July 23, 2017, 8:55 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৫

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে হেফাজতে ইসলামের হরতাল পালিত

BNP-hafajat-bg20130406033920ঢাকা জার্নাল: কথিত ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শেষ হলো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে।

চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ সহ দেশের কয়েকটি জায়গায় হেফাজতকর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় খণ্ড খণ্ড মিছিল করছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ” আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ১৪ দল মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরাও একটি মিছিল নিয়ে আসছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গ্যাসগান ও শটগান ব্যবহার করে। এ ঘটনায় ৭ জন পুলিশ সদস্য ও ১৫ জন হেফাজতকর্মী আহত হন।”

মঈনুল হক আরো জানান, “সংঘর্ষের ঘটনার কিছু পরে একদল দুষ্কৃতিকারী জেলার বিএনপি অফিসে ঢুকে চেয়ার টেবিলে আগুন ধরিয়ে দেয়”।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত শনিবার রাজধানীর মতিঝিলের সমাবেশ থেকে দেশজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম।

হেফাজতে ইসলাম শনিবারের ওই লংমার্চ এবং মহাসমাবেশ ডেকেছিল তাদের ভাষায় নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান সহ ব্লাসফেমি আইন করার দাবিতে।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্লাসফেমি আইনের আদলে নতুন কোন আইন প্রণয়নের হেফাজত ইসলামের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

রোববার রাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায় এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ প্রচলিত অনেক আইনেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শনিবার শাপলা চত্বরের সমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা ১৩ দফা দাবি ঘোষণা করে সেগুলো মেনে নেয়ার জন্য আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেন।

যদি ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সরকার তাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে ৫ই মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা।

নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি এবং ব্লাসফেমি আইন ছাড়াও হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে আরও আছে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা, ‘ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন’ বন্ধ করা এবং নারী নীতি ও শিক্ষা নীতি বাতিল করা।

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবী ও লংমার্চে বাধা দেয়ার অভিযোগে আজকের এই সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয় সংগঠনটির নেতারা।

এই হরতালের বিরোধীতা করে সকালে মানববন্ধন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

এদিকে হরতাল প্রতিরোধে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে পূর্বঘোষিত পতাকা মিছিল করেছে শাহবাগের আন্দোলনকারীরা।

জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবী ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দেয় মিছিলকারীরা।

মিছিলটি রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে থেকে ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে।

মিছিল শেষে শাহবাগের আন্দোলনের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার বলেন, “হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবীর কোনটিই মেনে নেয়ার মতো নয়। তাদের দাবী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং সংবিধানের সাথে সাঘর্ষিক। যেহেতু সংবিধানকে সাংঘর্ষিক করার মতো একটা দাবী তারা নিয়ে এসেছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি”।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল