June 23, 2017, 2:36 am | ২২শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, রাত ২:৩৬

অবশেষে ভারতে ভালুক নাচ বন্ধ হলো

tumblr_mkne9nQovQ1s3gjw0o1_1280ঢাকা জার্নাল: একটা সময় ভারতের অলি-গলিতে দেখা যেতো ভালুক নাচ৷ পশু সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর তৎপরতায় সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না৷

এতে মানুষের মনোরঞ্জনে ব্যাঘাত ঘটলেও ভালুকগুলোর জীবন বেঁচেছে৷ আর সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছে কিছু মানুষ৷

বিশাল আকারের একটি ভালুক নাচছে, হেলেদুলে দোল খেয়ে যাচ্ছে৷ দেখতে কিন্তু বেশ মজার৷ কিন্তু মনে করে দেখুন তো, নাকে দড়ি বাঁধা সেই ভালুকটির তা কি করতে ভালো লাগছে? বনের পশু রাস্তায় এসে নাচবে, সেটা না পাশবিক না মানবিক, কোনটাই তো নয়৷ তাই ভারতের পশু সংরক্ষণে আন্দোলন কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন৷ আর তাতে সফলও হয়েছেন৷

ভারতের পথে ঘাটের এই ভালুক নাচের প্রচলন কিন্তু বহু আগের৷ সেই ১৩তম শতাব্দী থেকে মুসলমান কালান্দার গোত্রের মানুষ এর প্রচলন শুরু করে৷ বড়লোকদের বাড়িতে ভালুক নাচ দেখিয়ে কিছু পয়সা কড়ি রোজগার করতো তারা৷ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বংশানুক্রমে তারা সেই পেশা ধরে রাখে৷ কিন্তু এই কারণে দিন দিন ভালুকের সংখ্যাও কমতে থাকে৷

গত শতাব্দীতে এসে পশু সংরক্ষণ ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া বা ডাব্লিউটিআই এই ব্যাপারে প্রচারণা শুরু করে৷ ভারতের সরকারও ১৯৭২ সালে এই ভালুক নাচ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে৷ কিন্তু নিষিদ্ধ করলেই কি তা বন্ধ হয়? বাপ-দাদার এই পেশা থেকে তো সরে আসা সম্ভব নয়৷তাই কালান্দার গোত্রের পুরুষেরা আইনের তোয়াক্কা না করেই এটি চালিয়ে আসছিলো৷ তবে ডাব্লিউটিআই জনসচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে৷

এছাড়া ওয়ার্ল্ড সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব অ্যানিমেলস ডাব্লিউএসপিএ এবং ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস- এই দুটি সংগঠনও ব্যাপক প্রচারণা চালায়৷

তাদের সেই প্রচারণা সুফল নিয়ে এসেছে৷ কয়েক মাস আগে এই ভালুক নাচের সমাপ্তির কথা জানানো হয়েছে৷ অর্থাৎ ভারতে এখন আর এই ভালুক নাচ দেখা যায় না৷ এর কারণ এই পেশায় জড়িতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য পেশাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷

ডাব্লিউটিআই এর কর্মকর্তা বিবেক মেনন বলেন, ‘‘আমাদের অনেক বছর লেগেছে এই গোত্রের মানুষগুলোকে অন্য কোন পেশায় নিয়ে যেতে৷ হয়তো মানুষের মনে এখনও এটি রয়ে গেছে তবে এটি আর কোথাও ঘটছে তেমন কোন ঘটনা আমাদের জানা নেই৷”

কালান্দার গোত্রের আফসার খানের কথাই ধরা যাক৷ তিনটি মেয়ের বাবা ৩০ বছরের আফসার খান৷ বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে তিনিও দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন আর ভালুক নাচ দেখাতেন৷ দিনে আয় হতো তিনশ রুপি৷ কিন্তু ছয় বছর আগে সেই পেশা ছেড়ে দেন৷ ভালুকগুলোকে ডাব্লিউটিআই-র হাতে তুলে দেন এবং তার বিনিময়ে কিছু টাকা পান৷ সেই টাকা দিয়ে তিনি ট্রাক্টর কিনেছেন৷ এখন তিনি ট্রাক্টর চালিয়ে রোজ ৫০০ রুপি কামান৷ ছোট ভাইটাও এখন গাড়ি চালানো শিখছে৷

আগের দিনগুলো মনে করে তিনি বলেন, কাজটা খুব কঠিন ছিলো৷ কোথাও বেশিদিন থাকা সম্ভব হতো না, ফলে বাচ্চাগুলোও স্কুলে যেতে পারতো না৷ এছাড়া পুলিশের ভয় তো ছিলোই, তাদেরকে ঘুষ না দিলে ঝামেলা করতো৷”

ভালুক নাচ বন্ধে এই সাফল্য এখন সাপের খেলা বন্ধের প্রচারণাতে উৎসাহ যোগাবে৷ পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার ভালুকগুলোরও জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

আরআই/এএইচ (এএফপি)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল