March 29, 2017, 1:50 am | ২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং,বুধবার, রাত ১:৫০

পিতার প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

sheakh Mujibঢাকা জার্নাল : বিনম্র শ্রদ্ধা, গভীর শোক আর ভালোবাসায় জাতি স্মরণ করেছে বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী পালিত হয় জাতীয় শোক দিবস।

সোমবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সকাল থেকেই শোকার্ত লাখো জনতার ঢল নামে। শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

preপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী যান যে ভবনে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে খুন হন সেই বঙ্গবন্ধু ভবনে। সেখানে বেশ কিছু সময় কাটান তিনি।

সকাল ৭টার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে বের হয়ে বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে।

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠন, ১৪ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি অধিদফতর, সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর নির্বিশেষে সর্বস্তরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে আসেন।

রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার জনতার স্রোত এসে মিশতে থাকে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে। পুরো এলাকাজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে। রাসেল স্কয়ার থেকে ৩২ নম্বর সড়ক জুড়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জনতা।PM 1

জনতার স্রোত ছুটে চলে বনানী কবরস্থানেও। সেখানে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ বনানীতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে। সেখানে তিনি সকাল ১০টার পরে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাধি প্রাঙ্গন থেকে চলে আসার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও নামে জনতার ঢল।

এ বছর ছিলো বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদাৎ বাষির্কী। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। দিনের শুরুতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

PMরাজধানীসহ সারা দেশের পাড়া-মহল্লায় আগের রাত থেকেই বাজতে থাকে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ- এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। দুপুরে পাড়া-মহল্লায় রান্না করা খাবার অস্বচ্ছল ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাদ জোহর মসজিদে বঙ্গবন্ধুর জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা হয়।

 

ঢাকা জার্নাল, আগস্ট ১৫, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল