June 28, 2017, 11:33 am | ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং,বুধবার, সকাল ১১:৩৩

পোস্টার-বিলবোর্ডের হাত কত লম্বা

Bill-board-mymensingh--sm20130316135921ঢাকা জার্নাল: রাজধানী ঢাকার রাস্তা-ঘাটে বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। এখন গাছেও লাগানো হচ্ছে বিলবোর্ড। একই অবস্থা ময়মনসিংহের। ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্রবেশ পথের সামনে হরেক প্রজাতির ১০টি গাছ। এসব গাছে প্যারেক ঠুকে লাগানো হয়েছে বিলবোর্ড। সাঁটানো হয়েছে পোস্টার।

গাছে গাছে এমন বিলবোর্ড কিংবা পোস্টার ময়মনসিংহ জেলা অটো-টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাগিয়েছিলেন নির্বাচনের প্রতিদ্ব›দ্বীরা।

প্রায় দু’মাস আগে নির্বাচন শেষ হলেও নিজেদের প্রকাশের অভিনব প্রচারণার বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড-পোস্টার এখনো গাছে সাঁটানো আছে।

কেবল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, যেকোনো উৎসব-আনন্দে শুভেচ্ছা জানানোর নাম করে বিলবোর্ড-পোস্টারে নিজেদের দাঁতেল হাসি প্রকাশ করে আসছেন জননেতারা! মাস ছাড়িয়ে বছর পেরিয়ে যায় এসব নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েই যান। রেহাই পায় না মানুষ, রেহাই পায় না পরিবেশও।

ময়মনসিংহ শহর ঘুরে দেখা গেছে, কেবল রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় নয়, শহরের অনেক এলাকাতেই গাছে গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো হয়েছে হরেক রকমের বিজ্ঞাপন।

গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও এ আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে ২০০২ সালের ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস হয়। কিন্ত প্রায় ৯ বছরেও আইনটি কার্যকর হয়নি। অর্থাৎ আইনটি আছে কাগজে-পত্রেই। বাস্তবে নেই।

ফলে শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কের প্রায় সব গাছই এখন বিজ্ঞাপনদাতাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ পৌরসভার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স¤প্রতি ময়মনসিংহ পৌরসভা শহরে বিলবোর্ড, ব্যানার-পোস্টার ব্যবহারের বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। গ্রীণ এন্ড ক্লিন সিটির আওতায় এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বা কোচিং সেন্টারের ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠনের মাঝারি মাপের নেতা-কর্মীরা গাছে পেরেক ঠুকে বিলবোর্ড বসিয়ে অবৈধ উপায়ে নিজেদের প্রচারণা চালালেও এ বিষয়ে এখনো কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়টিকে ময়মনসিংহ পরিবেশবাদী আন্দোলন ‘প্রেরণা’র সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে এ ধরণের আইন পাস হলেও বাস্তবে প্রয়োগ নেই। পরিবেশ বন্ধু গাছকে এ করুণ পরিণতির হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি দেয়া প্রযোজন।’

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১-আসিফ হোসেন ডন জানান, “গ্রীণ এন্ড ক্লিন সিটির আওতায় একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে অভিযান চালানো হবে।”

ঢাকা জার্নাল, ১৮ মার্চ, ২০১৩

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল