June 24, 2017, 1:01 pm | ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং,শনিবার, দুপুর ১:০১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কার্যকরে মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশিকা

Goverment lOGOঢাকা জার্নাল : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কন্টেন্ট এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো কন্টেন্ট প্রকাশ করা যাবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা সংশ্লিষ্ট কোনো কন্টেন্ট প্রকাশ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে সরকার।

রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৬ নামে নির্দেশিকাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, স্কাইপে, গুগল প্লাস, ইমো, ভাইবার, লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্ট ও হোয়াইটসঅ্যাপ এ নির্দেশিকার আওতায় পড়বে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।

নির্দেশিকায় সরকারি কর্মচারীদের পরিহারযোগ্য অংশে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য পরিপন্থী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টিকারী কোনো কন্টেন্ট প্রকাশ করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা, লিঙ্গ বৈষম্য কিংবা জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো কনটেন্টও প্রকাশ করা যাবে না। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিও বৈষম্যমূলক কিছু প্রকাশ করা যাবে না।’

সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও নাগরিকসুলভ আচরণ এবং অনুশাসন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে ‘কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও নির্বাচন ও বাছাইয়ে যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে।

সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা, মাঠ পর্যায়ের সরকারি অফিস, শিক্ষা/প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং গণকর্মচারীরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশিকা অনুসরণ করবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক সম্পৃক্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি এবং সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একুশ শতকের উপযোগী সক্ষমতা সৃষ্টির জন্য নির্দেশিকা অনুসরণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দাপ্তরিক যোগাযোগ, মতবিনিময়, সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধান, জনসচেতনতা, প্রচার-প্রচারণা, নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও উদ্ভাবন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, জনবান্ধব প্রশাসন ব্যবহার নিশ্চিত এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশেও ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারের এ প্রবণতা লক্ষ্যণীয়।

এতে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। অপরদিকে দেশব্যাপী আট শতাধিক সরকারি অফিস দাফতরিক কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। এটি আরো বৃদ্ধি পাবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়াও নির্দেশিকার উদ্দেশ্যের মধ্যে এ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারীদের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করতে হবে।দায়িত্ববান তিন-পাঁচ জন ব্যক্তিকে দিয়ে অ্যাডমিন পরিচালনা করাও বাঞ্ছনীয়। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অ্যাডমিন সপ্তাহে কমপক্ষে দুই বার হালনাগাদ বা সাড়া প্রদান করতে হবে বলে নির্দেশিকায় বলা হয়।

এতে আরো বলা হয়, প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তিন মাস অন্তর ব্যবহারের অগ্রগতি ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রত্যেক বছর শেষে মূল্যায়ন করে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধানের পাশাপাশি অফিসিয়াল সিক্রেটস, সরকারি কর্মচারী আচরণ (আচরণ) বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, তথ্য অধিকার আইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, কপিরাইট আইন মেনে চলতে হবে।

এ নির্দেশিকা ব্যবহারে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার ইউনিট বা এটুআই প্রকল্পের নজরে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জার্নাল, মার্চ ২০, ২০১৬।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল