June 23, 2017, 2:27 am | ২২শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, রাত ২:২৭

হরলিকসই মানেই প্রতারণা

ঢাকা জার্নাল : হরলিকস যেভাবে বানানো হয় : হরলিকসের বোতলের গায়ে লাগানো লেভেলের ভাষা অনুযায়ী এর উপাদানগুলো হচ্ছে মল্টেড বার্লি,গমের দানা,শুকনো skimmed দুধ,ঘোল,চিনি আর ভেজিটেবল ফ্যাট। বার্লিতে গুটেন কম থাকে।তাই বার্লি থেকে রূটি,কিংবা পাউরূটি ও বানানো যায় না। পশু খাদ্য হিসেবেই বার্লি ব্যাপক ব্যবহৃত হয়। এই বার্লিকে গ্যাজিয়ে শুকানো হয়। ঐ শুকনো বার্লির দানাকে গুঁড়ো করে ছেকে নেওয়া হয়। তার সাথে মেশানো হয় ভেজিটেবল ফ্যাট,দুধ,চিনি আর খনিজ লবণ। এই মিশ্রণকে শুকিয়ে নিলেই পাওয়া গেল হরলিকস।

আমাদের প্রতিদিন কতটুকু শক্তির প্রয়োজন?

ক্যালরির মাপে আমাদের প্রতিদিনের শক্তির চাহিদাটা এরকম : মাঝারি খাটাখাটনির পুরুষ ২৭০০/২৮০০ কিলোক্যালরি,একই ধরনের মহিলা ২২০০ কিলোক্যালরি,কিশোর-২৪০০/২৫০০ কিলোক্যালরি,আর ৪-৫ বছরের বাচ্চা-১৫০০ কিলোক্যালরি। আপনার ঠিক কতটুকু শক্তির দরকার সেটা আপনি নিজেই মেপে নিতে পারেন(http://mpgnarratives…ries-do-we-need -এই ওয়েবসাইটে বিস্তারিত বলা আছে)

হরলিকস : আপনার সন্তানকে করবে Stronger*

(* মার্ক আছে কিন্তু !!!!)

হরলিকসের লেভেলের ভাষ্য অনুসারে প্রতি ১০০ গ্রামে শক্তি রয়েছে ৩৯১ কিলোক্যালরি । তাহলে ৪৫০ গ্রামের পুরো হরলিকস বোতলটা শক্তি যোগাতে পারে ১৭৬০ কিলোক্যালরি। তারমানে খোদ হরলিকসের লেভেলের ভাষ্য অনুসারে পুরো হরলিকস বোতলটা কেবলমাত্র ৬-৭ বছরের একটা বাচ্চার একদিনের শক্তি যোগাতে পারে এবং এর জন্য তাকে খরচ করতে হচ্ছে ৩১৫ টাকা !!!! যেখানে কিনা ঢাকা শহরে একজন মধ্যবিত্ত মানুষ সারাদিনে খরচ করতে পারে ১৫০ টাকা। শক্তির উৎস হিসেবে হরলিকস কেমন সেটা এখন আপনিই যাচাই করে নিন।

 

এই ছবিটাতে বোর্নভিটা,হরলিকস,কমপ্ল্যান আর ওভাল্টিনের মাঝে তুলনা দেওয়া আছে,ছবিটা http://www.gnaana.co…f-4-milk-mixes/ -এই ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

 

600720_480123395335937_1103132340_n.jpg

 

প্রোটিন : বেড়ে ওঠার শক্তি

আমাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য প্রোটিন কতটা জরূরি সেটা নিয়ে লেকচার দিব না, শিরোনামটাই সবকিছু বলে দিচ্ছে,তবু কারো এ সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলে এই লিংকটা দেখবেন ( http://en.wikipedia….tein_(nutrient))

 

প্রোটিন : প্রতিদিন কতটুকু?

আমাদের সবারই প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন প্রযোজন। হিসেবে এরকম : আমাদের শরীরের ওজনের প্রতি কেজি তে ১.০-১.২ গ্রাম প্রোটিন দরকার । এর বেশি প্রোটিন আমাদের শরীরের বৃদ্ধিতে কাজে আসে না (সম্ভবত সেটা ফ্যাটে/ সরল গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে যায়)। যেমন আমার ওজন (আসলে ভর) ৬১ কেজি, সুতরাং আমার প্রতিদিন ৬১-৭২ গ্রাম ডিম/মাছ/মাংস খেতে হবে। তবে যারা ব্যায়াম করেন তাদের অবশ্যই এই পরিমাণ টুকু ১০-১৫ শতাংশ বাড়াতে হবে।

 

হরলিকস : কতটুকু প্রোটিন যোগাচ্ছে?

হরলিকসের লেভেলের ভাষ্য অনুসারে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিন রয়েছে ১১ গ্রাম। তাহলে ৪৫০ গ্রামের পুরো হরলিকস বোতলটা প্রোটিন যোগাতে পারে ৪৯ গ্রাম । তারমানে খোদ হরলিকসের লেভেলের ভাষ্য অনুসারে ১২-১৩ বছরের একটি কিশোরের একদিনের প্রোটিনের চাহিদাটুকু ৩১৫ টাকার পুরো হরলিকস বোতলটা পূরণ করতে পারছে না । এখন আপনিই বুঝে নিন এই বোতলটা কি বেড়ে ওঠার ডোজ নাকি প্রতারণার ডোজ?

 

বিজ্ঞাপন : শুধুই প্রতারণা

নিউমার্কেট মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। বুয়েটে ফিরব। হরলিকসের বিশাল বিলবোর্ডটা চোখে পড়লঃ “৬ টা লেবুর সমান ভিটামিন-সি”

এক মগ হরলিকসে (২৭ গ্রাম) ভিটামিন সি থাকে ৩৬মিগ্রা (এবং খরচ হচ্ছে ২০ টাকার মতো),যেখানে কিনা একটা লেবুতে ভিটামিন সি থাকে ৪৪ মিগ্রা (খরচ হচ্ছে বড়জোর ৫ টাকা) ! ! !(তথ্যসূত্র:http://www.healthalt…tion-chart.html, কোন ফলে কি পুষ্টিগুণ আছে তা এই লিংকে পাবেন)।

নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছেন ৬ টা লেবু তো দূরের কথা,একটা লেবুর সমান ভিটামিন-সি ও যোগাতে পারছে না এক মগ “প্রতারণার ডোজ”(হরলিকস)!! কি বলবেন এ প্রতারণাকে?

 

হরলিকসের আর একটা বিজ্ঞাপন টিভিতে খুব প্রচার হয়: মোটাসোটা মডেল ফিমার ছেলে হরলিকস খেয়ে খুব ব্রিলিয়্যান্ট হয়ে গেছে আর তা দেখে অন্য  মায়েদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে,”ভাবি…ও কি একট্রা কোথাও টিউশন নিচ্ছে…”

বিজ্ঞাপন দেখার পর মোটাসোটা মডেল ফিমার প্রতি শুধু একটা কথাই মনে আসে …”হরলিকস খেয়ে তোমার ছেলে এত ব্রিলিয়্যান্ট হয়ে গেল,তো তুমি হরলিকস লাইট খেয়ে মেদ  ঝড়াতে পারছ না কেন?”

 

আমাদের চেনা পরিচিত খাবারগুলো…সেগুলোই বা কেমন?

আমাদের চেনা পরিচিত খাবারগুলো…মানে ভাত,ডাল…সেগুলোই বা কেমন?হরলিকস কি আমাদের সে পরিচিত খাবার গুলোর চেয়ে বেশি শক্তি/পুষ্টি দিতে পারে???

এতক্ষণে এ প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা হয়ে যাবার কথা…এতক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন হরলিকসের ঐ বিজ্ঞাপন আর বড় বড় বিলবোর্ডগুলো ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই ফাকে আমাদের চেনাপরিচিত খাবারগুলোর গুলোর গুণাগুণ গুলো জেনে নেওয়া যাক:

  • হরলিকসের পুরো একট বোতল আপনাকে যে পরিমাণ শক্তির যোগান দেয়,সমান দামের সাদা ভাত আপনাকে ৫০ গুণ বেশি শক্তি যোগাবে !!!! (তথ্যসূত্র: http://en.wikipedia….wiki/White_rice ) (এই হিসেবটাতে ৪৫ টাকা কেজি চাল ধরেছি)
  • আধা লিটার দুধ ১০০ গ্রাম হরলিকসের সমান শক্তি যোগায়(যেখানে দাম পড়বে অর্ধেকেরও কম)…আর দুধে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তো আছেই
  • ১০০ গ্রাম হরলিকস ৩৯১ কিলোক্যালরি শক্তির যোগান দেয়,অন্যদিকে ১০০ গ্রাম বাদাম ৬১১ কিলোক্যালরি যোগান দিতে পারে এবং দাম পড়বে মাত্র সাড়ে তিনভাগের একভাগ !!!!  শুধু তাই নয়,১০০ গ্রাম বাদাম সমপরিমাণ হরলিকসের চেয়ে দ্বিগুণ প্রোটিন যোগায় !! (তথ্যসূত্র:http://www.weightlos…/nuts_seeds.htm )
  • একইভাবে ১০০ গ্রাম হরলিকস ৩৯১ কিলোক্যালরি শক্তির যোগান দেয়,অন্যদিকে ১০০ গ্রাম ছোলা  প্রায় ৪০০ কিলোক্যালরি যোগান দিতে পারে এবং দাম পড়বে মাত্র চারভাগের একভাগ !!!!
  • বর্তমান বাজারদরে ১০০ গ্রাম হরলিকস কেনার টাকাতে ২ কেজি আটা কিনতে পারবেন,আর তাতে শক্তি ও প্রোটিন দুটোই পাবেন ২০ গুণ বেশি !!

আমাদের চেনা পরিচিত খাবার গুলো কিন্তু পুষ্টিতে যথেষ্ট শক্তিশালী…এই চেনা পরিচিত খাবারগুলোর বিকল্প/সম্পূরক খাবার হবার যোগ্যতা কখনোই হরলিকসের নেই।

 

মামনি-বাবাদের উদ্দেশ্যে শুধু একটা কথাই বলব,আপনার পিচ্চিটার কাঁধে সারাদিন ভারি ব্যাগ আর “প্রতারণার ডোজে’-র বোতল চাপিয়ে না দিয়ে তাকে বিকেলে আধঘন্টার জন্য হলেও ফুটবল খেলতে মাঠে পাঠান।সবার সাথে মিশতে পারলে লিড দিতে পারার গুণ চলে আসবে। খেলা শেষে বিশ্রাম নেবার পর তাকে একটি পূর্ণসেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খেতে দিন।শরীরের পেশি গুলো প্রোটিন গ্রহণ করলে তার শারীরিক বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা করা লাগবে না।আর গল্পের বই পড়লে তার মানষিক বৃদ্দি নিয়েও ভাবা লাগবে না।তাকে ভাতের সাথে লেবুর রস খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন।তাহলে আর দাঁতের ডাক্তারের কাঁচির নিচে পড়তে হবে না(অনেকে ভাবতে পারেন,আমি ডাক্তার দের ভাত মারার টিপস দিচ্ছি,কিন্তু আমি মনে প্রাণে বিস্বাস করি একজন ডাক্তার ও এমনটাই চান তার চেম্বারে কেউ অসুস্থ থকবে না),আর ভিটামিন সি কিন্ত আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়!!!

 

গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন: একচেটিয়া ধান্দাবাজি

বাংলাদেশে  যে কয়টা “বোতলবন্দি” শক্তি ও পুষ্টিপণ্য পাওয়া যায় সেগুলো হল-হরলিকস,বুষ্ট,মালটোভা,ভিভা আর কমপ্ল্যান।আপনার মনে হতে পারে এরা একটা আরেকটার বিকল্প/প্রতিদ্বন্ধি পণ্য।কিন্তু মজার ব্যাপার হলো কমপ্ল্যান ছাড়া বাকি ৪টি একই কোম্পানির(গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন) প্রস্তুতকৃত পণ্য!!!!

বুঝতেই পারছেন “এই প্রতারণার ডোজ ” নিয়ে একচেটিয়া মার্কেট(আসলে ধান্দাবাজি) দখল করে রেখেছে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন। শুধু হরলিকসই বাজারের ৭৪% দখল করে রেখেছে!!! আর তাইতো মাঝে মধ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিমভাবে চাহিদা বাড়িয়ে নেয়  গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন। এক-দুই সপ্তাহ পর আবার সাপ্লাই দেয়া শুরু করলেও তা করা হয় দাম ২০/২৫ টাকা বাড়িয়ে।

 

তাহলে কিভাবে  গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের একচেটিয়া ধান্ধাবাজি বন্ধ করা যায়?

এতক্ষণে তো বুঝেই গেছেন হরলিকসের পিছনে এত টাকা খরচ করে শুধু প্রতারণারই শিকার হচ্ছেন। এবার না হয় একটু সচেতন উঠুন। সবাই মিলে হরলিকস কেনা বন্ধ করলে  গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন দাম বাড়ানোর সুযোগ  পাবে তো না-ই, দেখবেন  ক্ষতি কমানোর জন্য তরতর করে দাম কমাচ্ছে।

 অল্প কিছু ডাক্তারের উদ্দেশ্য

হরলিকসের বিজ্ঞাপনে মাঝে মাঝে ডাক্তারের উপস্থিত দেখা যায়… কখনো বা ব্যাপারটা এমন ডাক্তার নিযে হরলিকস খাচ্ছেন আর হরদম পরামর্শ দিচ্ছেন অন্যদের হরলিকস খেতে!!!!

ঐ ডাক্তারদের উদ্দেশ্য বলতে চাই,আপনারা কি ডাক্তার হয়ে টের পান  না হরলিকসের এ প্রতারণা? নাকি টাকার বিনিময়ে এ ধরনের প্রতারণাময় বিজ্ঞাপনে উপস্থিত হতে আপনাদের বিবেকে বাঁধে না?এদেশে সবচেয়ে সম্মাজনক পেশাগুলোর মাঝে “চিকিৎসক” একটি। এদেশের অন্যান্য পেশার তুলনায়  এ পেশাতে আয় তো কম নয়।তবু কি সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপনে প্রতারণামূলক কথা বলতে হবে? হরলিকস যে আপনাদের ব্যবহার করে এদেশের সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে সেটা আপনারা কি টের পান না?

পুষ্টিশিক্ষা এবং আমাদের দেশের পাঠ্যপুস্তক

“ভাত,আলু শর্করা জাতীয় খাদ্য; মাছ,মাংস,ডিম আমিষ জাতীয় খাদ্য…” এগুলো আমাদের দেশের স্কুলের পাঠ্যবইগুলোতে লেখা আছে। কিন্তু একটি বইয়েও লেখা নেই আমাদের ঠিক কতটুকু শক্তি দরকার,ঠিক কতটুকু প্রোটিন দরকার,কিংবা কোন খাবারে কি পরিমাণ পুষ্টিগুণ আছে।

 

 

আমাদের দেশের বইগুলোতে পুষ্টিশিক্ষা নিয়ে কি কয়েকটা পাতা যোগ করা যায় না যাতে করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো  এদেশের মা-বাবাদের অজ্ঞানতার ফাঁদে ফেলে প্রতারিত করতে না পারে?

 

স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা: হয়ে ওঠো গবেষক

 

স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা,চাইলে তোমরাও হয়ে উঠতে পার গবেষক!!!

তোমরা যারা এই লেখা পড়ছ,তোমাদের তো ইন্টারনেট কানেকশন আছে। আর এখন তো তোমাদের অনেকের কাছেই আছে ডিজিটাল ক্যামেরা। তোমার মেইল  অ্যাড্রেস ব্যবহার করে  ইউটিউবে একটা অ্যাকাউন্ট/চ্যানেল খুলে ফেল না,তারপর সেখানে প্রতিদিন আপলোড করতে থাক: ‘এই যে আমি এখন প্রতিদিন দুই মগ হরলিকস খাই,গত মাসে আমার উচ্চতা এত ছিল…কিন্তু এক মাসে আমার উচ্চতা একটুও বাড়ে নি…” কিংবা ‘ আগে ঐ অংকটা পারতাম না,এক মাস হরলিকস খাবার পরও এখনো ঐ অংকটা পারি নি…”

একইভাবে মেয়েরাও কিন্তু গবেষক হয়ে উঠতে পার…ফেয়ার  অ্যান্ড লাভলি দেবার পর তুমি কতটুকু ফর্সা হয়েছে সেটা প্রতি সপ্তাহে জানিয়ে দিলে…

কেন আমরা একটা অন্ধভাবে একটা বিজ্ঞাপনের গবেষনাতে বিশ্বাস করে বসব? চাইলে সেই গবেষণাটা তো আমরা বাসায় নিজেরাই করতে পারি,তাই না??

(চাইলে আন্টিরাও জানাতে পারেন…পন্ডস এজ মিরাকেল দেবার পর আপনার বয়স কতটুকু কমে গিয়েছে,আপনার বয়স ৩২ হলে ও  আপনার husband আপনাকে ২৩ বছর বয়সী ভাবেন কি না…)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল