June 28, 2017, 11:35 am | ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং,বুধবার, সকাল ১১:৩৫

বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি, গণহত্যার জন্য দায়ী জামায়াত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা জার্নাল :
বাচ্চু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দেশে এই প্রথম যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় ঘোষণা করা হলো। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচালিত গণহত্যার জন্য দায়ী করা হয় জামায়াতে ইসলামী নামের দলটিকে।

সকাল পৌনে ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায় চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রায় ঘোষণা শুরু করেন। রায় ঘোষণা শেষ হয় দুপুর পৌনে ১২টায়।

ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে জানায়, বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তার মধ্যে সাতটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। যার তিনটিতে বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড, ৪টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১টি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমান করতে না পারায় সেটি খারিজ করা হয়েছে।

বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে।

পলাতক বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে এ রায়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

তবে পলাতক থাকায় বাচ্চু রাজাকারকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যায় বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষের মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর এ মামলার রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুরু হহয় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা।

১১২ পৃষ্ঠায় রায় নিয়ে সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে কোর্ট বসে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন আদালত শুরুর আগেই সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশে এই প্রথম যুদ্ধাপরাধের বিচারে রায় হতে যাচ্ছে। আমি এ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

জনার্কীর্ণ আদালত কক্ষে তিনি রায় পড়তে শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর অপর দুই বিপারপতিও।

৩৩টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত রায়টি সংক্ষেপ করে পাঠ করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থান সংকুলান না হওয়ায় আজকের আদালত বসে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

বাংলাদেশ সময় ১১৪৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২১, ২০১৩

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল