May 27, 2017, 2:14 pm | ২৭শে মে, ২০১৭ ইং,শনিবার, দুপুর ২:১৪

উদ্বোধনের আড়াই মাস পরেও শুরু হয়নি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম

pmঢাকা জার্নাল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এর আওতায় গড়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক উদ্বোধনের আড়াই মাস পরেও শুরু করতে পারেনি ব্যাকিং কার্যক্রম।

উল্টো ৪০ হাজার সমিতিকে সমবায় অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধন করে প্রকল্প থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এতে সমিতির ২২ লাখ সুবিধাভোগীর ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৫১ লাখ৭৬ হাজার ৬৯৫ টাকা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সমিতির অভিযোগ থেকে জানা গেছে, দুই বছর আগে নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানের উদাসিনতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মিহির কান্তি মজুমদার বলেন, ৪৮৫ শাখা সমন্বয় করতে সময় লাগবে। এসব শাখায় ম্যানেজার নিয়োগ করতে হয়েছে। সাড়ে সাত হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারির আত্মিকরণ ও সমন্বয় করতে আরো সময় প্রয়োজন।

কত সময় লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাকিংসহ সূচারুভাবে ব্যাংক চালাতে অনেক সময় প্রয়োজন। বেসরকারি ব্যাংকের শাখা চালু করতে লাগে ২০ বছর, সেখানে দুই মাসে ৪৮৫ ব্যাংকের শাখার করা হয়েছে। এগুলোর জন্য সময় দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী গত ২২ জুন ব্যাংকটির ১০০টি শাখা উদ্বোধন করেন। অবশিষ্ট ৪৮৫ উপজেলায় শাখার অনমোদন দেয় ব্যাংকিং বিভাগ। ব্যাংক পরিচালনায় ৭ হাজারেও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হলেও ব্যাকিং কার্যক্রম যেতে পারেনি গত আড়াই মাসেও।

ব্যাকিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমিতির অর্থ লেনদেন করতে এখনও থানা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হচ্ছে।

বিষয়টি স্বীকার করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকের দায়িত্বে পুরো অর্থ লেনদেন করতে এখনও সময় লাগবে।

এদিকে ৪০ হাজার সমিতিকে সমবায় অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যাংকের পক্ষ থেকে। তবে এ নির্দেশনা গ্রহণ করছে না কোনো সমিতি। সমিতির সদস্যরা চান, ব্যাংকের সঙ্গে সব ধরণের লেনদেন চালু রাখতে।

তাদের দাবি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ‘সমিতি’ ‘সমবায় সমিতি’ নয়। তাই তাদের কোনো কর্তৃপক্ষের আওতায় ঠেলে দিলে তাদের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দারিদ্র বিমোচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প চালু করলেও সমবায় অধিদপ্তরে ঠেলে দিলে দারিদ্র বিমোচন হবে না। সমিতির সদস্যরা আরো দরিদ্র হয়ে যাবে।

তবে এ বিষয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মেহের কান্তি মজুমদার বলেন, এখানে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে না সদস্যদের। এটা ওভারকাম হবে। তারা  ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার। সমবায় সমিতি হিসেবে লিগ্যালাইজ করতে হলে কোনো না কোনো জায়গায় নিবন্ধন নিতে হবে। জয়েনস্টক কোম্পানি, সমাজকল্যাণ বা সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধ নিতে হবে, যোগ করেন মেহের কান্তি মজুমদার।

দরিদ্র বিমোচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে এ প্রকল্প হাতে নেন। সরকার ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন মেয়াদে ১৪৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ করে। প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। ব্যাংক গঠনের পর প্রকল্পের সমিতি ও সদস্যরা ব্যাংকের আওতায়।

বর্তমানে একটি বাড় একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাভোগী রয়েছেন এক কোটি। আর ৪০ হাজার ৫২৭টি সমিতির সদস্য রয়েছে ২২ লাখ। ব্যাংকের বর্তমান তহবিল ৩০৮৬ কোটি টাকা।বকেয়া ঋণ রয়েছে ৩২৩ কোটি টাকা ৪৮ লাখ টাকা।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল