January 24, 2017, 4:59 am | ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, রাত ৪:৫৯

বিচার চাইতে এসেছি

aktarঢাকা জার্নাল: ‘আমরা কাঁদতে আসিনি, শোককে শক্তিতে পরিণত করে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আক্তার জাহানের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিচার চাইতে এসেছি।’

রোববার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহান স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় শিক্ষার্থীরা এ কথা বলেন।

বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবতেই পারিনি জলি আপা এ রকম একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। রাষ্ট্র আমাদের এ হত্যার বিচার করার ক্ষমতা দেয়নি। শুধুমাত্র আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে পারি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘দু-একজন শিক্ষকের জন্য আমাদের সবাইকে কেন প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে? আমরা সত্যের সঙ্গে আছি। আমরা নিজেরাই কমিটি গঠন করে মামলার নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তারপরেও কেন সব ক্ষোভ আমাদের ওপর?’

শোকসভায় আক্তার জাহানের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ভীষণ আগ্রহ ছিল তার ফটোগ্রাফিতে, বেশ কয়েকটি কোর্সও করেছিলেন এর ওপর। ভালবাসতেন উপন্যাস পড়তে ও গান শুনতে। আগ্রহ ছিল বিদেশি নানা ভাষা শেখার প্রতিও। বাদ্যযন্ত্র, ড্রাম বাজাতেও পছন্দ করতেন। স্কুলজীবনে আগ্রহ ছিল তার স্পোর্টসে। অত্যন্ত মেধাবী, সদা স্মিতহাস্য, রুচিশীল, পরিপাটি এই মানুষটি ছিলেন বিভাগের সবার প্রিয় মুখ।’

তিনি বলেন, ‘আকতার জাহানের জীবন সঙ্গী ছিলেন এই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদ। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। একমাত্র সন্তান সোয়াদ তার বাবার সঙ্গেই থাকত। আর তিনি থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ছোট্ট কক্ষে, একাকী, নিঃসঙ্গ অবস্থায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের যে কক্ষে তিনি সর্বশেষ ছিলেন, তার সামনে সাজানো ছিল কিছু ফুলের গাছ। নিয়মিত যত্ন নিতেন গাছগুলোর। হয়তো মনের গহীনে জমে থাকা কষ্টগুলো মাঝে মাঝে শেয়ার করতেন প্রিয় গাছগুলোর সঙ্গে।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জোবাইদা জ্যোতি বলেন, ‘আকতার জাহান ম্যাম তার বেতনের একটা অংশ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতেন, যা ছিল সবার অগোচরে। যাকে তিনি সাহায্য করতেন সে কখনো কোনো দিনও জানতে পারতেন না কে তাকে সাহায্য করল এমনই পরোপকারী ছিলেন তিনি। ম্যামের প্রস্থানে যে স্থান শূন্য হলো তা আর কোনোদিন পূরণ হবে না।’

শোকসভায় আরও স্মৃতিচারণ করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অধরা মাধুরী, আলী হুসাইন মিঠু, মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাতিল সিরাজের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তৃতা রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মশিহুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজম, বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক গোলাম সাব্বির, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

এ ছাড়াও শোকসভায় স্মৃতিচারণ করেন আকতার জাহানের বড় বোন ইশরাত জাহান ও ছোট ভাই কামরুল হাসান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী মাহবুবা কাণিজ কেয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মাধুরী রায়সহ আরও অনেকে।

শোকসভায় বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. দিল আফরোজা, মাহাবুবুর রহমান, কাজী মামুন হায়দার, মাহাবুর রহমান, প্রভাষক আব্দুল্লাহীল বাকী, মামুন আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

শোকসভার আগে রোববার বিভাগের সামনে থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিভাগের ১২৩ নং কক্ষে মিলিত হয়।

এদিকে আকতার জাহানের সাবেক স্বামী ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার জন্য বিভাগের প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন করেন সভাপতি বরাবর।

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাব জুবেরী ভবনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির নিজ কক্ষ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেন পুলিশ।

ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের কাছে আকতার জাহান জলির লাশ হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে উল্ল্যেখ করা হয়েছে। পরে জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতনামাদের নামে মামলা দায়ের করেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আকতার জাহানের আত্মহত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্বামী ও বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এবং শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে তিনি বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল