December 8, 2016, 12:32 am | ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ১২:৩২

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

pic-%e2%80%8dsportsঢাকা জার্নাল : সাকিব আল হাসানের বিরল রেকর্ড ও তামিম ইকবালের ৯ হাজার রানের মাইলফলকের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে না, তা কি হয়?

সতীর্থরা তাদেরকে আনন্দ, উল্লাসের উপলক্ষ ঠিকই করে দিয়েছেন। ১০ মাস ১৪ দিন পর ওয়ানডে খেলতে নামা বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ৭  রানের ব্যবধানে।

আফগানিস্তান লড়াইয়ের যে ইঙ্গিত দিয়েছিল, সেটা সাকিব-তাসকিনের বোলিংয়ে ভেস্তে গেছে। আর লড়াইয়ের শুরুটা তৈরি করে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

তামিম ব্যাট হাতে শুরুতেই ৮০ রান করে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখিয়ে দেন। কিন্তু লেট অর্ডারে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিং করতে না বড় স্কোর গড়তে পারেনি টাইগাররা। পরবর্তীতে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিং এবং তাসকিনের অসাধারণ ফিনিশিংয়ে জয় পায় বাংলাদেশ।

রৌদ্বজ্জ্বল আবহাওয়ায় মাশরাফি শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা সৌম্য সরকার শুরুতেই দলকে বিপদে ঢেলে দেন। রানের খাতা খোলার আগেই দৌলত জাদরানের বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। তিনে ব্যাটিং করা ইমরুল তামিমকে সঙ্গ দেন ১৯তম ওভার পর্যন্ত। এ সময়ে দুজন ৮৩ রান যোগ করেন। ৫৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে দাপট দেখিয়ে ব্যাটিং করা ইমরুল সাজঘরে ফেরেন নিজের দোষে! অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীর বলে বোল্ড হন ইমরুল।

তৃতীয় উইকেটে রানের চাকা সচল রাখেন মাহমুদউল্লাহ ও তামিম ইকবাল। দুজনই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তামিম ৮০ রান করে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখালেও অযাচিত শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন। মিরওয়েজ আশরাফের বলে লং অফে ক্যাচ দেন দেশসেরা ওপেনার। এ ইনিংস খেলার পথে তামিম ইকবাল প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

হাফ সেঞ্চুরির পর তামিম ইনিংসটি বড় করলেও মাহমুদউল্লাহ ১২ রান যোগ করে নবীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। হাঁটু মুড়ে বসে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ৭৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করা মাহমুদউল্লাহ। ৪০.৪ ওভারে তার ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২০৩।

এরপর শেষ ৫৬ বলে মাত্র ৬২ রান জমা করে টাইগাররা। এ রান করতে শেষ ৬ উইকেট হারায় মাশরাফির দল। আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র লড়াই করেন সাকিব আল হাসান। ৪০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৪৮ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মুশফিকুর রহিম ৬, সাব্বির রহমান ২, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৪, তাসকিন আহমেদ ২ ও তাইজুল ইসলাম ১১ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন।

বল হাতে দৌলত জারদান ৭৩ রানে নেন ৪ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ অভিষেক হওয়া পেসার নাভীন-উল-হক ৬২ রানে নেন ১ উইকেট। স্পিনার মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান ২টি করে উইকেট নেন।

বোলিংয়ের শুরুতে ও মাঝপতে নড়বড়ে বাংলাদেশ। তবে ইমরুল এজন্য অনেকটাই দায়ী! নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তাসকিন প্রথম বলেই পেতেন উইকেটের স্বাদ। কিন্তু স্লিপে থাকা ইমরুল ক্যাচটি তালুবন্দি করে নিতে ব্যর্থ। জীবন পাওয়া মোহাম্মদ শাহজাদ পেছনে না তাকিয়ে হাত খুলে আক্রমণ চালানো শুরু করেন। ফলও পেয়ে যান দ্রুত। ২০ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় দ্রুত ৩১ রান তুলে নেন।

কিন্তু ভাগ্য বেশিক্ষণ তার পাশে থাকেনি। টাইগার দলপতি মাশরাফি ডানহাতি ব্যাটসম্যানের উইকেট তুলে নিয়ে আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত করেন। পরের ওভারে সাকিব ফিরে এসে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাবির নূরীর উইকেট তুলে নেন। এ উইকেটের মধ্য দিয়ে সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এরপর ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে যায়। তৃতীয় উইকেটে রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদী ১৪৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা রহমত শাহ বাংলাদেশের বোলারদের বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন। ঢাকা লিগে মোহামেডানের হয়ে ৫ ম্যাচে ৭৯ রান করলেও প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নেমে রহমত শাহ দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। উইকেটের চারপাশে শট খেলতেও দ্বিধাবোধ করেননি।

তাদের দুজনের প্রতিরোধ ভাঙার সুযোগ এসেছিল। ৪০তম ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন হাশমতউল্লাহ। সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফিল্ডার মাহমুদউল্লাহ। অবশ্য পরের ওভারে সাকিব তুলে নেন রহমত শাহর (৭১) উইকেট। ৬৩ রানে জীবন পাওয়া বাঁহাতি হাশমতউল্লাহ স্কোরবোর্ডে ৯ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফিরেন। তাইজুলের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ৭২ রানে ফিরেন হাশমতউল্লাহ।

এরপর জয়ের জন্য ৩৯ বলে ৫৬ রান প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের। কিন্তু তখনই জয়ের পথে হাঁটা শুরু বাংলাদেশের। ৪৬তম ওভারে মাশরাফি ফেরান নাজিবুল্লাহ জারদানকে (৭)। ৪৭তম ওভারে সাকিব মাত্র ১ রান ব্যয় করে চাপ সৃষ্টি করেন।

৪৮তম ওভারে তাসকিন এক ওভারে পান ২ উইকেট। দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী (৩০) ও বর্তমান অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই (১০) তাসকিনের শিকার হন। নিজের নবম ওভারে রুবেল হোসেন পান প্রথম সাফল্য। রশিদ খানকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচ নিয়ে আসেন।

শেষ ওভারে ১৩ রান প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের। মাশরাফি বল তুলে দেন তাসকিন। সদ্য বোলিং অ্যাকশনে বৈধতা পাওয়া তাসকিন শেষ ওভারেও নেন ২ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ক্ষুধা তার মধ্যে কতটুকু ছিল, বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতিয়ে তা দেখেয়েছেন তাসকিন। শেষ ওভারে ৫ রান ব্যয় করে বাংলাদেশকে ৭ রানের জয় উপহার দিয়েছেন তাসকিন। দিন শেষে তার বোলিং ফিগার ৮-০-৫৯-৪।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন সাকিব আল হাসান।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল