June 29, 2017, 4:41 am | ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ৪:৪১

গণজাগরণ মঞ্চ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধের আল্টিমেটাম

২৬ মার্চের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু ও খুনীদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে টানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ShahbagNight-Harun-03sm20130221061728

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলনের ১৭তম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাখো জনতার উপস্থিতিতে গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা, গণস্বাক্ষর ও প্রতিবাদী সমাবেশ। আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালিত হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি রায়ের আগের দিন জমায়েত হবে তরুণ প্রজন্ম। শাহবাগে চলবে সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কাদের কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর ফাঁসির দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনের ১৭তম দিনে বিকালে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শেষে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, “এই গণজাগরণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের প্রাণের ঠিকানা।”

তিনি বলেন, ৪২ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির চক্রের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের মনে পুঞ্জিভূত ঘৃণা আজ গণজাগরণ মঞ্চের স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

দাবি-আল্টিমেটাম

আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সংশোধিত আইনের অধীনে অভিযোগ গঠন ও নিষিদ্ধকরণের প্রক্রিয়া শুরু এবং ব্লগার রাজীব, বাহাদুর মিয়া, কিশোর রাসেল ও জাফর মুন্সিসহ অন্যদের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আগামী সাত দিনের মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম জানান ইমরান।

এছাড়াও অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলোর আর্থিক উৎস চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে স্বাধীন কমিশন গঠন, গণমানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও তাণ্ডব বন্ধে অবিলম্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার এবং গোপন আস্তানা উৎখাত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাদের ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষক এবং হত্যা ও সাম্প্রদায়িকতার উস্কানীদাতা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি।

এইসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।

শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে দোয়া ও প্রার্থনা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির চক্রের হাতে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বাদ জুমা দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এদিন একই সঙ্গে মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মবলম্বীদের নিজ নিজ উপসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীতে ৬ সমাবেশ

২৩ ফেব্রুয়ারি রায়েরবাজার বধ্যভূমি, ২৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, ২৭ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল শাপলা চত্বর, ৩ মার্চ বিকাল বাহাদুর শাহ পার্ক, ৫ মার্চ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাবেশ ও প্রতিবাদী গান অনুষ্ঠিত হবে। তারিখ অনুযায়ী প্রতিটি সমাবেশ বিকাল ৩টা থেকে শুরু হবে।

গণস্বাক্ষর

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশ ও দেশের বাইরে ৬ দফা দাবির প্রতি একাত্মতা জানাতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রত্যেকে যে যার অবস্থানে থেকে পরিবার, প্রতিবেশী, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অনলাইনেও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

বিভাগীয় শহরে সংহতি সমাবেশ

প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আগামী ১ মার্চ থেকে ২০ পর্যন্ত গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিভাগীয় সমাবেশগুলোর তারিখ পরবর্তীতে ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় গণজাগরণ মঞ্চ।

সকল গণজাগরণ মঞ্চে প্রতিবাদী গান

১মার্চ বিকাল ৩টায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চসহ দেশের সকল গণজাগরণ মঞ্চে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করা হবে।

 প্রতি শুক্রবার প্রতিবাদী সমাবেশ

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরসহ সকল গণজাগরণ মঞ্চে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

 রায়ের আগের দিন গণজাগরণ মঞ্চে জমায়েত

জামায়াত-শিবিরের তান্ডব প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি রায় ঘোষণার আগের দিন বিকাল ৩টা থেকে প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান বলেন, “গত ১৭ দিন ধরে লাগাতার অবস্থানের মাধ্যমে আমরা ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছি। গণমানুষের এই আন্দোলন বৃথা যায়নি। এর মধ্যে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। আগামী দিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা বিজয়ের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবো।”

দীর্ঘ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিটি ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, প্রগতিশীল ব্যক্তি-সংগঠনকে অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইমরান।

এসময় তিনি আরও বলেন, “আপনি, আমি, আমরা সবাই মিলে আগামী দিনে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো।”

তিনি সমাবেশ থেকে উন্থাপিত দাবি আদায়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৩।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল