March 30, 2017, 8:32 pm | ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ৮:৩২

আকতার জাহানের মোবাইলের তথ্য নিয়ে এগোতে চায় পুলিশ

akter-jahanঢাকা জার্নাল: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ঘটনার দশদিনেরও বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশের হাতে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসেনি। তবে তার কক্ষ থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত তিনটি মোবাইল ফোনের তথ্য নিয়ে তদন্তে এগোতে চায় পুলিশ। এজন্য মোবাইল ফোনগুলোর তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সহকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকতার জাহানের ফোন কল ও এসএমএস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে যাবে। ইতোমধ্যে তিনটি মোবাইল ফোন থেকে কিছু তথ্য মিলেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এছাড়া আকতার জাহানের ঘনিষ্ঠজন ও বিভাগের সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও রাজশাহীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা তদন্ত কাজে যুক্ত আছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাবির জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে আকতার জাহানের (৪৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় চার বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার।  সাবেক স্বামী তানভীর আহমদ একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। একমাত্র সন্তান আয়মান সোয়াদ ঢাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

ঘটনার পর থেকে আকতার জাহানের কক্ষটি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। ওই কক্ষ থেকে পুলিশের জব্দকৃত তালিকায় রয়েছে- সুইসাইড নোট, ২টি ল্যাপটপ, ৩টি মোবাইল ফোন, ঘুমের ট্যাবলেট (ইজিএম), তরল পদার্থ, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও শেষ সময়ে তার পরিহিত কাপড়ের কাটা অংশ, ৪টি পেন ড্রাইভ ও ২টি বালিশের কভার।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ব্রজগোপাল বলেন, ‘এখনও কোনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য মেলেনি। তবে তদন্ত থেমে নেই। ভিসেরার জন্য নমুনাগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি কী কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন সেটি জানার জন্য আমরা অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলছি। মোবাইল ফোনের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তথ্য পেলে আমরা অনেকটা পরিস্কার হতে পারবো’।

এসআই ব্রজগোপাল বলেন, ‘শিক্ষক আকতার জাহানের মরদেহ উদ্ধারের পর তার কক্ষে সুইসাইড নোট মিলেছে। তবে সেই লেখা তারই হাতের কি-না তা নিশ্চিত হতে সুইসাইড নোটের কপি ও বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা তার হাতের লেখার কপি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে’।

মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) একরামুল হক বলেন, ‘আকতার জাহানের কক্ষ থেকে জব্দকৃত ফোনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি যাদের সাথে মিশতেন তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ফোনের তথ্য নিয়ে কাজ করছি। তবে এখনই তা জানানোর মতো নয়। তার সহকর্মীদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করছি। তবে তার কক্ষ থেকে যে ডায়েরি পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল তা সঠিক নয়’।

মতিহার থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আকতার জাহানের ছোট ভাই কামরুল হাসান রতনের দায়ের করা মামলার এজহারে বলা হয়েছে, ‘সুইসাইড নোট থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, তিনি (আকতার জাহান) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন’।

ঢাকা জার্নাল, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল