July 27, 2017, 10:42 pm | ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ১০:৪২

দ্রুত গলছে দক্ষিণ মেরুর বরফ

north-pole-viewঢাকা জার্নাল: যতটুকু না সময়ে বরফ গলে যাবার কথা তার চেয়ে তাড়াতাড়ি দক্ষিণ মেরুর বরফ গলে যাচ্ছে এমন তথ্যই সম্প্রতি গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন৷ অপরদিকে ২০০০ সাল যাবৎ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কিন্তু কমেছে, যদিও গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমেনি৷ সব মিলিয়ে প্রকৃতির খেয়াল, না আর কোনো কিছু, তা বিজ্ঞানীরা নিজেরাই জানেন না৷

দক্ষিণ মেরুতে গ্রীষ্মে বরফ গলেই থাকে৷ কিন্তু এখন সেটা বিগত এক হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, বলছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকরা৷ ৬০০ বছর আগে যতোটা বরফ গলতো, সে তুলনায় গত ৫০ বছরে বরফ গলার তীব্রতা বেড়েছে দশগুণ৷

গবেষকরা কুমেরু উপদ্বীপের জেমস রস দ্বীপের বরফে ৩৬৪ মিটার পাইপ ঢুকিয়ে সেই বরফ অংশ অংশ করে বার এবং বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, বিগত ৬০০ বছরে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে৷ এবং বরফ গলার তীব্রতা গত ৫০ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে৷

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, সর্বজনবিদিত এই তথ্যের একটা নতুন প্রমাণ পাওয়া গেল, বলে যারা প্রসঙ্গটি ফাইলবন্ধ করতে চাইবেন, তাদের জন্য অন্য আর একটা প্রশ্ন থাকবে: গত শতাব্দীর আশির ও নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা যেমন খুব তাড়াতাড়ি বেড়েছিল, এই শতাব্দীর প্রথম দশকে সেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি আবার ধীর হয়ে পড়েছে৷ এ সত্যটা কি তাদের জানা ছিল?

পরস্পরবিরোধিতা

আশ্চর্যের ব্যাপার, জলবায়ু হন্তারক বলে খ্যাত গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির নির্গমন কিন্তু ২০০০ সাল যাবৎ একাধিকবার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ শতাব্দীর প্রথম দশকের অধিকাংশ সময় গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৩ শতাংশের আশেপাশে৷ এই রেকর্ড পরিমাণ গ্যাস নির্গমনের জন্য চীন ও ভারতের উত্থানের অবশ্যই অবদান ছিল৷ কিন্তু তাহলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি কমল কেন কিংবা কিভাবে?

নানা ধরনের যুক্তি ও ব্যাখ্যা শোনা গেছে: গভীর সমুদ্র নাকি আরো বেশি তাপ শুষে নিয়েছে, যার ফলে সাগরের উপরিভাগ যা প্রত্যাশা করা গিয়েছিল, তার চেয়ে ঠাণ্ডা থেকেছে৷ আরেক তত্ত্ব হল, এশিয়ায় কলকারখানা থেকে ধোঁয়া সূর্যালোক আটকে দিয়েছে৷ আরো এক তত্ত্ব: গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির আস্তরণ পৃথিবীর যে পরিমাণ তাপ মহাশূন্যে বিকিরণ হওয়া থেকে আটকে দেয় বলে মনে করা হতো, আসলে হয়ত ঠিক ততটা করে না৷

অনিশ্চয়তা

মোদ্দা কথা, বিজ্ঞানী-গবেষকরা তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে আগের মতো নিশ্চিত করে কোনো কথাই বলতে পারছেন না৷ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃ-সরকার বিশেষজ্ঞ প্যানেল আইপিসিসি ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহের অন্তর্ধান সম্পর্কে যা কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷

তবে আইপিসিসি’র চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পচৌরি বলেছেন, ১৮৫০ সাল যাবৎ দশ, পনেরো বছর অন্তর এ ধরনের ওঠা-নামা লক্ষ্য করা গেছে৷ তার জন্য সানস্পট বা সূর্যপৃষ্ঠে বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনিয়া, সব কিছু দায়ী হতে পারে, আইপিসিসি চিরকালই বলে আসছে৷

সব মিলিয়ে ক্ষতি আসলে এই যে, এই নতুন বৈজ্ঞানিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বের সরকারবর্গ কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন হ্রাস, কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করার বিশেষ উৎসাহ কিংবা প্রয়োজন, দু’টোর কোনোটাই অনুভব করবেন না৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল