June 23, 2017, 7:36 pm | ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ছবির করুন দশা!

6a00d8345175a969e2015390b28e35970b-320wiঢাকা জার্নাল: ‘‘ক্রাউচিং টাইগার, হিডেন ড্র্যাগন’’ যাবৎ হলিউডের সঙ্গে মিতালির স্বপ্ন দেখছে চীনের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি৷ অন্যদিকে দেশের বাজারে একাধিক সুপারহিট ছবি করেও বিদেশে সেগুলোকে ঠিকমতো বেচা যাচ্ছে না৷

গতবছর চীনের সিনেমা জগতে সুপারহিট ছিল ‘‘লস্ট ইন থাইল্যান্ড’’ ছবিটি৷ একটি কম বাজেটের, খামখেয়ালি রোড মুভি৷ ছবিটি এমনই হিট হয় যে, ‘‘অবতার’’-কেও ছাড়িয়ে যায়৷ চীনে ছবিটা কামায় বিশ কোটি ডলার৷ কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেই ছবি রিলিজ হওয়ার পর সেখানে টিকিট বিক্রি হয় সাকুল্যে সাতান্ন হাজার ডলার৷

অথচ শুধু দেশের বক্স অফিসে পরাশক্তি হয়ে সুখী নন চীনের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বস’রা৷ তাঁরা চান হলিউডের মতো বিশ্বজয় করতে, যে ব্যাপারটা কোনো একটা রহস্যজনক কারণে ঘটছে না৷ ‘‘লেট দ্য বুলেটস ফ্লাই’’ নামের একটি অ্যাকশন-কমেডি স্বদেশে প্রায় ১১১ মিলিয়ন ডলার কামালেও, যুক্তরাষ্ট্রে তেষট্টি হাজার ডলারের বেশি তুলতে পারেনি৷ ‘‘পেইন্টেড স্কিন: দ্য রিজারেকশন’’ বলে আরেকটি অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি’রও এক দশা৷

কেন এই দৈন্যদশা!

গতবছর বিদেশে চীনা ছবিগুলির বক্স অফিস পড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ৷ অথচ চীনে দীর্ঘ ন’বছর পরে হলিউড ছবিগুলি আবার মোট টিকিট বিক্রির অর্ধেকের বেশি পকেটস্থ করেছে৷ চীনা ছবিগুলির যে ‘‘চীনের দৃশ্যপট এবং কাহিনিগুলিকে মেইনস্ট্রিম আন্তর্জাতিক ছবিগুলির মতো’’ পরিবেশনা করা উচিত, সে’কথা বলেছেন বেতার, টেলিভিশন ও ফিল্মের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রধান টং গাং স্বয়ং৷

চীনা ছবি বিদেশে বক্স অফিস পায় না কেন? ডিস্ট্রিবিউটাররা বলছেন, চীনা ছবির বিষয়বস্তু বাইরে ঠিক বোধগম্য হয় না৷ চীনা ছবিতে গল্প বলার ভঙ্গিও আলাদা৷ এছাড়া চীনের স্বদেশে দর্শক এতো বেশি যে, স্টুডিওগুলোর বাইরের বাজার নিয়ে ভাববার কোনো প্রয়োজন পড়ে না৷

লস্ট ইন ট্রান্সলেশন

আরেকটি সমস্যা বোধহয় এই যে, চীনের চিত্রনির্মাতারা এখন মার্শাল আর্টস ছবি ছেড়ে রোম্যান্টিক কমেডির দিকে ঝুঁকেছেন৷ চীনা হাস্যরসও বহির্বিশ্বের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় নয়৷ ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে চীনা ছবির বহু উপাদান পশ্চিমা দর্শকদের কাছে অবোধ্য৷

আরেকটি অনুচ্চারিত বাধা হল চীনের সেন্সরশিপ প্রথা, যার কারণে আধুনিক, সমাজ-ঘেঁষা বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি করাটা ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ কাজেই সব মিলিয়ে বলা চলে, অ্যাকশন ছবি বাদ দিলেই সামাজিক, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক পটভূমির দরকার হয়৷ এবং সেখানে যে ফাঁড়াটা অপেক্ষা করে রয়েছে, তার নাম হল: ‘লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’৷ সূত্র:ওয়েবসাইট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল