May 25, 2017, 4:40 pm | ২৫শে মে, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, বিকাল ৪:৪০

আজ রাতেই মীর কাসেমের ফাঁসি!

ba8ঢাকা জার্নাল:কারাগারে একদিকে বিপুল সংখ্যক স্বজনের উপস্থিতি, অন্যদিকে ফাঁসির নির্বাহী আদেশ পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি নিরাপত্তার কড়াকড়ি। তাহলে কি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি আজ রাতেই? এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি কারাগার বা সরকারের দায়িত্বশীল কোনও কর্মকর্তার কাছ থেকেই। তবে এরই মধ্যে কাশিমপুর কারাগারের আশপাশের এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মানবতাবিরোধী মামলায় এর আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করার ধরনের সঙ্গেও সরকারের আজকের নেওয়া প্রস্তুতির বেশ মিল পাওয়া যাচ্ছে।

মীর কাসেম আলীর ফাঁসির নির্বাহী আদেশ শনিবার বিকাল ৪-৫০ মিনিটে কাশিমপুর কারাগারে এসে পৌঁছেছে। কারাগারের জেলার মো. নাশির আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গত বুধবারের পর আজ শনিবার আবারও কারাগারে সাক্ষাতের জন্য মীর কাসেমের পরিবার সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়। কারাগারে যখন মীর কাসেমের ফাঁসির নির্বাহী আদেশ পৌঁছায় তখনও কারাভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা পরিবারের ৪৭ জন সদস্য। যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আর কোনও আসামির ক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ের সাক্ষাতের সময়ে এত বিশাল সংখ্যক পরিবার সদস্য ও স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়নি।

শনিবার সকালে মীর কাসেম আলীর পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য খবর দেওয়ার পর থেকেই কারাগারের আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশেও নিরাপত্তা বেষ্টনী বসায় কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা পুলিশ। বিকালে আরও অতিরিক্ত ৪ প্লাটুন বিজিবি কারাগারের চারপাশে মোতায়েন করা হয়েছে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে কাশিমপুরের দুইটি কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, সরকারের আদেশ পেলে যে কোনও একটি মঞ্চে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করার ব্যাপারে তারা প্রস্তুত। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েংছে তাদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলা পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা কারাগারের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছে দুপুর পৌনে তিনটার দিকে। এর আগে দুপুর ২টার দিকে অতিরিক্ত ডিআইজি প্রিজন ইকবাল হোসেন প্রবেশ করেন।

 

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, কারাগারের বাইরে ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা এববং গত তিনদিন যাবত কারাগারের সামনে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

জেল রোডে কমপক্ষে গত পাঁচ বছর যাবত কনফেকশনারী ব্যবসা করে আসছেন মিজানুর রহমান। তিনি জানান, এর আগেও কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসি হয়েছে। কিন্তু কোনও যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হয়নি। জেলরোডের নিরাপত্তা বাড়াতে ৩১ আগস্ট শুক্রবার রাত সাতটা থেকে আমাদেরকে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে কয়েকটি দোকান ছাড়া বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জেল রোডে গাজীপুর জেলা পুলিশকে মহড়া দিতে দেখা গেছে। পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ীতে বাড়তি জনবল ও একটি জল কামান নিয়ে তারা জেল রোডে এ মহড়া দেয়।

কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে প্রস্তুত কি না এ ব্যাপারে জেল সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ থেকে যখন যেভাবে নির্দেশ আসবে সেভাবেই পালিত হবে।

প্রসঙ্গত: যে কোনও মামলার বিচার শেষে রায় কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। সে হিসেবে অতীতের অপরাপর মামলাগুলোর মতো মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেবে সরকার।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল