বাঁচতে হলে হাসতে হবে

অক্টোবর ১৭, ২০১৩

2352ড. অরূপ রতন চৌধুরী, ঢাকা জার্নাল:
বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছেন, যারা হাসতে পারেন তাদের মন যেমন ভালো থাকে, তেমনি দেহটাও থাকে সুস্থ। সর্বোপরি শরীরটা চাঙ্গা থাকে। তাই এখন বলা হয়, হাসলে শরীর ভালো থাকে, মন আনন্দে থাকে। গবেষণায় এখন প্রমাণিত, যারা জোরে জোরে হাসতে পারেন, কখনো রাগারাগি করেন না বা মুখ গোমড়া করে বসে থাকেন না, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি আয়ু নিয়ে বেঁচে থাকবেন, রোগমুক্তও থাকবেন।
বর্তমানে ডায়াবেটিসের সঙ্গে মুখের রোগের সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। মুখ বা দাঁত অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত থাকলে ডায়াবেটিস যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, তেমনি হূদরোগ, স্ট্রোক বা ক্যান্সারের ঝুঁকিও ক্রমে বাড়বে। কিন্তু যে কথাটি এত দিন গবেষণায় আসেনি, সেটা নিয়েই আজকের এ প্রসঙ্গ। সেটি হচ্ছে দাঁতের সঙ্গে হাসি আর হাসির সঙ্গে দেহের সম্পর্ক। তবে হাসির জন্য যেটা সবচেয়ে জরুরি তা হলো, সুন্দর দাঁত। এ সুন্দর দাঁতের যত্ন নিতে হলে কিছু নিয়মকানুন তো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন— ১. দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করা (সকালে নাশতার পর ও রাতে খাওয়ার পর)। ২. প্রতি বছর একবার দাঁত পরীক্ষা ও স্কেলিং করা। ৩. প্রতিদিন কিছু সবুজ-হলুদ শাকসবজি-ফলমূল আর সালাদ খাওয়া। ৪. ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা। ৫. পান-সুপারি-জর্দা-তামাক, সর্বোপরি ধূমপান বন্ধ করা।

যাদের জীবনে নুন আনতে পানতা ফুরায় তাদের মুখে হাসি দেয়াটা জরুরি শুধু নয়, আমাদের কর্তব্য। কিন্তু তা কীভাবে? অবশ্যই তাদের অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি দিতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন তাদের স্বাবলম্বী করা। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে যারা মানবতার কাজে নিজেকে উত্সর্গ করেছেন, যারা সমাজসেবী, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী তাদের সবারই এখানে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার যার অবস্থান থেকে যদি আমরা পাঁচজন বা ১০ জনকেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, তবেই তা সম্ভব। কথায় আছে ‘দশের লাঠি একের বোঝা’।
এ বোঝাটা একজন বহন করার শক্তি যেমন নেই, তেমনি বহন করার মতো অবকাশও নেই। তাই এখানে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

এ জন্য প্রয়োজন হলে একটি টিম গঠন করা যেতে পারে, যাদের নাম হবে— ‘হাসি ভরা মুখ যার, রোগবালাই নাই তার’।
যাদের কাজ হবে সবাইকে হাসানো, হাসতে শেখানো। এ প্রশিক্ষণে শিক্ষকরা এমনভাবে মানুষকে শিক্ষা দেবেন, যাতে শত দুঃখে তারা হাসিমুখে সব ম্যানেজ করে নিতে পারেন। রাগ আর অহমিকা যেন তাদের জীবন থেকে মুছে যায়। কারণ এ হাসি তাদের দেবে রোগ থেকে মুক্তি। তবে এ ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। জানতে হবে, হাসি আমাদের অনেক বেশি পরমায়ু দিতে পারে, দিতে পারে কর্মোদ্দীপনা আর সতেজ থাকার অনুভূতি। তবে যারা সংসারজীবনে বা অফিস-আদালতে হাসার পরিবেশ পান না তাদের জন্য একটি বুদ্ধি দিতে পারি, তা হলো— বাড়ি ফেরার পথে বা অফিস যাওয়ার পথে কোনো পার্কে বা খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রাণ খুলে ১৫ মিনিট যত জোরে পারুন হাসুন। তাতে অন্তত সারাদিনের ক্লান্তি দূর হবে, সেই সঙ্গে মনটা ভালো থাকবে, সর্বোপরি স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গল হবে। তবে এ হাসিতে যে জিনিসটা মুক্তো ছড়ায়, সেটি হচ্ছে দন্তরাজি। তাই দাঁতগুলো সুন্দর আর মজবুত রাখতে হবে। তাই আসুন, সবাই মিলে এখন থেকে দাঁতের যত্ন করি। দাঁতের যত্নে বাবা-মায়েরা সচেতন হলে সন্তানরা সচেতন হবে। তাই সন্তানের সামনেই মা-বাবারা দাঁত মাজবেন, সেই সঙ্গে প্রতিদিন দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ দেশীয় ফলমূল শাকসবজি খাবেন। যেমন— পেয়ারা, আমলকী, কামরাঙ্গা, আমড়া, জাম্বুরা, কমলালেবুর সঙ্গে আরও খাবেন লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক আর ছোট ছোট মাছ। মনে রাখতে হবে, শুধু চিবিয়ে খাওয়ার জন্য নয়, দাঁতের যত্ন প্রয়োজন— সুস্থ দেহে সুন্দরভাবে সুন্দর হাসি নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য।

লেখক- ড. অরূপ রতন চৌধুরী
অধ্যাপক, ডেনটিস্ট্রি বিভাগ, বারডেম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.