যে কারণে বাদ সাইফউদ্দিন

মে ১৪, ২০২৪

বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুয়ায়ী ১ মে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড আইসিসিকে পাঠিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২৫ মে পর্যন্ত কোন কারণ ছাড়াই দল ঘোষণার সুযোগ থাকায় এতদিন আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই দল ঘোষণা করেনি বিসিবি। তবে মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জানিয়ে দিয়েছে, কোন ১৫জন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলতে যাচ্ছেন।

আইসিসির কাছে শুরুতে পাঠানো দল থেকে একটি-ই পরিবর্তন এসেছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা পূরণ করতে না পারায় শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব। এই পরিবর্তন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সিরিজের শেষ ম্যাচ বাদে সাইফউদ্দিনের একেবারে খারাপ পারফরম্যান্স ছিল না। তবে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের যে প্রত্যাশা ছিল, সেটি পূরণ হয়নি বলে তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

দল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু (মাঝে), বামে আব্দুর রাজ্জাক ও ডানে হান্নান সরকার।
দল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু (মাঝে), বামে আব্দুর রাজ্জাক ও ডানে হান্নান সরকার।
মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মলেনে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে সাইফউদ্দিনের বাদ পড়া আর তানজিমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। এক প্রশ্নের উত্তরে লিপু বলেছেন, ‘জায়গা পেতে এখানে সবাই খুব ক্লোজ লড়াই করেছে। যে দলটা দিয়েছিলাম ৩০ তারিখে সেটা এক প্রেক্ষাপটে দিয়েছিলাম। সেখানে দুটো চিন্তা ছিল যে বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়েই দল করা। আর একটা চিন্তা ছিল ইনজুরি থেকে ফেরা ক্রিকেটাররা যেমন সাইফউদ্দিন কেমন করে তা দেখা। তো আমাদের যে আস্থার জায়গাটা, সেখানে সাইফউদ্দিনের চেয়ে তানজিম একটু এগিয়ে ছিল। সেজন্য ওকে আমরা দলে রেখেছি।’

বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজরে আসেন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা সাইফউদ্দিন। ১৮ মাস পর জিম্বাবুয়ের সিরিজের স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছিলেন। বিপিএলে ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেন ৬৩ রান। ফরচুন বরিশালকে চ্যাম্পিয়ন করতেও বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাইফউদ্দিন খেলেছেন চারটি ম্যাচ। চট্টগ্রামে প্রথম তিনটি আর ঢাকায় একটি। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত, ১৫ রানে নেন ৩ উইকেট। পরের তিন ম্যাচে সাইফউদ্দিনের পারফরম্যান্স ছিল যথাক্রমে ১ উইকেটে ৩৭, ৩ উইকেটে ৪২ ও ১ উইকেটে ৫৫ রান!

শেষ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাত খুলে রান দেয়াটাই তাকে বিশ্বকাপের দল থেকে ছিটকে দিয়েছে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশও হারে শেষ পর্যন্ত। অন্যদিকে তানজিম হাসান সাকিব দুই ম্যাচ খেলেছেন। চট্টগ্রামে ১ ম্যাচে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট, ঢাকায় চতুর্থ ম্যাচে ৪২ রান দিয়ে অবশ্য কোনও উইকেট পাননি।

বোলিংয়ে জুনিয়র সাকিবের থেকে ভালো পারফর্ম করেও কেন বাদ সাইফউদ্দিন? এমন প্রশ্নে লিপুর ব্যাখ্যা, ‘সাকিবকে (তানজিম) শ্রীলঙ্কা সিরিজেও আমরা দেখেছি। তার একাগ্রতা, মাঠে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা; সেটা সাইফউদ্দিনের চেয়ে তাকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।’

লিপু আরও বলেছেন, ‘আমরা যে কারণে সাইফউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ডেথ ওভারে ইয়র্কার করা, সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে যেমন ছিল তার চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটু ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। তাই আমরা একটু ভিন্ন চিন্তা করেছি। ৩০ তারিখে যে দলটা দিয়েছিলাম সেখান থেকে একমাত্র এই জায়গাটাতেই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের বিবেচনায় আসলে সাইফউদ্দিন ও সাকিবের সঙ্গেই লড়াই চলছিল।’