June 27, 2017, 9:35 am | ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, সকাল ৯:৩৫

হিগস-বোসন গবেষণায় ঐতিহাসিক অগ্রগতি!

higgs-boson1ঢাকা জার্নাল: ৪ জুলাই ২০১২৷ পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই তারিখটি৷ সেদিন ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ঘোষণা দেন যে, তারা হিগস-বোসনের মতো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী একটি কণা খুঁজে পেয়েছেন৷

অনেকদিন ধরে অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে অনেক বিজ্ঞানীর প্রচেষ্টার সম্মিলিত ফল এই ঘোষণা৷ অবশ্য বিজ্ঞানীরা খুঁজছিলেন ‘হিগস’ নামের কণাকে৷ কিন্তু সেটা পাওয়া যায়নি৷ তার বদলে যেটা পাওয়া গেছে সেটার বৈশিষ্ট্য হিগসের মতোই৷ তাই অনেক খুশি বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানীমহল৷

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৩ সালে এই ধরণের কণা থাকতে পারে বলে জানিয়েছিলেন৷ তাই কণাটার নামও হয়ে গেছে তাঁর নামে৷ এই পিটার হিগসও সেদিন উপস্থিত ছিলেন জেনেভায়৷ বিজ্ঞানীদের ঘোষণায় তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি কখনো ভাবিনি যে আমার জীবদ্দশাতেই এটা আবিষ্কৃত হবে৷”

কাঙ্খিত কণাটার পুরো নাম হিগস-বোসন৷ এই বোসন শব্দটা এসেছে বাঙালি বিজ্ঞানী  সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম থেকে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় ২০ বছর অধ্যাপনা করেছেন তিনি৷ এসময় আরেক বিখ্যাত পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে মিলে পার্টিকল ফিজিক্স বা কণা পদার্থবিজ্ঞানে অনেক অবদান রাখেন তিনি৷ তাদের দুজনের নামে ‘বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিসটিকস’ নামে একটি সংখ্যাতত্ত্ব রয়েছে৷ যেসব কণা এই সংখ্যাতত্ত্ব মেনে চলে তাদেরকে ‘বোসন’ নামে ডাকা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আরশাদ মোমেন৷ হিগসও এই নিয়ম মেনে চলে বলে ধারনা করা হয়৷ তাই তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে ‘বোসন’ শব্দটি৷

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কী এই হিগস-বোসন? ড. মোমেন বলেন, ‘‘হিগস হচ্ছে একটা সাব-অ্যাটোমিক আর্টিকল বা কণা যার কাজ হচ্ছে অন্যান্য কণার জন্য ভর তৈরি করা৷”

ইউরোপের গবেষণা সংস্থা ‘সার্ন’এর বিজ্ঞানীরা নতুন এই আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত৷ সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের কাছে মাটির নীচে সার্নের ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার’ অবস্থিত৷ সেখানেই পরীক্ষাটা হয়েছে৷ এজন্য সূর্যের তাপমাত্রার চেয়েও এক লক্ষ গুন বেশি তাপমাত্রার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল৷

আমাদের এই পৃথিবীটা কীভাবে তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে সাধারণ মানুষের যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনি বিজ্ঞানীদেরও৷ এই আগ্রহ থেকেই আসলে এত প্রচেষ্টা, এত গবেষণা৷

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সত্যি সত্যি হিগস-বোসন পাওয়া গেলে মানুষের আগ্রহের হয়তো কিছুটা মেটানো যেতে পারে৷ অর্থাৎ ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বের কারণে মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে এখন যতটা জানা যায়, তার চেয়ে আরেকটু বেশি জানা যাবে৷ এমনটা মনে করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত পদার্থবিদ ও বিজ্ঞান একাডেমীর সভাপতি ড. এম. শমশের আলী’ও৷

তিনি বলেন, এর ফলে ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অদৃশ্য পদার্থ এবং ‘ডার্ক এনার্জি’ বা অন্ধকার শক্তি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে৷

হিগস কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ায় ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিটার হিগসকে নোবেল দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং৷

এদিকে, ড. শমশের আলী মনে করেন, পদার্থ বিজ্ঞানে অবদানের জন্য সত্যেন্দ্রনাথ বোসকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত ছিল৷ তিনি বলেন, যখনই হিগস-বোসন নিয়ে কথা হবে তখন হিগসের সঙ্গে সঙ্গে বসুর নামও উচ্চারিত হবে৷সূত্র: ওয়েবসাইট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল