July 23, 2017, 8:58 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৮

‘ছাত্র রাজনীতির নামে চলছে লেজনীতির চর্চা চলছে’

obdul-kadar2ঢাকা জার্নাল: ‘বর্তমানে দেশে ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্র লেজনীতির চর্চা চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জনগণের অধিকার এবং আন্দোলন: সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতি এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো বলেন, “ছাত্ররা এখন টেন্ডারবাজি, দলবাজি করে দেশটার বারোটা বাজাচ্ছে। যেসব ছাত্র এ কলুষিত রাজনীতি করেন তারা কোনোদিন নেতা হতে পারবে না। এর নাম ছাত্র রাজনীতি নয়, এর নাম ছাত্র লেজনীতি।”

যেসব ছাত্র সংগঠন অপরাজনীতি করে তাদের শুধু বহিষ্কার নয়, গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান মন্ত্রী।

শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে বিষোদগার করে তিনি বলেন, “আজ সব শিক্ষক, ছাত্র, পেশাজীবী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব জায়গায় বিভেদের দেওয়াল। শিক্ষক রাজনীতি করলে ছাত্র করবে কি।”

মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকরা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ছাত্রদের পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করেন। ব্যবহার শেষ হলে ছুঁড়ে ফেলে দেন। শিক্ষকদের ছাত্র রাজনীতির ওপর এমন খবরদারির কারণে ছাত্র রাজনীতির আজ বারোটা বেজে গেছে।”

তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদরা নিজেদের অসাধারণ ভাবেন। বড় উত্তাল সময় পার করছে রাষ্ট্র। দেশে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। এ মুহূর্তে কিছু রাজনীতিবিদ দায়িত্ব জ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্যপ্ত করার চেষ্টা করছেন।”

রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “ভালো কথার স্টক শেষ হয়ে গেছে। বিরোধীদলগুলো রাজনীতির নামে বিগত সময়ে যে আবিষ্টতা দেখিয়েছেন তা পাশ কাটিয়ে যেতে পারবেন না। যদি রাজনীতিবিদসহ অন্যরা ভালো কথার একটি কাজও করতো তাহলে দেশটা সোনার বাংলা হয়ে যেত। তারা (রাজনীতিবিদরা) সব কিছু নির্বাচনের পর করবেন বলে ওয়াদা দিয়ে শেষ। কিন্তু তাদের কথাবার্তায় মনে হয় তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে তারা ভাবেন না। তারা শুধু মশারির মধ্যে মশারি খাটানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছেন।”

রাজনীতিতে সমঝোতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “কোথাও আজ সমঝোতার বীজ তৈরি হচ্ছে না। সবখানে রাজনীতিবিদরা বিভেদের দেওয়াল তৈরি করেই যাচ্ছেন। রাজনীতিবিদরা যদি ঠিক হয়ে যায় তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসার বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশবাসী বলে দুই নেত্রী এক টেবিলে বসলে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আলোচনায় বসার আগেই যদি বলেন, ‘বিচার মানি তাল গাছ দেব না’ তাহলে তো বসার প্রশ্নই আসে না।”

শাহবাগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “শাহবাগ আন্দোলন রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে। এতে কোনো দলীয় ফ্লেভার লাগানো ঠিক হবে না।”

বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো  বক্তব্য রাখেন, এটিএন নিউজের প্রধান নিবার্হী আবেদ খান, পরিবেশ আন্দোলন বেলা’র নিবার্হী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. সাদেকা হালিম প্রমুখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল