‘র‌্যাব মহাপরিচালক পদক প্রণয়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মার্চ ৬, ২০২৪

 

দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনায় পুলিশ পদকের পাশাপাশি ‘র‌্যাব মহাপরিচালক পদক’ও প্রবর্তন করবে সরকার। বুধবার (৬ মার্চ) সকালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) ফোর্সেস-এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যাব সদর দফতর কুর্মিটোলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব মহাপরিচালক পদক প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আরও উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হবে। র‌্যাবের কাজের আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়বে বলেই আমি মনে করি।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই র‌্যাবসহ প্রতিটি সংস্থা ও বাহিনীকেই তার সরকার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম দিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের যা যা প্রয়োজন আমরা করেছি এবং র‌্যাবকে ইতোমধ্যে ১৫টি ব্যাটালিয়ন সমৃদ্ধ চৌকস ত্রিমাত্রিক সংস্থা হিসেবেই আমরা গড়ে তুলেছি। কারণ, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি এবং দেশের মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা এনে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

র‌্যাবের অভিযান পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্বারোপ করে তিনি এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিনিয়ত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে সকলের অভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। দ্রুত যেকোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে। এই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা সবসময় সরকার করে যাবে।’ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে আশকোনা হজ ক্যাম্পের পাশে র‌্যাবের নতুন সদরদফতর প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা আবারও তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার মাধ্যমে টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার সুযোগ সৃষ্টিতে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের পর সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় র‌্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

দেশের সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত করে তাদের পুনর্বাসনসহ, চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব সদস্যদের সাহসী ও কার্যকর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগও আছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমরা দেখি আমাদের বিরোধী দল নামের সংগঠনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।‘ এ সময় তিনি গত ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালের পাশাপাশি গত ২৮ অক্টোবরের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, পিটিয়ে পুলিশ হত্যা, অ্যাম্বুলেন্সে হামলা, রেলকে লাইনচ্যুত করা, রেলে ও বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা ও জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব ঘটনাকে মোকাবিলা করা এবং এর আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আমি দেখেছি র‌্যাব সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। না হলে দেশে একটি অঘটন ঘটানোর পর এর দায়ভার অন্যের ওপর চাপানোর একটা প্রবণতা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দেন, তিনি যখন বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন, তখন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকেই হত্যার প্রচেষ্টায় আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতা-কর্মী নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন— আমি নিজে (শেখ হাসিনা) ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে নিজেই নাকি মেরেছি। মানে আমি মনে হয় আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। এভাবে ২৮ অক্টোবরের ঘটনা এবং জ্বালাও পোড়াওয়ের দায়ও অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে এবং সিসিটিভির ফুটেজ থেকে সত্যিকার তথ্যগুলো বেরিয়ে আসে। ফলে অপরাধীরা চিহ্নিত হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা সহজ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী গত নির্বাচনের আগের কোনও একটা সময়ে একটি বড় দেশের র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অনেকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সেখানে আমার প্রশ্ন ছিল যারা আমাদের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, জলদস্যু, বনদস্যুদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা বা মানুষের অধিকার সংরক্ষণে যারা কাজ করেছে তাদের ওপর কীভাবে নিষেধাজ্ঞা আসে? তাদের অপরাধটা কী? আর কেউ যদি অপরাধ করে তাহলে তো সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সে যেই সংস্থার লোকই হোক, তাকে আমরা আইনের আওতায় এনে তার বিচার করি এবং করছি। ভবিষ্যতেও বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যার যার কর্তব্য পালন যথাযথভাবে করছে কি-না সেটা দেখা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশের সংস্থা তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য যখন কোন অপরাধী শনাক্ত করবে বা ধরবে বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেক্ষেত্রে আর একটি দেশ এসে নিষেধাজ্ঞা দেবে, এটা আমাদের কাছে কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। রক্ত দিয়ে আমরা স্বাধীনতা এনেছি। সেভেনথ ফ্লিট পাঠিয়েও এই স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যেটা আমেরিকার জনগণ করতে দেয়নি। আদালতেও তারা বাধা দিয়েছিল।’

তিনি এক্ষেত্রে মন খারাপ না করে সবাইকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অন্যের অধিকার রক্ষা করার যে দায়িত্ব সেটা যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ নানা অপকর্ম থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে এবং অপরাধ থেকে দূরে থাকার জন্য সামাজিক প্রেরণা দিতে হবে। যে ক্ষেত্রে র‌্যাব যথাযথ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার— এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দিতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এই বাহিনীর সদস্যরা আরও দায়িত্বশীল কার্যক্রম ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে- সেটাই আমরা আশা করি।’ প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।