ইমামরা হলেন সমাজের চেঞ্জ এজেন্টঃ ধর্মমন্ত্রী

জুন ৫, ২০২৪

ঢাকা জার্নাল ডেস্ক:

ধর্মমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান বলেছেন,ইমামরা হলেন সমাজের চেঞ্জ এজেন্ট। মানুষকে সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়া এবং খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ইমামরা অনুঘটক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

বুধবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় ইমাম সম্মেলন ২০২৪ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধর্মমন্ত্রী একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন,একজন ইমাম যদি প্রকৃত অর্থেই ইমাম হয়ে উঠতে পারেন তাহলে তিনি সমাজকে বদলে ফেলতে পারেন। সমাজের সকল অসঙ্গতি, অনাচার,পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মানুষকে সত্য-সুন্দরের পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। একটি সমাজকে আদর্শ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণে বিশেষ অবদান রাখতে পারেন। একটি সমাজের সকল ইতিবাচক পরিবর্তনে ইমামরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

ইমামদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন,ইমামতি খুবই সম্মানজনক ও মহান একটি দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ইমামতি করেছেন। তারপর তাঁর সাহাবি ও খোলাফায়ে রাশেদিনগণও এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামি সমাজে ইমামদেরকে অত্যন্ত সম্মান করা হয়। দ্বীনি বিষয় ছাড়াও সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন নানা বিষয় নিয়ে ইমামদের শরনাপন্ন হয়ে থাকেন। মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে ইমামদের চেয়ে বেশি সুযোগ অন্য কোন শ্রেণির মানুষের নেই।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে সরকারের নানা প্রদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইমাম ও আলেম-ওলামা সমাজকে সম্মানজনক জায়গায় অধিষ্ঠিত করতে চান। সমাজের সব শ্রেণির মানুষ যেন তাদের সম্মান করে,শ্রদ্ধার চোখে দেখেন সেই জায়গায় ইমামদেরকে সরকার আসীন করতে চান। ইমামদের সম্মানজনক জীবিকার সংস্থান করতে চান। একারণেই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে তিনি ২০০১ সালে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন। এই ট্রাস্ট হতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সুদবিহীন ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মহাঃ বশিরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ,ধর্মসচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দার,ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য শায়েখ আল্লামা খন্দকার গোলাম মাওলা নকশাবন্দী ও সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রশিদ।

মন্ত্রী জেলা,বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ইমাম ও শ্রেষ্ঠ খামার প্রতিষ্ঠাকারী ২৬৫ জন ইমামের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।