March 25, 2017, 2:00 am | ২৪শে মার্চ, ২০১৭ ইং,শনিবার, রাত ২:০০

বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত

sangsadঢাকা জার্নাল : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী এবং দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদে গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হউক’ শীর্ষক প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।

উত্থাপিত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় সরকার ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যের ভোটে। এর আগে প্রস্তাবটির সমর্থনে বক্তব্য দেন নূরজাহান বেগম, মনিরুল ইসলাম, আবদুল মতিন, বেগম সানজিদা খানম ও ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া।

সিদ্ধান্ত ও সংশোধন প্রস্তাবকারীদের বক্তব্য শেষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান আইনজীবী আনিসুল হক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের কোনো সম্পত্তি এই স্বাধীন দেশে থাকতে পারে না, রাখার কোনো অধিকার নেই। অতি দ্রুতই বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নামে-বেনামে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে কোনো আইনের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে আইনের কিছুটা সংশোধনী আনতে হবে। আর যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ করেছে তাদেরও কোনো সম্পত্তি থাকতে পারে না। তাদের নামে থাকা সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে একটি বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। অবিলম্বেই এই সংসদে বিল এনে পাসের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে আইনগত বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময়ই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে গেছেন। আর তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেন বলেই প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। তাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের যে মুহূর্তে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকে তাদের সকল সম্পত্তি তাদের উত্তরাধিকারীর কাছে চলে গেছে। তাই তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে দেশবাসীকে জানাতে চাই, এই আইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটুকু বলতে চাই, খুব শিগগিরই আইনটি প্রণয়ন করা হবে। আর যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইন প্রণয়নের কাজও শুরু হয়ে গেছে।

আবেগজড়িত কণ্ঠে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে বাঙালি জাতির হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে, সেই রক্তক্ষরণ এখনো চলছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ঘাতকরা যে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিয়ে গেছে, খুনিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর এবং তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলেও সেই কলঙ্ক মুছবে না। যতদিন এ দেশে আমরা বেঁচে থাকব, বাংলাদেশ থাকবে- ততদিন এই রক্তক্ষরণ চলতেই থাকবে। কোনো ডাক্তার সেলাই করে এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারবে না।

আইনমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাক্ষীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণের কিছুটা উক্তি তুলে বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের যেসব আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের নামে-বেনামে থাকা সব সম্পত্তি খুঁজে বের করার জন্য গঠিত একটি টাস্কফোর্স কাজ শুরু করেছে। চলতি বছরের ৩১ মে টাস্কফোর্সের বৈঠকে এ বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক খুনিদের ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। তবে অনেক সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে, কেননা জানাজানি হলেই খুনিদের সম্পত্তি বেনামী করার চেষ্টা করা হতে পারে। আর এমন ঘটনা এ দেশে অনেকেই ঘটেছে। তবে এ কথা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অবিলম্বেই আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি জানিয়ে বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেগম ফজিলাতুন নেনা বাপ্পি বলেন, জাতির পিতা আমাদের ভাষা, স্বাধীনতা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত দিয়ে গেছেন। কিন্তু খুনি মোশতাক-জিয়ারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ইয়াহিয়া-ভুট্টো কবর খুঁড়েও বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি, যা করেছে মোশতাক-জিয়ারা। ছোট শিশু রাসেলকেও নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। এই ভয়াল হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব সভ্যতার কোথাও ঘটেনি। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীন দেশ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা প্রটেকশন দিয়েছে, আমি তাদের ঘৃণা জানাই। তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বাধীনতা বাংলাদেশে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থাকতে পারে না, থাকতে পারবে না।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল