তুরাগের জলে বাস, ৮ লাশের খোঁজ মিলেছে

জুলাই ১৬, ২০১৩

ashulia-accident-sm20110807184314ঢাকা জার্নাল: পুলিশের ক্রেন দিয়ে উদ্ধার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভাড়া করা ক্রেন তুরাগের তলদেশ থেকে টেনে তুললো ডুবে যাওয়া মিনি বাসটি।

মঙ্গলবার সকাল দশটার কিছু আগে আশুলিয়ার ধউড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নদীতে ডুবে যায় বাসটি।

সায়েম পরিবহনের (ঢাকা-মেট্রো-জ- ১১-১৬৫০) ৩২ সিটের এই বাসটিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদের মধ্যে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে দমকল ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা। উদ্ধার করেছে ১৪/১৫ জন যাত্রীকে। আরো অন্তত জনা পনেরো নিখোঁজ আছে বলে ধারণা করছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিখোঁজদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন ডুবুরিরা।

নিহতদের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন ডুবে যাওয়া বাসটির হেলপার আবদুর রহমান বাবু (৫০) ও যাত্রী রবিউল্লাহ (২২)। নিহতদের সবাই পুরুষ এবং সবার বয়স ২২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

ঘটনার পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দমকলের ৩ সদস্যের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার তৎপরতা শুর করে। দুপুর ১২টার আগে আগে নৌবাহিনীর ১০ জনের একটি ডুবরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলের ডুবুরিদের সঙ্গে যোগ দেয়। একই সময়ে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয় পুলিশের একটি বৃহৎ ক্রেন।

কিন্তু পুলিশের ক্রেনটি ডুবে যাওয়া বাসটিকে উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ভাড়া করা একটি ক্রেন এনে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এর আগেই রেড ক্রিসেন্টের ১৫ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি আলাউদ্দিন জানান, তারা ডুব দিয়ে পানির নিচে গাড়িটির ভেতরে কোন মৃতদেহ দেখেন নি। তবে গাড়িটির তোলার পর পানিতে তল্লাশী অব্যাহত রাখা হয়েছে। বাসটি ৪০ ফুট পানির নিচে ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবদুল্লাহপুর থেকে নবীনগরগামী ৩২ সিটের বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে অনেক যাত্রী দাঁড়িয়েও ছিলো।

উত্তরার পেট্রোল ইনসপেক্টর আমিনুল হক বলেন, “৮টি লাশ আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। ধারণা করছি, বাসটিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলো।”

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‍ফারুক আহমেদ বলেন, “বাসটি ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার শফিউল্লাহ দিদার জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রাণান্ত চেষ্ট‍া চালাচ্ছে।

এদিকে আহতদের স্থানীয় ইস্টওয়েস্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মশিউর (৩২), হুমায়ুন কবির (৩৫), তারেক (৩২), জিল্লুর রহমান (৩৬), মিজান (২৭), সাইফুল (২২), আবদুস সালাম (২৪), রেজাউল করিম (৩৪), মোস্তফা আহমেদ (২৩), রাসেল (১৮), রফিক (১৯), আবদুর রউফ (৪২), জিল্লুর রহমান (৩৬), সিদ্দিকুর রহমান (৪৫), গোলাম মোস্তফা (৪৬), ফয়েজ (৩০), খোকন সিকদার (২৬), ইয়াসমিন জাহান (৫০), নুরুল আমিন (১৬) ও মাইনুল ইসলাম (৩২)।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবদুল হাই জানান, বাস দুর্ঘটনায় আহত এই ২০ জনের চিকিৎসার ব্যয় তারাই বহন করছেন। এদের মধ্যে ৯ জনের অস্ত্রপচার করা হয়েছে।

ঢাকা জার্নাল, জুলাই ১৬, ২০১৩।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.