June 29, 2017, 1:27 am | ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ১:২৭

আশার প্রদীপ জ্বেলে চিরবিদায় নিলেন রাষ্ট্রপতি

0,,16687753_302,00ঢাকা জার্নাল: দেশের মানুষকে চোখের জলে ভাসিয়ে চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান৷ তবে তিনি মানুষের মনে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে গেছেন৷ মৃত্যুতেও সর্বদলকে পথ দেখিয়েছেন ঐক্যের৷

ঢাকার বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান৷ তাঁকে শুইয়ে দেয়া হয় তাঁরই প্রিয়তমা স্ত্রী আইভী রহমানের কবরে৷ আইভী রহমান ২০০৪ সালের ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হন৷ তারপর জিল্লুর রহমান প্রায় ৯ বছর প্রিয়তমা স্ত্রী হারানোর শোক বুকে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছেন৷ দায়িত্ব নিয়েছেন রাষ্ট্রপতির৷ শুক্রবার বিকেলে তিনি চলে গেলেন তাঁর সবচেয়ে আপন প্রিয়তমা আইভীর কাছে৷ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের সময় তাঁকে চোখের জলে বিদায় দেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, জিল্লুর রহমানের আত্মীয়-স্বজনসহ রাজনৈতিক নেতারা৷

এর আগে জুম্মার নামাজের পর জাতীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেন মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ লাখো মানুষ৷

আর সকালে রাষ্ট্রপতির মরদেহ নেয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়ি ভৈরবে৷ সেখানকার হাজী আসমত আলি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজায় অংশ নেন সব শ্রেণি, পেশার মানুষ৷ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ২০০৯ সালের ১৩ই জুলাই এই মাঠেই তাঁকে নাগরিক সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন ভৈরববাসী৷ ভৈরবের সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রিয় জিল্লুর ভাইকে শেষবারের মতো দেখেন৷ তাঁরা তাঁদের ভালবাসার মানুষকে বিদায় দেন কান্না আর শ্রদ্ধায়৷ জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির মরদেহের প্রতি গার্ড অব অনার দেয়া হয়৷

মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসার পর কয়েক ঘণ্টা বঙ্গবভনে রাখা হয়৷ সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিদেশি রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের প্রতিনিধিরা৷

ভৈরবের জানাজায় রাষ্ট্রপতির ছেলে সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার বাবা সারা জীবন মানুষকে প্রাণভরে ভালবেসে গেছেন, শত্রুকেও প্রতিপক্ষ ভাবেননি৷ মানুষের কথা ভেবে রাজনীতি করেছেন৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন বলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে যা বলেছেন মৃত্যুর মধ্য দিয়েও তার প্রমাণ রেখে গেছেন রাষ্ট্রপতি৷

তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুর শোক সবাইকে এক করেছে৷ রাজনীতিবিদরা ভেদাভেদ ভুলে গেছেন৷ ভুলে গেছেন বৈরিতা৷ আজীবন গণতন্ত্রীকে হারিয়ে সবাই অভিভাবককে হারানোর বেদনায় কাতর হয়েছেন৷ তাই বিরোধী দল তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছে৷ হরতাল প্রত্যাহার করেছে৷ বিরোধী দলীয় নেত্রী ছুটে গেছেন প্রিয় রাষ্ট্রপতিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে৷ গেছেন সব দলের সব মতের মানুষ৷

মাহবুবা নাসরিন মনে করেন, এই শোকের ভেতরেও আছে আশার আলো৷ আশার আলো জ্বেলে গেছেন জিল্লুর রহমান৷ সেই আলোকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ ও দেশের রাজনীতি লাভবান হবে৷ জিল্লুর রহমানের যে গণতান্ত্রিক চেতনা, গ্রহণযোগ্যতা সবাইকে এক করেছে সেই চেতনা যেন সাময়িক না হয়৷ রাজনৈতিক দলগুলো যদি এখন পরস্পরের প্রতি এমন সহনশীল এবং উদার হয় তাহলে দেশের সংকটও দূর হবে৷ সাময়িকভাবে যে সংযম আর সহনশীলতা দেখা যাচ্ছে তা হয়তো স্থায়ী হবে৷

তিনি বলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ইমেজকে বিবেচনায় রাখতে হবে৷ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি যিনি হবেন তিনি যেন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হন৷ তাহলে সব দলের সব মানুষের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য হবেন৷ আর রাষ্ট্রপতি কোনো দলের নয়, তিনি সবার৷ যা প্রমাণ করে গেছেন জিল্লুর রহমান৷

গত বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ৮৪ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান৷ তাঁর মরদেহ ঢাকায় আনা হয় পরদিন বৃহস্পতিবার৷ তাঁর মৃত্যুতে শনিবার পর্যন্ত তিনদিনের জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল