January 19, 2017, 8:15 am | ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, সকাল ৮:১৫

শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের জন্য শিক্ষার্থীদের আদায় করা যাবে না

educationঢাকা জার্নাল: অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি আদায় না করতে নিদের্শ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি বেতন ভাতার অংশের বাইরে কোনো অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না।

মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) বেসরকারি এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি) বেতন ও টিউশন ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত আদেশে এ নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরিপত্রে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালের নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অস্বাভাবিক বেতন ও টিউশন ফি বৃদ্ধি করে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।

‘এ অবস্থায় সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে’।

এতে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা জনবল কাঠামো অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো শ্রেণি-শাখা বৃদ্ধি করা যাবে না। শ্রেণি-শাখার অনুমোদন না থাকলে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বৈধ হবে না। অনুমোদন ছাড়া নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি আদায় করা যাবে না’।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, ‘শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি জনবল কাঠামোতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে’।

‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি বেতন-ভাতার অংশের বাইরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাড়তি ভাতা প্রদানে ইচ্ছুক হলে তার পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন, একজন শিক্ষকের মোট প্রাপ্তি কোনোভাবেই একই স্কেলভুক্ত সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মোট প্রাপ্তির বেশি না হয়’।

‘একজন নন-এমপিও শিক্ষকের বেতন-ভাতার মোট পরিমাণ কোনোভাবেই সমস্কেলের একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতনের চেয়ে বেশি হবে না’।

‘এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বাড়তি বেতন-ভাতা প্রদান করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় আর্থিক চাহিদা নিরূপণ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যমান হারে ফি আদায় করা হলে তার মোট হিসাব প্রদর্শনপূর্বক ঘাটতি/উদ্ধৃত্ত (যদি থাকে) নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বর্ধিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নির্ধারণ করতে হবে’।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) একেএম জাকির হোসেন ভূঞা স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, ‘তবে কোনো অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না। তাছাড়া সংস্থাপন ব্যয় বাবদ ভর্তি নীতিমালায় বর্ণিত সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিয়ের অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না’।

‘এক্ষেত্রে শুধু ঘাটতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ঘাটতি মেটানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ভর্তি ফি ও টিউশন ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে আহরণের প্রস্তাব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশসহ অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক তা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাখিল করবেন’।

‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে তা যথাযথ প্রতীয়মান হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)-এর কাছে উপস্থাপন করবেন’।

আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) অনুমোদন করলে বিদ্যালয় ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও জানানো হয় পরিপত্রে।

ঢাকা জার্নাল, আগস্ট ০৯, ২০১৬

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল