January 19, 2017, 12:43 pm | ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২:৪৩

মঙ্গল গ্রহের জুতা নিয়ে শোরগোল

Mongolঢাকা জার্নাল : পৃথিবীর বাইরে জনবসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে নাসার বিজ্ঞানীদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, লাল গ্রহ হিসেবে পরিচিত মঙ্গল গ্রহে। গ্রহটিতে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে অনেক আগে থেকেই গবেষণা চালাচ্ছেন নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহে কখনো পানির অস্তিত্ব ছিল কিনা সে বিষয়ে অনেক বছর ধরেই অনুসন্ধান চলছে।

মঙ্গল গ্রহে অতীতে কখনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিংবা বর্তমানে রয়েছে, এমন প্রমাণ নাসা তাদের গবেষণায় এখন পর্যন্ত না পেলেও, ইউএফও গবেষকরা এ ব্যাপারে নাসার সঙ্গে একমত নয়। কেননা বরাবরই ইউএফও গবেষকরা মঙ্গল গ্রহে ভিনগ্রহী প্রাণীদের বসবাস ছিল কিংবা এখনো রয়েছে বলে দাবী করে আসছে।

গ্রহটিতে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ করছে নাসার একাধিক রোবটযান। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ২০০৪ সালে পাঠানো অপরচুনিটি রোভার এবং ২০১২ সালে পাঠানো কিউরিসিটি রোভার। শক্তিশালী এসব রোবটযান মঙ্গল গ্রহের ভূত্বক ও পরিবেশ নিয়ে নানা অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং একের পর এক ছবি পাঠাচ্ছে।

চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, এসব রোবটযানের পাঠানো নাসা কর্তৃক প্রকাশিত মঙ্গলগ্রহের ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেই, ইউএফও গবেষকরা মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিংবা এখনো রয়েছে বলে দাবী করে আসছে।

ইতিমধ্যে মঙ্গল গ্রহে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর জীবাশ্ম, মূর্তি, কামান, চামচ, কবর, মমিসহ একের পর এক নানা কিছু দেখার দাবি করেছেন বিভিন্ন ইউএফও গবেষকরা। আর এবার এ তালিকায় নতুন যোগ হয়েছে জুতা।

Shoe
বাঁ পাশের ছবিটি নাসা কর্তৃক প্রকাশিত মূল ছবি এবং ডান পাশের ছবিটি হচ্ছে, মূল ছবিটিতে মঙ্গল গ্রহে জুতা দেখার দাবীকৃত ছবি।

সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে গ্রহটিতে জুতা দেখতে পেয়েছেন বলে দাবী করে ফের শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ইউএফও নিউজের জনপ্রিয় সাইট ‘ইউএফও সাইটিংস ডেইলি’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্কট সি। এবং এই জুতা পাওয়ার ঘটনাটিকে বলা হয়েছে মঙ্গল গ্রহে ‘একটি প্রজাতির ভয়াবহ মৃত্যু’ প্রমাণ হিসেবে। বলা হচ্ছে, পড়ে থাকা জুতা প্রমাণ করে যে, শিলা এবং ধুলার এই লালগ্রহের প্রজাতি যুদ্ধরত ছিল এবং জুতাটি শক্তিশালী প্রমাণ যে, সেই প্রজাতি মানবসাদৃশ্য ছিল।’

স্কট সি তার ব্লগ পোস্টে বলেন, ‘রোভার যানের তোলা কিছু ছবি দেখছিলাম, সেময় একটি ছবিতে দেখতে পাই আগ্নেয়গিরির মুখের কাছে পড়ে থাকা একাকী একটি জুতা। সম্ভবত এটা মঙ্গলগ্রহের একটি প্রজাতির জুতা যারা অনেক আগেই যুদ্ধের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েছে এবং এই জুতা জোড়ালো প্রমাণ যে, তারা মানবসাদৃশ্য ছিল।’

২৪ আগস্ট বুধবার, এটি তার নজরে পড়েছে বলে স্কট সি জানিয়েছেন। যে ছবিটিতে তিনি এটি দেখতে পেয়েছেন সেই মূল ছবিটি নাসার রোবটযান অপরচুনিটি রোভার তুলেছিল ২০১৩ সালে। মঙ্গল গ্রহের মাটিতে ছড়িয়ে থাকা শিলার ছবি হিসেবেই মূল ছবিটি প্রকাশ করেছিল নাসা। কিন্তু স্কট সি এই ছবি বিশ্লেষণ করে শিলার পাশাপাশি সেখানে জুতার দেখার দাবী করেছেন। যদিও অনেকের মতে, এটি আরো একটি শিলাখণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়।

তবে ইউএফও গবেষক স্কট সির দাবী এখানেই শেষ নয়, বরঞ্চ পরের দাবী আরো চমকপ্রদ। তিনি দাবী করেন, ‘মঙ্গল গ্রহে যুদ্ধে নিহত প্রজাতির কারো বাঁ পায়ের জুতা এটি। জুতার বক্রতা স্পষ্টভাবেই বাঁ পায়ের জুতা বোঝাচ্ছে।’

চমকপ্রদ বিষয়টা হচ্ছে- এবারই প্রথম না, এর আগেও মঙ্গল গ্রহে এক পাটি জুতা দেখার দাবী করেছিলেন এ গবেষক। কিউরিটি রোভারের তোলা একটি ছবি বিশ্লেষণ করে এ বছরের এপ্রিলে মঙ্গল গ্রহে এক পাটি জুতা দেখার কথা প্রথমবার জানিয়েছিলেন তিনি। আর এবার আরেক পাটি জুতাও দেখার কথা জানালেন। যা একই জনের হতে পারে বলে অভিমত এবং জুতাটি অর্ধ মিটার লম্বা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে, ইউএফও গবেষকরা মঙ্গল গ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে প্রাণের অস্তিত্ব বিষয়ে নানা কিছু দেখার দাবি করে আসলেও, তাদের একের পর এক এসব দাবীর ব্যাপারে নাসা বরাবরই নীরব। ২০৩০ সালের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মঙ্গল গ্রহে বসবাসের জন্য মানুষ পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যেই নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

ঢাকা জার্নাল, আগস্ট ২৬, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল