July 23, 2017, 8:54 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৪

ইলিয়াস গুমের দ্বিতীয় বছর

Ilias-Ali-011sm20130416131710ঢাকা জার্নাল : ৩৬৫ দিন অতিক্রান্ত হলেও খোঁজ মেলেনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর। তার গুমের ঘটনার দ্বিতীয় বছর শুরু হলো বুধবার।

গত বছরের ১৭ এপ্রিল দিনগত রাতে পুলিশ সাবেক এই সংসদ সদস্যের গাড়িটি রাজধানীর মহাখালীর আমতলী রেলক্রসিং এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই গাড়ির চালক আনসার আলীরও।

১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ইলিয়াস নিখোঁজ বলে জানিয়েছিলেন তার পরিবার।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা গণমাধ্যমকে জানান, মধ্যরাতের পর ঢাকার বনানী থানা থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয়, মহাখালী থেকে একটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর পর থেকে স্বামীর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না তিনি।

লুনা জানান, বিকেলে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরে সন্ধ্যায় আবার ওই গাড়িতে করেই বাসা থেকে বেরিয়ে যান ইলিয়াস আলী।

মহাখালীর সাউথ-পয়েন্ট স্কুলের সামনে দরজা খোলা অবস্থায় গাড়িটি পড়ে ছিল। ড্রাইভার আনসারের মোবাইল ফোনটিকে পাওয়া যায় গাড়ির সামনের সিটে বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন লুনা।

তার স্বামী সাধারণত কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের বাসায়ও যান না। এরপরও সম্ভাব্য সব জায়গায় ফোন করে খোঁজ নেওয়া হয়।

বনানী থানায় দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশীদ জানান, ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকার মহাখালী এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি গাড়ি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। কাগজপত্র পরীক্ষার পর দেখা গেছে, গাড়িটি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর।

ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে বাস্তবতা হলো ইলিয়াস আলীর সন্ধান এখনও মেলেনি।

ইলিয়াসের সন্ধানে জেলায় বিক্ষোভ

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজের জেলা সিলেটে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।
ইলিয়াসের গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার রশিদপুরের কাছে ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট সড়ক অবরোধ করেন সমর্থকরা।

সে সময় পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জনেরও বেশি আহত এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।

সিলেট বিএনপি গোটা বিভাগ জুড়ে এর প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতালেরও ডাক দেয়।
ইলিয়াস আলীকে সরকার তুলে নিয়ে গেছে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন।

সে সময় অবিলম্বে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও সরকারের কাছে দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির আহ্বানে ৫ দিন হরতাল আহ্বান করা হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা নিহত হন।

পুলিশ ও র‌্যাব ইলিয়াসের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। নানা সময় নানা গুজব ওঠে ইলিয়াসকে দেখা গেছে বা তার ফোন সচল পাওয়া গেছে বলে। কিন্তু ইলিয়াসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এ দিকে, সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ছেলেমেয়েদের নিয়ে ২ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতা চান লুনা।

এ ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইলিয়াসকে পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জুনে সাইয়ারা তার জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেয়। সেই খোলা চিঠিতে বাবাকে ফেরত পাওয়ার আকুতি জানায় সাইয়ারা।

ইলিয়াসকে ফিরে পেতে বিভিন্ন সময় আল্টিমেটাম, হরতাল ও অন্যান্য কর্মসূচি দেয় তার দল বিএনপি। হরতালে সহিংসতার অভিযোগ এনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের মামলার শিকার ও কারাবন্দিও হন।

বুধবার সকালে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ইলিয়াসের বনানীর বাড়ি ‘সিলেট হাউজ’ এ যাওয়ার কথা রয়েছে।

এপ্রিল ১৭, ২০১৩

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল