July 23, 2017, 8:54 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৪

হরতাল: দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি

0,,16642273_302,00ঢাকা জার্নাল: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে নিয়মিত হরতাল হচ্ছে দেশে৷ বুধবার থেকে আবার শুরু হয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের দুই দিনব্যাপী হরতাল৷

রাজনৈতিক সহিংসতা আর হরতালের কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছে দেশের অর্থনৈতিক সেক্টর৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, হরতাল অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত৷ বিদেশি বিনিয়োগকারী মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন৷ হরতালের কারণে বড় বড় ক্রেতারা সময় দিয়েও আসছেন না৷ অর্ডারের মালামাল ঠিকমতো শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না৷ এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঊর্ধ্বমুখী অর্থনৈতিক খাত চরম সংকটের মুখে পড়বে৷ চাকরি হারাবেন অনেকে৷

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম  বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মূলত বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে৷

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে দলগুলো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না৷ এ কারণেই বিদেশি ক্রেতারা বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন৷ সহসাই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রীলঙ্কা থেকে গার্মেন্ট শিল্প যেভাবে বাংলাদেশে চলে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই গার্মেন্ট শিল্প বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাবে৷

আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী ও তৈরি পোশাক ক্রেতা তাদের বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন৷

তৈরি পোশাকের ক্রয় আদেশ বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে৷ এ অবস্থায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা৷ সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গার্মেন্ট মালিকরা৷ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা চলতে থাকলে রক্ষা করা যাবে না ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের খাত তৈরি পোশাক শিল্প৷

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গত দুই মাসে শুধু ভারতে চলে গেছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের ক্রয় আদেশ, স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা৷ অন্যদিকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং করপোরেশনের একটি প্রতিনিধি দল তাদের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছে৷ এ অবস্থা চলতে থাকলে চরম সংকটে পড়বে অর্থনীতি৷

আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য দাবি জানাচ্ছে৷ রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না৷ যার কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের অর্ডার বাতিল করছে৷ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গার্মেন্ট শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারসহ সব রাজনৈতিক দলকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে৷

বিজিএমইএ’র সভাপতির মতে, গত প্রায় দুই মাস ধরে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক৷ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কাছে তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে৷ তাদের ব্যবসা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক তারা কোনোভাবেই তা চান না৷ এ কারণে তারা বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্ট পণ্যের অর্ডার ফিরিয়ে নিচ্ছে৷

ইতোমধ্যে ওয়ালমার্টসহ বড় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে অর্ডার তুলে নিয়ে বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে, যা এই শিল্পের জন্য বড় হুমকি৷ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে রপ্তানি আদেশ আরও বাতিল করবে ক্রেতারা৷ তখন এই সেক্টরটিকে আমরা রক্ষা করতে পারব না৷ গার্মেন্ট মালিকরা লাখ লাখ শ্রমিককে বেতন দিতে পারবে না৷ যাকে কেন্দ্র করে আগামীতে এ শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কাও তার৷
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘ডিডব্লিউ’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল