December 8, 2016, 12:22 am | ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ১২:২২

মানব পাচার প্রতিরোধ, আইন প্রয়োগে কঠোর হচ্ছে সরকার

manobঢাকা জার্নাল: মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। তাই মাঠে নামছে ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ওদমন আইনকে সামনে রেখে। একই সঙ্গে, পাচার প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কমিটিও গঠন কর‍া হচ্ছে। পাশাপাশি পাচারের শিকারদের সুরক্ষা ও সহায়তা দিতেও নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক পদক্ষেপ।  

ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা তিনটি খসড়া বিধিমালার দুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর একটি বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পথে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল বিধিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিধিমালা চূড়ান্ত হলেও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে রয়েছে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা

বিধিমালা তিনটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ অ্যাকশন শুরু হবে।

২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে থাইল্যান্ডে অভিবাসীদের কবর খুঁজে পাওয়ার পর সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের থাইল্যান্ড যাওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। এ নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলে মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গড়ে তোলে। তবে মানব পাচার প্রতিরোধ ও ভিকটিমদের সহায়তায় পুরো পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজন পড়ে পুরো আইন প্রয়োগের। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত্র মন্ত্রিসভা কমিটির একাধিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসে বিধিমালা করার। তাই আইনের  বিধান মেনেই প্রস্তুত করা হয় তিনটি বিধিমালা।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই যাতে মানব পাচার না হয়, সে ব্যবস্থা নিতেই এই পদক্ষেপ।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালাটি করা হয় আইনের ৪৬ ধারার ক্ষমতাবলে। বিধিমালায় মামলা, পাচারের শিকার ভিকটিমদের উদ্ধার, পুনর্বাসন, প্রত্যাবাসন, প্রত্যাবর্তন, সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  

পাচার প্রতিরোধে তথ্য সংগ্রহ
পাচার সংক্রান্ত্র বেআইনি কাজ, তৎপরতার ধরন, ব্যাপ্তি ও প্রবণতা, ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র, অভ্যন্তরীণ এবং আন্ত‍ঃসীমান্ত পথ ও কৌশলের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। মানবপাচারে ব্যবহার করা পরিবহন, আবাসন ও সংঘবদ্ধ পাচারকারিদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত তথ্য, মূল হোতা, দালাল ও তাদের আশ্রয়দাতাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

ইউনিয়ন পরিষদে নিবন্ধন
নিজ এলাকা ছেড়ে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া অথবা কাজের উদ্দেশে বাইরে চলে গেছে এমন ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান রাখতে ইউনিয়ন পরিষদে ওই ব্যক্তির নাম পরিচয়, ঠিকানা এবং যাবতীয়তথ্য রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এমনকি প্রেরণকারি এবং যার কাছে যাবে তারও তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটি এ কাজের তদারকি করবে।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য ভাণ্ডার
পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন, সুরক্ষা এবং মামলার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি তথ্য ভান্ডার করবে সরকার। জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা এই তথ্যভাণ্ডার পরিচালনা করবে। তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত তথ্য ভিকটিমের গোপনীয়তা,নিরাপত্তা, সুনাম এবং মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে ব্যবহার করা হবে।  

দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা ও প্রত্যর্পন চুক্তি
অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেবে সরকার। মানব পাচারের অভিযোগে কোনো ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলে কিংবা দেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশে অবস্থান করলে অভিযুক্তকে যতদ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ১৯৭৪ সালের এক্সট্রাডিশন অ্যক্ট অনুসারে উদ্যোগ নিতে হবে।

দূতাবাসের দায়িত্ব
মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্তকরণ, উদ্ধার ও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মিশন বা দূতাবাসের দায়িত্ব হচ্ছে- কোনো বংলাদেশি নাগরিক বিদেশে পাচার হয়েছে মর্মে তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বা ওই দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ওই ব্যক্তিকে সন্ধান ও শনাক্ত করবে। শনাক্ত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় দেশে ফেরত পাঠাবে।

মামলা, নিবন্ধন ও জিজ্ঞাসাবাদ
আগে মানব পাচারের কোনো ঘটনা থাকলে এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের পর মামলা দায়ের করবে পুলিশ। ঘটনা রেকর্ড করে মামলা দায়েরের পর এ সংক্রান্ত্র তথ্য মনিটরিং সেলে পাঠাতে হবে।

অন্যদিকে ভিকটিমকে উদ্ধারের পর প্রথম আট ঘণ্টা কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা প্রশ্ন করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া যাবে নিবন্ধনের জন্য। পুলিশ ছাড়া ভিন্ন কোনো সরকারি বা সেসরকারি সংস্থা উদ্ধার করলে ভিকটিমকে প্রয়োজনে নিকটস্থ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে।

নির্ধারিত সময়ের পর পুলিশ বন্ধুত্বসুলভভাবে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করবে সম্মানের সঙ্গে এবং প্রবেসন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে।

মামলা তদারকি ও মনিটরিং সেল
বিভিন্ন জেলা থেকে তথ্য নিয়ে মনিটরিং সেল পৃথকভাবে একটি কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য ভাণ্ডার করে তা সংরক্ষণ করবে। এই তথ্যভাণ্ডার অন্যান্য সরকারি সংস্থা  কর্তৃক ব্যবহার হবে। মনিটরিং সেল এবং সংশ্লিষ্ট থানা সময়ে সময়ে মানব  পাচারকারিদের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত তালিকা বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করবে।

প্রত্যাবাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি
মানব পাচারের ভিকটিমকে স্বদেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশের নাগরিককে দেশে প্রত্যাবর্তন,প্রত্যাবাসন এবং সমাজে অন্তর্ভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারি সংস্থাসহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা কিংবা বেসরকারি সংস্থা এই বিধিমালা অনুসরণ করবে।

ঢাকা জার্নাল, মে ৩১, ২০১৬

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল