July 23, 2017, 8:54 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৪

বোস্টনে বোমা আক্রমণ

0,,16746099_303,00টেলিভিশনে ছবিগুলো দেখলে নাইন-ইলেভেনের কথা মনে হওয়াই স্বাভাবিক৷ বোস্টন ম্যারাথনে তিনজন নিহত হয়েছে, তিন হাজার নয়৷ কিন্তু প্রশ্নটা অনুপাতের নয়৷ প্রশ্ন হল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো কতোটা কার্যকরী?

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর তিনটে বাজতে দশ মিনিটে বোস্টনের কেন্দ্রীয় এলাকা দু’টি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই মার্কিন টেলিভিশন সংস্থাগুলি ঘটনার ‘লাইভ কভারেজ’ দেখাতে শুরু করে – সিএনএন থেকে ফক্স নিউজ৷ ম্যারাথন দৌড়বীররা উবু গেড়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন৷ আহতেরা পড়ে আছে৷ মানুষ পালাচ্ছে৷ ক্যামেরার ছবিতে রাস্তার পিচে রক্ত৷ অ্যাম্বুলেন্স আসছে, যাচ্ছে৷ বাতাসে ধোঁয়ার কুণ্ডলী৷

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’কে জানানো হয়েছে, বলছেন উত্তেজিত টিভি রিপোর্টাররা৷ পরে ওবামাকে এফবিআই প্রধান রবার্ট ম্যুলার এবং স্বদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জ্যানেট নাপোলিটানো’র সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়৷ পুলিশ ততোক্ষণে হোয়াইট হাউস ঘিরে ফেলে চেকপয়েন্ট বসিয়েছে৷ নিউ ইয়র্ক, শিকাগোর মতো শহরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ সুদূর লন্ডনে সপ্তাহান্তে একটি ম্যারাথন আয়োজিত হবার কথা: সেখানেও কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন৷

বোমা বিস্ফোরণ থেকে বোমা আক্রমণ পর্যন্ত পৌঁছতে টিভি রিপোর্টারদের বেশি সময় লাগেনি৷ আক্রমণের পিছনে আল-কায়েদা ছিল, বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ছিল, কিংবা কোনো মার্কিন অপরাধীচক্র ছিল , তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে৷ কিন্তু মিডিয়ার এই হিস্টিরিয়ার মধ্যে একটি সত্য অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন: নাইন -ইলেভেনের পরে যে ব্যাপক পরিবর্তন আসে, তার কল্যাণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকই কাজ করে যাচ্ছে৷ এবং বোস্টনে বোমা আক্রমণের ক্ষেত্রেও সেকথা প্রযোজ্য৷

প্রশ্নটা হল সহযোগিতার৷ নতুন ডাইরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স’এর হোমপেজে প্রথমেই পাওয়া যাবে ‘লিড ইনটেলিজেন্স ইনটেগ্রেশন’৷ স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যখন অকুস্থলে তদন্ত করছেন, তখন স্বদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এফবিআই, আইন মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থা যুগপৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অকুস্থলে তদন্তকারীদের মূল্যবান সাহায্য দেয়৷

তা না হলে প্রেসিডেন্ট ওবামা বোস্টনে বোমা আক্রমণের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করতে পারতেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বস্টনের তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল