January 17, 2017, 9:03 pm | ১৭ই জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, রাত ৯:০৩

হাফ অ্যান আওয়ার-এর মধ্যেই জিম্মিদের হত্যা করে জঙ্গিরা -হাসনাতের স্ত্রীর বক্তব্য

Hasnatউদিসা ইসলাম ।। সপরিবারে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে হাসনাত করিমহামলাকারীরা প্রবেশের মাত্র ‘হাফ অ্যান আওয়ার’-এর (আধা ঘণ্টা) মধ্যেই জিম্মিদের হত্যা করে বলে দাবি করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের স্ত্রী শারমিন করিম।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্তমানে আটদিনের রিমান্ডে আছেন হাসনাত করিম। ১ জুলাই রেস্তোরাঁটিতে হামলার সময় সপরিবারে হাসনাত করিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

হামলার কতক্ষণের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, একঘণ্টা নাকি আরেকটু বেশি সময়ে- এ প্রশ্নের জবাবে শারমিন বলেন, ‘এক ঘণ্টা নয়, আধা ঘণ্টার মধ্যেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত হাসনাত করিম নির্দোষ প্রমাণিত হবেন এবং সে রাতে যা কিছু তিনি করেছিলেন, সেটা তার পরিবারকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে করেছিলেন।’

তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ছয় মিনিট কথা বলেন। পরে লিখিত বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে আরও কিছু পত্রিকায় সেটি পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বললে তিনি বলেন, ‘১৩ জুলাইয়ের পর হাসনাত করিমের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়নি। এখন আমি কিছুই বলতে চাই না।’

তিনি তার পাঠানো লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ এবং ওই রাতে জঙ্গি হামলায় অন্যান্য জিম্মিদের মতোই তিনি ভিকটিম ছিলেন। আমরা সে রাতে ওই রেস্তোরাঁয় উপস্থিত থাকার একমাত্র কারণ, আমার মেয়ের ১৩তম জন্মদিন উদযাপন। সন্তানেরা হাসনাতের জীবন, তিনি কখনোই আমাদের কোনও ক্ষতির মধ্যে ফেলতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমরা হাসনাতের পরিবার, এ বিষয়টি বুঝতে পেরে হামলাকারীরা সেটার সুবিধা নিতে চেয়েছিল। তারা জানতো, তিনি কখনোই আমাদের ছেড়ে যাবেন না। সে কারণেই তারা সে রাতে অনেক কিছু করতে তাকেই বেছে নেয় এবং তাকে সেদিন মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছিল।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘সারারাত আমাদের বন্দুকের সামনে রেখেছিল এবং আমার স্বামী হামলাকারীদের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাদের নির্দেশ মতো কাজ না করলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তারা তার (হাসনাতের) কাছ থেকে আইডি এবং মোবাইল ফোন নিয়ে তারপর ইন্টারনেট ব্যবহার করেছিল।’

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে হাসনাতের চাকরি যাওয়া প্রসঙ্গে শারমিন করিম বলেন, যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। ২০১৩ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বাবার ব্যবসায় সহায়তা করতে তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। এমন কী এনএসইউ তাকে ছাড়পত্রও দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের লিংক বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে পুলিশকে তাদের তদন্তে সহায়তা করেছি এবং করছি, যাতে তিনি (হাসনাত) দ্রুত মুক্ত হন। আমরা সবাই ভীষণ ক্লান্ত এবং তাকে নিয়ে চিন্তিত। তিনি ফিরে আসুক এটুকুই চাই। আমরা এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত যে, তদন্তের মাধ্যমে নিষ্কৃতি দেওয়া হবে। কারণ, তিনি নির্দোষ।’

ফোনে কথা বলছেন হাসনাত রেজাএর আগে টেলিফোনে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘আমরা একমাস চুপ করে থেকেছি। এখন উনি রিমান্ডে আছেন। এসময় আমাদের কোনও বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না।’

গণমাধ্যমে তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ছাড়াও সেদিন সেখানে আরও অনেকে জিম্মি ছিলেন। তাদের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে সত্য ভাষণ উঠে আসার কথা। গণমাধ্যম তাদের কোনও বক্তব্য কেন প্রকাশ করছে না? সে নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।’

প্রসঙ্গত, ১ জুলাই শুক্রবার রাতে হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পরের দিন সকালে হাসনাত করিম ও তার স্ত্রী সন্তান,অপর জিম্মি তাহমিদ হাসিব খানসহ আটজন বেরিয়ে আসেন।

এর আগে জঙ্গিরা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। ১ জুলাই তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া বোমা ও গুলিতে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খান ও গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার রবিউল করিম।

ওই ঘটনার পর কোরিয়ান নাগরিকের করা ভিডিও এবং ওই সময়কার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায়, হাসনাত ও তাহমিদ ভোরের দিকের কোনও একসময় এক জঙ্গির সঙ্গে রেস্তোরাঁর ছাদে ঘুরছেন। এরপরই তাদের দুজনের দিকে ঘোরে সন্দেহের তীর। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দারা নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘তারা বাড়ি ফেরেননি’।

৩ আগস্ট পুনরায় হাসনাত করিম এবং কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় আটক করা হয়। ৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালত শুনানি শেষে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Udisaলেখক- সাংবাদিক।

সৌজন্যে- বাংলাট্রিবিউন।

ঢাকা জার্নাল, আগস্ট ১০, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল