June 23, 2017, 12:33 am | ২২শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, রাত ১২:৩৩

নিউইয়র্কে বাসন্তি পূজা

Basanti-bg20130428224342ঢাকা জার্নাল: নিউইয়র্কে বেদান্ত অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী বাসন্তি পূজা রোববার শেষ হয়েছে। কুইন্সের বেলপার্ক কমিউনিটি সেন্টারে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপন হয় পূজার তৃতীয় বার্ষিকী।

আয়োজকরা বলেন, এবারের আয়োজন ছিল ব্যাপক, বহুমাত্রিক ও সুসংহত। পূজা, অর্চনা, ভোগারতি, দর্পন বিসর্জন। বিজয় দশমী অন্তে সবাইকে মিষ্টিমুখ ছিল পূজা আয়োজনের বিশেষ দিক।

পুরোহিত শ্রী প্রভাস চক্রবর্তী শনিবার সকাল এগারটা থেকে শুরু করেন মহাসপ্তমী পূজা; গেলরাতে দ্বিপ্রহরে করেন মহাষষ্ঠী ও বোধন। শনিবারে সমাপ্ত হয় মহাষ্টমী, ভোগারতি; সন্ধ্যা ছটায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যারতি। রোববারে অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী ও বিজয়া। সন্ধায় দর্পন বিসর্জন হয়।

পুরোহিতকে সহায়তা করেন ঝর্না চক্রবর্তী, বাসনা দত্ত, অতসী চৌধুরী, সুদৃতা পাল, রীনা সাহা, সুস্মিতা চৌধুরী, দিপ্তী দাস, রত্না চৌধুরী, শোভা সাহা, পারমিতা সাহা, গীতা রায় চৌধুরী, লতা মন্ডল, কাকন দেবনাথসহ আরও অনেকে।

দুদিনের মন্দির ও পূজা পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন তড়িৎ বোস ও অর্পণ চৌধুরী।

সারিবদ্ধ ভাবে বসে থাকা সকল পুণ্যার্থীদের মাথায় বর্ষিত হয় শান্তিজলধারা। পুন্যার্থীর মাথায় ছুঁইয়ে দূর করা হয় সকল কালিমা। কড় জোরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করা হয় সকল মানুষের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম তার শুভেচ্ছা বক্তৃতায় সবাইকে বাসন্তি পূঁজার শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের প্রশংসা করেন এবং সমবেত সবাইকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তথা দেশকে এগিয়ে নেবার জন্যে আহবান জানান। তিনি বাসন্তি পূঁজার আয়োজিত অনুষ্ঠান গুলো দীর্ঘক্ষণ ধরে উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, বেদান্ত অ্যাসোসিয়েশন আপ্রান চেষ্টা করেছে বাঙ্গালীর সাহিত্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারন করার। পীযূষ বর্দ্ধনের সম্পাদনায় প্রতিবারের মত এবারো প্রকাশিত হয়েছে সুখ পাঠ্য পূজা সাময়িকী “বাসন্তিকা”।

বাসন্তি পূজা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্টেট থেকে এসেছিল সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী বহু ভক্ত। আরও এসেছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ভাস্বর লেখক, সাংবাদিক, শিল্পি সহ অনেক শ্রেণীর মানুষ।

ঢাকের শব্দ, শঙ্খধ্বনি, কাসার আওয়াজ, মঙ্গলধ্বনিতে বেলপার্কের প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে ফেলে আসা সেই গ্রাম। অনেকেই আবেগ প্রবন হয়ে ওঠেন। দুদিন ব্যাপী ছিল প্রসাদের আয়োজন।
দুপুর দেড়টা নাগাদ পূজা শেষ হলে পরিবেশিত হয় পূজার প্রসাদ। প্রসাদ তৈরী করেছেন শ্রীযুক্ত মহেশ্বর বাবু। সহায়তা করেছেন বিপ্লব রায়, রনি বড়ুয়া, মধুসুদন ধর, অশোক সাহা, চিরঞ্জীব রায়, আশীষ সাহা, প্রদীপ দাস ও উত্তম দাস।  প্রসাদ বিতরণ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রসাদ বিতরণের গুরু দায়িত্যে ছিলেন বাসন্তী রায়, সীমা চৌধুরী, তাপসী বোস, রিঙ্কি দে নিয়োগী, ইলা বর্দ্ধন, উমা চৌধুরী, চন্দ্রা বিশ্বাস, ছন্দা সরকার, অরুনা পাল, অপর্ণা সরকার, শোভা সাহা, জবা ধর, রূপা সাহা, সোমা তালুকদার, সবিতা রায় সহ আরো অনেকেই।

আগত সুধীবৃন্দের অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বশ্রী তড়িৎ বোস, তরুণ চৌধুরী, অর্পণ চৌধুরী, নারায়ন পাল, আশীষ রায় ও বিধান বিশ্বাস। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মনোজিত চৌধুরী, ঝন্টু সরকার, বিপুল সরকার, জিতেন মণ্ডল, ফনীন্দ্রনাথ সাহা, কুমার ধীরেন, অমল দেব, সুভাস তালুকদার সহ আরও অনেকে। পূজা উৎসবের বিশেষ ব্যাক্তিত্ব  ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সন্তুর বাদক পন্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য।

অসীম সাহার গ্রন্থনায়, সুদৃতা পালের পরিচালনায়, সুস্মিতা চৌধুরী, আবৃতা চৌধুরী, রুপা সাহা ও অপর্না রায়ের উপস্থাপনায় দুদিন ব্যাপী পরিবেশিত হয় অনুপম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আমন্ত্রিত অতিথী শিল্পী ছিলেন কোলকাতার সৌমেন অধিকারী, বাংলাদেশের শাহ্ মাহবুব, তানিয়া, শফি চৌধুরী এবং নিউইয়র্কের সাড়াজাগানো সর্বজন পরিচিত কন্ঠশিল্পী শান্তনীল ধর। এছাড়াও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার বিশেষ আকর্ষণ ছিল জীবন চৌধুরী রচিত ও পরিচালিত নৃত্যালেক্ষ্য “আলোর দিগন্ত”। কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন রত্না চৌধুরী।

দুইদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবাসে বেড়ে ওঠা তরুণ শিল্পীদের সমন্বয়ে সাড়াজাগানো ও দর্শকদের প্রশংসনীয় মনমুগ্ধকর অনুষ্ঠান। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনৃত্যনাট্য “শাপমোচন” পরিচালনায় ছিলেন আবৃতা চৌধুরী যার মুল চরিত্রে অভিনয় করেন বিশ্বজিৎ দাশ সান্ত ও রুচিরা চৌধুরী।

শাপমোচনের অন্যান্ন উল্লেখিত চরিত্রে ছিলেন দেবদূত, আবীর, ও অনিকা। আরও ছিল নীলা জেরীন ও অন্তরা সাহার উদ্বোধনী নৃত্য এবং বেদান্ত একাডেমির ছাত্রছাত্রীদের নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনা। আবৃতা চৌধুরীর পরিচালনায় চণ্ডীনৃত্য ছিল অতন্ত্য উপভোগ্য ও ব্যতিক্রমি। বিশেষ আয়োজন ছিল তবলা লহরী – নিবেদনে শান এবং অনির্বান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্বে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তারা হলেন রাহুল, অর্পণ, অনন্যা, মিথিলা, অনির্বাণ, শান, বিশাল, অয়ন, পার্থ, তীর্থ, জয়া, অমৃতা, পূর্ণিমা, অপর্ণা সাহা, পারমিতা, অনুস্কা, বৃন্দা, গিতিকা, চয়নিকা, শতাব্দী, দেবরাজ, কথা, গীতিকা, শ্রেষ্ঠা, ঋতু, অঙ্কিতা, প্রেরণা, অপর্ণা, প্রভাত ও সামীর। বড়দের সঙ্গীতানুষ্ঠানে ছিলেন গোপাল দাস, অপর্ণা রায়, ইলা বর্দ্ধন, অর্ঘ্য সারথী, শম্পা চৌধুরী, প্রজ্ঞা বড়ুয়া, ফটিক বরন চৌধুরী, বিশ্বজিত সাহা ও আশা রায়। তবলায় ছিলেন পিনাকপানি গোস্মামী ও লিটন ফিলিপ্স। আলোক সজ্জায় ছিলেন মধুসুদন ধর, সুস্মিতা চৌধুরী ও সুমন মিত্র। শব্দ নিয়ন্ত্রনে যিশু বল। মঞ্চ সজ্জায় ছিল টিপু আলম।

প্রতিবারের মতই সকল মৃত পুন্যাত্মার স্বর্গলাভ কামনা করে পাঠ করা হয় শোক প্রস্তাব। সভাপতি শ্যামল রায়, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত চৌধুরী এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা সুদৃতা পাল মহাদশমীর শুভেচ্ছা জানান।

ঢাকা জার্নাল, মে ১, ২০১৩

সৌজন্যে, বাংলা নিউজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল