March 30, 2017, 8:27 pm | ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ৮:২৭

বন্দুক তাক করে রেখেছে এক জঙ্গি, ঝাঁপ দিলাম ২৫ ফুট নিচে

makharঢা্কা জার্নাল : ‘ততক্ষণে পুলিশ আমাদের রেস্তোরাঁটাকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছে। ওরাও তখন বুঝে ফেলেছিল, এবার লড়তে হবে শেষ যুদ্ধটা। সেই সময় ওরা এদিক ওদিক ছুটোছুটি করতে করতে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ছিল। দেখলাম, ডিনার টেবিলে বসা এক ইতালীয়ের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেছে এক জঙ্গি। গুলি ছুটে আসছে নানা দিক থেকে। একটা গুলি তো আমার মাথার ঠিক ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেল। মেঝেতে শুয়ে পড়লাম প্রথমে, বাঁচতে। কিন্তু শুয়ে শুয়েই ভাবলাম, এ ভাবে কতক্ষণই বা বাঁচতে পারব! কারণ, ওরা মেঝেতে মরার মতো পড়ে থাকলেও তো ছেড়ে দেবে না। কাছে এসে গায়ে হাত দিয়ে দেখবে, বেঁচে আছে কি না। তার পর যদি দেখে, কেউ বেঁচে আছে, তা হলে তাকে গুলি করে বা তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে মারবে।’

উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে গড়গড়িয়ে বলে যাচ্ছিলেন গুলশানের ঘটনা জাকোপো বিওনি। ওই রেস্তোরাঁর যে দুই ইতালীয় শেফ পালিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন, তাঁদের একজন  বিওনি। গত শুক্রবার কীভাবে পালিয়েছিলেন ওই রেস্তোরাঁ থেকে, একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তা সবিস্তারে জানিয়েছেন বিওনি।

তিনি বলেন, ‘বাঁচার জন্য আমাদের রেস্তোরাঁর পিছনের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে দেখলাম, নীচে রেস্তোরাঁর সামনে পুলিশের সঙ্গে কার্যত, খণ্ডযুদ্ধ চলছে জঙ্গিদের। গুলি, গ্রেনেড ছুড়ছে জঙ্গিরা। পাল্টা গুলি চালাচ্ছে পুলিশ। ভাবছিলাম, কোন দিকে যাব? ছাদ থেকে কোন দিকে লাফ মারব? দেখলাম, রেস্তোরাঁর পিছন দিকে গলির মধ্যে একটা বাড়ি আছে। তার ছাদে লাফিয়ে পড়া যায়। কিন্তু ওই বাড়িটা ছিল প্রায় ২০/২৫ ফুট নিচে। মানে, ঝাঁপ দিয়ে দুই তলা নিচে নামতে হবে। কয়েক মিনিট ভাবলাম। যদি কোমরের হাড়গোড় ভেঙে যায়! পরে ভাবলাম, গেলে যাবে। গুলি বা চাপাতির কোপ খেয়ে তো মরতে হবে না! এই ভেবেই ঝাঁপ দিয়ে নামলাম রেস্তোরাঁর পিছনের দিককার ওই বাড়িটার ছাদে। সেখানেই ছিলাম বহুক্ষণ। বন্দুকযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বেশ কিছুক্ষণ লুকিয়ে ছিলাম ওই বাড়িটাতে, ভয়ে। যদি পরে চোরাগোপ্তা রেস্তোরাঁ থেকে কেউ বেরিয়ে এসে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে! আমাকে তো লাফিয়ে ছাদে নামতে দেখে খুব হকচকিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ির লোকজন। ভয় পেয়ে ওই বাড়ির দু’টি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে চেঁচিয়ে উঠেছিল। তারপর ওঁরা সব কিছু বুঝতে পেরেছিলেন। তখন ওরাই আমাকে তাদের ঘরে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে যত্ন করে আমাকে খাইয়েওছিলেন। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ওই বাড়িতেই ছিলাম। একবার পুলিশ এসে ওই বাড়িতেই আমার খোঁজখবর নিয়ে গেল। আর তখনই ঠিক করে ফেললাম, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই বাড়ি ছেড়ে আমাকে বেরিয়ে যেতে হবে। না হলে আরও কত পুলিশি ঝামেলা পোহাতে হবে আমাকে, কে জানে! আর আমার জন্য ওই বাড়ির লোকজনকেও থাকতে হবে দারুণ দুশ্চিন্তায়।’

বিওনি বলেন, ‘যেই ভাবা, সেই কাজ। আমার সঙ্গে ছিল দুটি ব্যাগ আর পাসপোর্ট। তাই নিয়েই পড়িমড়ি করে ছুট লাগালাম বিমানবন্দরের দিকে। দেরি না করে চেপে বসলাম ব্যাঙ্ককগামী প্রথম ফ্লাইটেই।’

বাড়ি ফেরার জন্য আর তর সয়নি বিওনির। সোমবারই ব্যাঙ্কক থেকে রওনা হয়ে গিয়েছেন ইতালিতে। সূত্র : আনন্দবাজার

ঢাকা জার্নাল, জুলাই ০৫, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল