July 23, 2017, 8:55 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৫

আট মিনিটে একটি ধর্ষন, আফ্রিকায় তীব্র প্রতিবাদ


mailandguardiancartoon_thumbঢাকা জার্নাল:
 শুধু ভারত নয়, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় বিচলিত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষও৷ সে দেশে গড়ে প্রতি ৮ মিনিটে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে৷ এমন ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির মতো প্রিটোরিয়ায়ও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে৷

বিরল প্রতিবাদ

ভারতে নারী-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অনেকের গা-সওয়া হয়ে গেছে৷ কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন ঘটনা বিরল৷ ফলে গত সপ্তাহান্তে প্রিটোরিয়ায় নারীদের বিক্ষোভ বলতে গেলে ঐতিহাসিক গুরুত্ব পাচ্ছে৷ কেপ টাউনে ১৭ বছরের এক কিশোরীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার জের ধরে এক শ্রমিক সংগঠন এই গণবিক্ষোভের ডাক দেয়৷ দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজে যৌন নির্যাতন প্রায় গা-সওয়া বিষয়৷ কিন্তু ধীরে হলেও এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ছে৷

প্রিটোরিয়ার সমাবেশ প্রতিবেশী দেশ বৎসোয়ানার আইনজীবী পার্ল কুপে জানালেন, শুধু ২০১২ সালেই দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬৪,৫১৫টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে৷

অনুমান করা হয়, প্রতি ৯টি ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হয়৷ অনেক নারীই লজ্জায় পুলিশের কাছে যান না৷ অনেক সময় আবার দুষ্কৃতিদের হুমকির কারণেও নারীরা ভয়ে কিছুই করার সাহস পান না৷ পুলিশের কাছে গিয়েও সবসময় কাজ হয় না৷ অনেক অপরাধী ধরা পড়ে না৷ পড়লেও সামান্য শাস্তির পর মুক্তি পায়৷ অ্যাকশন-এইড নামের শিশু সুরক্ষা সংগঠন এমন প্রবণতা নথিভুক্ত করছে৷ তাতে দুর্নীতির চিত্রও উঠে আসছে৷ পুলিশকে ঘুস দিলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল উধাও হয়ে যায়, তথ্য-উপাত্ত ঠিকমতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয় না অথবা অনেক সময়ে সামান্য ভুলের কারণে অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়৷

সমাজে নারীর দুর্বল অবস্থান

দক্ষিণ আফ্রিকায় ধর্ষণের এত ঘটনার আরেকটি কারণ দেশের সমাজ ব্যবস্থাও৷ সেখানে অনেক পুরুষ নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বা ভোগ্যপণ্য বলে মনে করে৷

‘উইমেন অফ হোপ’ সংগঠনের লিডিয়া মেসহো বলেন, ‘‘ধর্ষণের এত ঘটনার ফলে নারীরা নিজেদের আর মুক্ত বলে মনে করতে পারেন না৷ নারী হিসেবে সব সময় আমাদের ভেবে দেখতে হয়, কোথায় যাচ্ছি, কখন যাচ্ছি৷ সূর্য ডুবলে বাসাতেই থাকা উচিত কিনা ইত্যাদি৷ কেউ মুক্ত নয়৷ আমাদের কন্যা, আমাদের দাদি-নানি – সবাই ধর্ষিত হচ্ছে৷ গত মাসে ১০০ বছর বয়স্ক এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে৷”

রেডিওতে এ সব ঘটনা সম্পর্কে প্রতিবেদন শোনা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত তর্ক-বিতর্কও চলে৷ তবে পরিবর্তনের তেমন কোনো চিহ্ন দেখা যায় না৷

আইনজীবী পার্ল কুপে এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘‘আফ্রিকার একটি প্রবাদ হলো – একটি ছেলেকে মানুষ করলে, শুধু একটা পুরুষ তৈরি করা হয়৷ একটি মেয়েকে বড় করতে একটা গোটা দেশকে বড় করা হয়৷ কারণ নারী কখনো স্ত্রী, মা, কন্যা বা পেশাজীবী হিসেবে এতগুলি ক্ষেত্রে কাজ করে, এত মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, যেমনটা পুরুষরা পারে না৷ অন্যদিকে অনেকে বিপরীতটাও ভাবে৷ একটি নারীকে ধর্ষণ করলে গোটা দেশকে ধর্ষণ করা হয়৷”

সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবমালা

প্রিটোরিয়ার বিক্ষোভকারীরা শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে থেমে থাকেন নি৷ তাঁরা সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাবও পেশ করেছেন৷ তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে আরও পরামর্শ কেন্দ্র খোলা, ধর্ষিতা নারীদের জন্য আরও সহায়ক দপ্তর খোলা এবং কারাগারে ধর্ষকদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করা৷ কারণ অনেক পুরুষ বাবার ছত্রছায়া ছাড়াই বেড়ে ওঠে৷ ফলে পুরুষ হিসেবে নিজেদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তাদের মনে তেমন কোনো ধারণা নেই৷ কারাগারে তাদের জন্য পুরুষ অভিভাবকের ব্যবস্থা করলে ভালো হয় বলে অনেকে মনে করেন৷

সরকার জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করবে৷ কর্মকর্তারা নিয়মিত নারী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার গভীরে যেতে চায়৷ ফলে দেরিতে হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ নিতে চলেছে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল