ ইস্তাম্বুল জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করেছে। এদের তিনজন বিদেশি।

দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পুলিশের বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাস বিরোধী একটি টিম শহরটির ১৬ টি জায়গায় অবিরাম তল্লাশি চালিয়েছে। তুরস্ক কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে হামলার পেছনে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হাত আছে বলে ধারণা করছে।

ইয়েনি সাফাক পত্রিকা বলেছে, হামলার সংগঠক চেচেন বংশোদ্ভুত ব্যক্তি। তার নাম আকমেদ চাতায়েভ বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রুশ-ভাষী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় নিয়োজিত একজন আইএস নেতা হিসাবে চাতায়েভের নাম আছে। রাশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজছে।

ওদিকে, হুরিয়াত পত্রিকা একজন হামলাকারীর নাম ওসমান ভাদিনভ বলে উল্লেখ করেছে। এ ব্যক্তিও একজন চেচেন। সে এসেছে সিরিয়ার আইএস নিয়ন্ত্রিত শহর রাক্কা থেকে।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, হামলার ধরন দেখে এর পেছনে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা থাকতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি তুরস্কে যে কয়টি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর পেছনে হয় আইএস নয় কুর্দি যোদ্ধাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

ঢাকা জার্নাল, জুন ৩০, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল