January 20, 2017, 5:30 am | ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, ভোর ৫:৩০

আইএসের টাকার উৎস কী?

ISLAMIC-STATEঢাকা জার্নাল: টয়োটার পিকআপ ট্রাক থেকে শুরু করে একে-৪৭ রাইফেলসহ সকল ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে সজ্জিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিশাল এ জঙ্গি সংগঠনটি শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই শক্তিশালী নয়, বরং টাকার দিক থেকেও এগিয়ে। সংগঠনটি তার যোদ্ধাদের প্রতিমাসে ৪০০ ডলার করে বেতন দেয়, যা ইরাকের সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের তুলনায় অনেক বেশি। এত বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কোথা থেকে আয় করেন, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলিও ডটকম।

তেল

ইরাক এবং সিরিয়া অঞ্চলে আইএসের আয়ের অন্যতম উৎস তেল। যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্মিলিত জোট আইএসের তেল রফতানি বন্ধ করতে সক্ষম হলেও কালোবাজারের মাধ্যমে তারা এখনও তেল বিক্রি করে চলছেন। তারা ছোট ছোট তেল শোধনাগারে তেল শোধন করে ট্রাকে করে বড় ডিসকাউন্টের মাধ্যমে বিক্রি করে। মূলত তুরস্কের সীমান্তে বড় ধরনের ডিসকাউন্ট দিয়ে তেল বিক্রি করেন তারা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার কারণে এ খাত থেকে তাদের আয়ের পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে। এছাড়াও এ হামলা চালানোর পর তাদের অনেক গবেষক এবং বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন এবং শহর ত্যাগ করেছেন।

প্রত্নতত্ত্ব বিক্রি

পূর্ব সিরিয়া এবং ইরাকের বেশ কয়েকটি এলাকা দখলের পর সেখানার অনেক ঐতিহাসিক জায়গা এবং জাদুঘর দখল করেছে আইএস। তারা সেখান থেকে অনেক দামি শিল্পকর্ম এবং প্রাচীন জিনিসপত্রের দখল নিয়েছে। প্যারিস ভিত্তিক সংগঠন টাস্ক ফোর্সের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রত্নতত্ত্ব সাইট দখল করেছে আইএস। এ সকল জায়গার পুরনো জিনিসপত্র তারা তুরস্ক, জর্ডান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিক্রি করেছে।

মুক্তিপন

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে আইএস মুক্তিপনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। আইএস প্রথমে পশ্চিমাদের অপহরণ করে মুক্তিপন নিলেও যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিপন দেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করার পর তারা স্থানীয়দের অপহরণ করে মুক্তিপন নেওয়া শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেই রয়েছে আইএসের সহায়তাকারী। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং দুবাই থেকে সহায়তাকারীরা ২০১৩ সাল থেকে আইএসকে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।

ইরাকি ব্যাংকগুলোয় ডাকাতি

উত্তর এবং পশ্চিম ইরাকে বেশ কয়েকটি সরকারি ব্যাংক থেকে টাকা লুট করেছে আইএস সদস্যরা। এসব ব্যাংক থেকে প্রায় অর্ধ বিলয়ান ডলার লুট করেছেন তারা।

সরকারি বাড়ি নিলামে তুলে

ইরাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং বিচারকদের বাড়ি নিলামে বিক্রি করে, ভাড়া দিয়ে তারা প্রচুর টাকা আয় করেছেন।

সালফিউরিক এসিড, সিমেন্ট এবং ফসফেট বিক্রি করে

রয়টার্সের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফসফেট বিক্রি করে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করে আইএস, সিমেন্ট এবং সালফিউরিক এসিড বিক্রি করে ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন তারা।

ট্যাক্স এবং চাঁদা তুলে

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে ট্যাক্সের কথা বলে এবং চাঁদা তুলে বছরে ৩৬০ মিলিয়নেরও বেশি টাকা আয় করেন আইএস সদস্যরা।

এছাড়াও মানবপাচার, তরুণীদের বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করেন আইএস সদস্যরা।

ঢাকা জার্নাল, জুন ১৬, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল