July 23, 2017, 8:57 pm | ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং,রবিবার, রাত ৮:৫৭

সরকার কতটা আন্তরিক?

0,,16621305_401,00ঢাকা জার্নাল: ককটেল কেড়ে নিলো দুটি কচি প্রাণ৷ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে লড়ছে অন্তু৷ খুনিয়াগাছে খুন হয়েছে শিশুমন৷ প্রশ্ন হলো, এমন অপতৎপরতা রুখতে সরকার কতটা আন্তরিক?

মা দুপুরের খাবার খাইয়ে বলেছিলেন, ‘এবার খেলতে যাও’৷ কুলসুম খালাতো বোন রিয়াকে নিয়ে বাসার সিঁড়িতে বসেই আপনমনে খেলছিল৷ হঠাৎ বিকট শব্দ৷ ধোঁয়ায় ঢেকে গেল চারপাশ৷ বড়রা ছুটে এসে দেখে ৮ বছরের কুলসুম আর ওর বছর চারেকের ছোট রিয়া জবাই করা মুরগির মতো তড়পাচ্ছে৷

ওদের হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন, পা, মুখ, বুক-পেট ক্ষতবিক্ষত, রক্তে ভেসে যাচ্ছে সিঁড়ি৷ তখন বিকেল সাড়ে তিনটা৷ মিরপুর ১৩ নাম্বার থেকে মেয়ে দুটিকে প্রথমে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলেও অবস্থা শঙ্কটাপন্ন দেখে সেখান থেকে নিয়ে যেতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে৷ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ রিয়ার বাবা রিয়াজ জেনে যান ‘সব শেষ’, কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘‘মাইয়াডা সকালে ডাইকা দেয়, আমি এহন অর ঘুম ভাঙাই ক্যামনে?” রিয়ার এ ঘুম আর কোনোদিন ভাঙবেনা৷ কুলসুমের প্রাণও কেড়ে নিয়েছে ককটেল৷ (দৈনিক প্রথম আলো, ২৫ মার্চ ২০১৩)

চট্টগ্রাম অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তু৷ ও যাচ্ছিল চেরাগী পাহাড়ের কাছের এক কোচিং সেন্টারে৷ মা শিউলি বড়ুয়া ছিলেন সঙ্গে৷ হেমসেন লেইনের কাছে যেতেই একটি মোটর সাইকেল ছুটে আসে, মোটর সাইকেল থেকে ককটেল ছুড়ে মারে দুই তরুণ৷

শিউলীর তেমন কিছু না হলেও তাঁর মেয়ে পড়েছে ডান চোখ হারানোর শঙ্কায়৷ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তুর চোখে অস্ত্রোপচারের পর শিউলী বলছিলেন,  ‘‘কারো সাতেপাঁচে নেই আমরা৷ আমাদের পরিবারের কেউ কখনো রাজনীতির ধারেকাছে যায়নি৷ তবু রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হতে হলো আমার সন্তানকেই৷ আমাদের অপরাধটা কোথায়?” (দৈনিক আজাদী, ২৯ মার্চ ২০১৩)

বেশ কিছু জাতীয় দৈনিকেই প্রকাশিত হয়েছে একটি ছবি৷ সারি সারি বিছানা৷ বিছানায় শুয়ে আছে কয়েকটি শিশু৷ লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের দুটি স্কুলের শিক্ষার্থী ওরা৷ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের দিন স্কুল দুটো খোলা ছিল৷

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরতাল সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুল দুটিতে হামলা চালায়৷ হামলাকারীরা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে, বইপত্র ছিঁড়ে ফেলে৷ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় শিক্ষকদের তো লাঞ্ছিত করা হয়ই, এমনকি শিশুরাও হয় হামলাকারীদের রোষের নির্মম শিকার৷ প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়েছে খুনিয়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুনিয়াগাছ উচ্চবিদ্যালয়ের আহত ১১ জন শিশু শিক্ষার্থীকে৷ (দৈনিক প্রথম আলো, ২৮ মার্চ ২০১৩)

কুলসুম আর রিয়া আর কোনোদিন খেলবেনা৷ মা-বাবার অশ্রু শুকিয়ে গেলেও সন্তান হারানোর ব্যথাটা থাকবে চিরকাল৷

অন্তু ঢাকায়৷ দৈনিক আজাদীর প্রতিবেদক জানিয়েছেন, মেয়েটির এখন উন্নততর চিকিৎসা চলছে৷ চোখ হয়ত ভালো হয়ে যাবে, তবে সকালের আলোয় ওই চোখে যে দুঃস্বপ্ন জমেছে তা থেকে বোধহয় মুক্তি মিলবে না কোনোদিন৷

প্রাথমিক চিকিৎসা হয়তো লালমনিরহাটের ১১জন শিক্ষার্থীর রক্তের দাগ, ক্ষতচিহ্ন মুছতে পেরেছে৷ কিন্তু শিশুমন যে মার খেয়ে গেল তার ‘চিকিৎসা’ দেশে আছে কিনা, থাকলে ওরা সেই ‘সেবা’ পাবে কিনা বলা মুশকিল৷

কুলসুম, রিয়ার মৃত্যুকে মিছিল না হতে দেয়ায়, অন্তুদের নিরাপত্তাহীনতার পাশে অভয় হয়ে দাঁড়াতে, খুনিয়াগাছে শিশুমন খুনিদের রুখতে সরকার কতটা আন্তরিক?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল