June 23, 2017, 7:54 pm | ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৫৪

মাহমুদুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের দাবিকে ‘যৌক্তিক’ উল্লেখ করে আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টির অভিযোগে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার স্মারকলিপি দেয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এই আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উস্কানি দেয়ার জন্য মাহমুদুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৮৪ সালের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন এবং ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনে মাহমুদুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

“মাহমুদুর রহমান ও তার সক্রিয় সদস্যরা যে দপ্তরে রয়েছে, যেখানে গোপনে বা প্রকাশ্য তাদের অপপ্রয়াসের ভিত্তিতে কার্য পরিচালনা করেন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে এখনই পদক্ষেপ নেয়া হবে”, বলেন মন্ত্রী।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, শাহবাগের আন্দোলনকারীরা যে দাবি করেছে তা ‘যৌক্তিক’। যে কারণগুলো তারা স্মারকলিপিতে দেখিয়েছে, তা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার ‘অনুকূলে’।

“আমার মনে করি, যার বিরুদ্ধে এ দাবিনামা উপস্থাপিত হয়েছে তিনি তার ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ উদ্ধারে ধর্মীয় অনুভূতিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে  প্রজন্মের আন্দোলনকে ভিন্নতর অর্থ দেয়ার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন”, বলেন মন্ত্রী।

কেবল মাহমুদুর রহমান নয়, তার সহযোগীদের বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সরকারের তরফ থেকে ‘ইতিবাচক উদ্যোগ’ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি দেয়ার সময় গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের ইমরান এইচ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, “মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তারের জন্য আমরা আর কোনো সময়সীমা দেইনি।”

 

মাহমুদুর রহমানকে ‘নব্য রাজাকার’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “৫ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন শুরু করার পর আমার দেশ পত্রিকাসহ কিছু গণমাধ্যম আমাদের নামে নানা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ছড়িয়ে আসছে। হয়রত মোহাম্মদকে (স.) কটাক্ষ করে বিভিন্ন বক্তব্য তাদের পত্রিকার প্রচার করে গণজাগরণ মঞ্চকে জাতির কাছে ভিভ্রান্তিমূলকভাবে উপস্থাপনের অপচেস্টা চালিয়েছে।  মাহমুদুর রহমান কলাম লিখে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উস্কে দেয়ার অপচেস্টা চালিয়েছেন।

 

“এর প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন। গত শুক্রবার তারা চক্রান্ত করে রাজপথে মুসল্লিদের নামিয়ে, নামাজ বয়কট করে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের সন্ত্রসীদের লেলিয়ে দিয়ে একটি ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানোর অপচেস্টা চালিয়েছে।”

সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার জন্যই এ অপচেস্টা চালানো হয় বলে মন্তব্য করেন ইমরান।

ইমরান যখন স্বারষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলনকারী মাহমুদুল হক মুন্সি, মারুফ রসুল, দেলোয়ার হোসেন রনি এবং অমিত মিথুন ত্রিপুরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিতে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সচিবালয়ের দিকে এগোতে থাকে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা।

পদযাত্রায় উপস্থিত সবার মুখে মাহমুদুরকে গ্রেপ্তারের দাবির সঙ্গে ছিল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে স্লোগান।

এ সময়  ‘রাজাকারের আস্তানা/ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জামায়াতে ইসলাম/মেড ইন পাকিস্তান’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মিছিলটি মৎস্যভবনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব আমিনুর রহমান এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য একটি প্রতিনিধি দলকে তার সঙ্গে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এরপর ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল আমিনুর রহমানের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। তারা মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর মৎস্যভবন থেকে বাকিরা আবার মিছিল করে শাহবাগে ফিরে যায়।

জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে তার ফাঁসির দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগের এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

এর একাদশ দিনে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে খুন হন এই আন্দোলনের কর্মী ও স্থপতি রাজীব। নিজের বাসার সামনে এই ব্লগারকে জবাই করে হত্যা করা হয়।

রাজীব নিয়মিতভাবে ব্লগে লিখতেন ‘থাবা বাবা’ নামে। লেখনীর মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের স্বরূপ উন্মোচনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

রাজীব খুন হওয়ার পর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচারণা চালানো হয়, তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে লিখতেন। ২২ ফেব্রুয়ারি আমার দেশের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়- ‘ধর্ম ও আদালতের অবমাননা করছে ব্লগারচক্র’।

আর সেদিন জুমার নামাজের পর কয়েকটি ইসলামী দলের ব্যানারে শাহবাগের জানগরণমঞ্চবিরোধী মিছিল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। চট্টগ্রাম ও সিলেটে জাগরণমঞ্চে ভাংচুর চালায় মিছিলকারীরা। হামলা থেকে বাদ যায়নি সিলেট ও ফেনীর শহীদ মিনারও।

এর পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত নিষিদ্ধের সঙ্গে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন শাহবাগের আন্দোলনকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল