June 23, 2017, 7:50 pm | ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৫০

দেশে তৈরি হচ্ছে নতুন জঙ্গি গ্রুপ

hamasঢাকা জার্নাল: আল-কায়েদা নেটওয়ার্কের জঙ্গি ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কিছু তরুণ৷ তারা সংগঠিত হচ্ছে নানা নামে৷ ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, তাদের গ্রুপগুলো এখনো শক্তিশালী না হলেও ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছে৷

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন বাংলাদেশ আল-কায়েদা নেটওয়ার্কের ভাবাদর্শের তরুণদের সম্পর্কে৷ এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ছাত্র ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ নামের একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত – যারা আল-কায়েদার অনুসারী৷

মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মশিউর রহমান জানান, তাদের সঙ্গে আল কায়েদা নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগ আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বইপত্র, ভিডিও সিডি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত যে তারা আল-কায়েদার অনুসারী৷ তিনি বলেন, এ ধরণের অনুসারী আরো আছে৷ তারা নানা নামে সক্রিয়৷ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রদের মধ্যে তারা তাদের অনুসারী বাড়াচ্ছে৷ একই ধারায় জাদীদ আল-কায়েদা নামের একটি সংগঠনের কথাও শোনা যায়৷

বাংলাদেশে মোট ৫টি জঙ্গি সংগঠনকে এপর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সংগঠনগুলি হল: জেএমবি, জেএমজেবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহরির এবং শাহদাত ই আল হিকমা৷ এই সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি৷ এমনকি সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার পর জেএমবি’র শায়খ আব্দুল রহমান ও বাংলা ভাইসহ শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পরও সংগঠনটি সক্রিয় আছে৷ জেএমবি’র সদস্যরা প্রায়ই ধরা পড়ে পুলিশের হাতে৷

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সেন্টার পর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর প্রধান মেজর জেনারেল এম মুনীরুজ্জামান(অব.)  জানান, ‘‘এ সব জঙ্গি সংগঠন মদদ দেয়ার জন্য প্রকাশ্য সংগঠন আছে৷ যা নানা ঘটনায় বার বার স্পষ্ট হয়েছে৷ আর আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করা ১২ হাজার বাংলাদেশি মুজাহিদ বাংলাদেশেই ফিরে আসেন৷ তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দারা শুরু থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য রাখেনি৷ ফলে তারা দেশের অভ্যন্তরে কোথায় কীভাবে সক্রিয় আছে তা আমাদের জানা নেই৷ তবে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ আফগান ফেরত জঙ্গিদেরই সৃষ্টি৷”

তিনি আরও বলেন, দেশের অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নেয় জঙ্গিরা৷ আবার কোন কোন প্রকাশ্য রাজনৈতিক দলও এই সময়ে তাদের জঙ্গি ফ্রন্টকে সক্রিয় করে, করে শক্তিশালী৷ অন্যদিকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারও বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়৷ সেনা প্রত্যাহার শেষ হলে আফগান জঙ্গিরা সক্রিয় হবে এবং এই অঞ্চলে, বিশেষ করে বাংলাদেশে তাদের যোগাযোগ বাড়াবে৷ কারণ বাংলাদেশি জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের অনেক আগে থেকেই যোগাযোগ আছে৷

পুলিশের সাবেক আইজি মো. নূরুল হুদা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে যে সামাজিক আন্দোলন দরকার ছিল তা হয়নি৷ তাদের গ্রেফতার আর শাস্তি দিয়ে জঙ্গিবাদ দমন করা যাবেনা৷ চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনতে হবে৷ দূর করতে হবে সামাজিক অসাম্য এবং বঞ্চনা৷ একে আশ্রয় করেই জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটে৷

সূত্র: ডয়েচ ভেলে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল