June 27, 2017, 9:29 am | ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, সকাল ৯:২৯

শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ: ঘোষণা বায়রা’র

- 0    a 00  a  a  a     a baira 7ঢাকা জার্নাল: বেসরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানি করার এজেন্সিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক পাঠানোর যে পদ্ধতির মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে করে লোকসানের মুখে পড়েছে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থা।

তবে সরকার মনে করছে, রপ্তানিকারক সংগঠনগুলো অতিরিক্ত মুনাফার জন্য উচ্চ খরচে বিদেশে শ্রমিক পাঠায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। সেকারণেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক পাঠাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ১৯৮২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ৮৫ লাখের ওপরে শ্রমিক রপ্তানি হয়েছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজন্সির মাধ্যমে।

কিন্তু বর্তমানে সরকারি অসহযোগিতার কারণে দেশে বারোশোর বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি লোকসানের মুখে। আর এই কারণেই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বায়রার প্রেসিডেন্ট শাহজালাল মজুমদার।

শাহজালাল মজুমদার বলেন, ”সরকার বিভিন্ন দেশে জি-টু-জি অ্যাগ্রিমেন্ট করছে, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শুধু সরকার লোক পাঠালে আমাদের ১২০০ রিক্রুটিং এজেন্সিকে বাদ দিয়ে সেই বিষয়ে আমরা আপত্তি করেছিলাম।”

তিনি বলেন, ”আমরা বলেছিলাম, আমাদের প্রাইভেট এজেন্টদেরাও যাতে লোক পাঠাতে পারে সেই সুযোগ রাখুন। এ পর্যন্ত ৮.৫ মিলিয়ন লোক বিদেশে গিয়েছে সেসব লোক তো আমরাই পাঠিয়েছি। সরকার এক শতাংশেরও কম লোক পাঠিয়েছে।”

তবে বিষয়টি নাকচ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিবাসন খরচ নেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কারণেই সরকারিভাবে লোক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রবাসী মন্ত্রী বলেন, ”তারা টাকার অংক শুধু বেশি নিচ্ছে না, অস্বাভাবিকভাবে বেশি নিচ্ছে। ৪০ হাজারের জায়গায় তারা তিন লাখ নিচ্ছে। যার কারণে শ্রমিকরা কন্ট্রাকচুয়াল পিরিয়ডে অভিভাসন ব্যয়ই তুলতে পারেনা।”

তিনি বলেন, ”যেহেতু তারা অভিভাসন ব্যয় তুলতে পারে না সেহেতু তারা অবৈধ হয়ে পড়ে। এবং যখন ব্যাপক জনগোষ্ঠী অবৈধ হয়ে পড়ে তখন ওই বাজার আমাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।”

এদিকে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া শ্রমিক বাজার বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি সে দেশের সরকার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক নিতে আগ্রহ দেখায় এবং এরপর সরকার নিজ উদ্যোগে লোক পাঠানোর জন্য নিবন্ধন-প্রক্রিয়া শুরু করে।

শ্রমিক রপ্তানিকারকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, সরকার যেভাবে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে লোক পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তাতে খুব একটা অগ্রগতি চোখে পড়ছে না।

এর কারণে সামনে যেসব দেশে শ্রমিক পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে সেগুলোও হারাতে হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

বায়রার সভাপতি বলেন, বিষয়টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকলে হয়তো পরিস্থিতি এমন হতো না।

তিনি বলেন, সরকার যেখানে মালয়েশিয়ার মতো একটি বড় শ্রমবাজারে শ্রমিক পাঠাতে জি-টু-জি চুক্তি করেছে সেখানে তারা চুক্তির পরও শ্রমিক পাঠাতে পারে নি।

মজুমদার বলেন, ”সেখানে এমপ্লয়ারদের সাথে সরাসরি আমাদের চুক্তি আছে। আপনি যেখানে সরকারের সাথে চুক্তি করেছেন সেখানে এমপ্লয়াররা সরকারের সাথে কখনও কনট্রাক্ট করবে না। তারা এ পর্যন্ত কোনও চাহিদাপত্র বা ভিসাও পাঠায়নি।”

তবে প্রবাসী কল্যানমন্ত্রী এই আশঙ্কা অমূলক উল্লেখ করে বলেন, সরাসরি সরকারি মাধ্যমে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানি করা হলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির ফলে বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে।

তবে মন্ত্রী স্বীকার করেন নতুন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াটি চলমান হওয়াতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগে যে পদ্ধতিতে লোক যেত দালালদের মাধ্যমে নির্বাচন করা হতো। অযোগ্য অদক্ষ লোক যেত। এখন বড় বাজার আরো সবিন্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত হবে।

“এখন যেহেতু নতুন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লোক পাঠানো হবে তাই প্রথম ধাপ পেরুতে কিছুটা দেরি হচ্ছে । তবে দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে ২৩০ জনের প্রথম দলটি সে দেশে যাবে” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিক্রুটিং এজন্সিগুলোর বক্তব্য সরকার বিষয়টি এখন যেভাবে পরিচালিত করছে তাতে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি এই ব্যবসার সাথে জড়িত ১২০০ প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিপর্যয়ের মখে পড়েছে এবং বিষয়টি বিবেচনার জন্য তারা সরকারের কাছে যথাযথ পদক্ষেপ আশা করেছে।

তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, “বিদেশে বাংলাদেশের জনশক্তি যে পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আনে তাতে এই বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সরকার চাইছে একে ঘিরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল