June 28, 2017, 7:57 am | ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং,বুধবার, সকাল ৭:৫৭

জেল খাটছেন বৈধ প্রবাসীরাও, এগিয়ে আসছে না দূতাবাস

soudiaঢাকা জার্নাল: সৌদি আরবের বিশেষ পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন অনেক বৈধ (ইকামাধারী) বাংলাদেশিও। প্রবাসীদের অভিযোগ, ইকামা পাসপোর্ট থাকার পরও তাদের ছাড়িয়ে নিতে সহযোগিতা করছে না রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।

রিয়াদ ডিপোটেশন সেন্টার থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলেন ময়মনসিংহের রফিকুল ইসুলাম।

তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করি সানাইয়াতে গত বুধবার (০৯ নভেম্বর) বাথা এসেছিলাম বাজার করতে। সেখান থেকে পুলিশ আমাকে আটক করে।’

‘শুধু আমিই নই, আরও শতাধিক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন আছেন যারা বৈধ ইকামাধারী।’

জেলে কতজন আছেন? জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রুমেই বৈধ লোক আছে কমপক্ষে ২৫জন। কয়েকটা রুমে বৈধ-অবৈধ মিলে আড়াইশো’র মতো বাংলাদেশি আছে।’

ঢাকার রনিথ শীল। কাজ করেন আরবাইন এলাকায় একটি সেলুনে। তিনিও ওইদিন বাজার করতে বাথা এসেছিলেন।

বিকেল ৫টার দিকে একটি দোকান থেকে সবজি কেনার সময় আটক করে পুলিশ। বাংলানিউজকে রনিথ বলেন, ‘অবৈধদের সঙ্গে অনেক বৈধ বাংলাদেশিরাও আটক হয়েছেন।’

শুধু রফিকুল আর রনিথ-ই নয়, বৈধ হওয়ার পরও আটক হয়ে জেলে আছেন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ার হাসানুর রহমান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মোহাম্মদ তাজ, চাঁদপুর মতলবের মো. ইউসুফ, কুমিল্লার ইউসুফ মুন্সী ও সোহেল রানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুল হাসান, মুন্সীগঞ্জের দিদার হোসেন, নোয়াখালীর চাটখিলের আরিফ হোসেন, লক্ষ্মীপুরের আদনান সাইদ, খুলনার ফারুক আহমেদ, ঢাকার গুলশানের রেজাউল করিমও।

আটকরা  বলেন, ‘আমরা জেল থেকে আমাদের কফিলের (নিয়োগকর্তা) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা কেউ কেউ জেলে এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু দূতাবাস আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।’

আটক বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দূতাবাসে  ফোন করেছিলাম। তারা কিছুই করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন।’

‘কেনো পারবেন না, জিজ্ঞেস করলে রাগারাগি করে ফোনের লাইন কেটে দেন,’ যোগ করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি-আমাদের বিরুদ্ধে সবজি, মাছ বিক্রি ও হকারির কারণে মামলা হবে। আর মামলা হলে আমাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে দূতাবাসের সহযোগিতা খুবই দরকার।’

আবেদন জানিয়ে আটক প্রবাসীরা বলেন, ‘সবকিছু বৈধ হওয়ার পরও যদি দূতাবাস আমাদের পক্ষে না দাঁড়ায়, তাহলে এই ভিন দেশে আমরা কোথায় যাবো?

‘দূতাবাস আমাদের বিষয়ে তদন্ত করুক, যদি অপরাধী হই, তাহলে শাস্তিরও সুপারিশ করুক। আর অপরাধী না হলে আমাদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করুক।’

এ বিষয়ে সোমবার সকালে যোগাযোগ করা হলে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদ‍ূত গোলাম মসিহ প্রথমে বলেন, ‘আমি অ্যাম্বাসিতে ঢুকছি, একটু পরে কল দিন।’

এরপর বারবার তার মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

ঢাকা জার্নাল, নভেম্বর ১৪, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল