July 25, 2017, 8:45 pm | ২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, রাত ৮:৪৫

ফাঁসতে পারেন বিএনপির একাধিক নেতা

aslamঢাকা জার্নাল : ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ‘ষড়যন্ত্রে’ ফাঁসছেন বিএনপির আরো কয়েকজন নেতা। তারা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

দলটির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে রিমান্ডে নিয়ে এ ব্যাপারে তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। অবশ্য আসলামসহ ইতিমধ্যে বিএনপির ৭ নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এদিকে সোমবার আসলাম চৌধুরীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে আসলাম ভারত যান। মোসাদের এক এজেন্টের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি একা উপস্থিত থাকলেও, পরিকল্পনায় বিএনপির আরো কয়েকজন নেতা জড়িত। সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে আলোচনার জন্য আসলামকে তারাই ভারত পাঠিয়ে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। ইসরায়েলের সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্য্যান্ড পাবলিক রিলেশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলামের একাধিক ছবিও হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। আর এ সব তার একার সিদ্ধান্তে কোনোভাবেই করা সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে ওই প্রভাবশালীদের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়েছিলেন আসলাম চৌধুরী।

ঘটনার সঙ্গে অন্যরা জড়িত থাকতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তাকে(আসলাম) রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আর কারা জড়িত তা বের হতে পারে। এত বড় ঘটনা তার একার পক্ষে যে করা সম্ভব নয় তাও ধরে নেওয়া যায়। আর অন্য কারা জড়িত তাদের ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্যও পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে বাকিদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

এদিকে আসলাম চৌধুরীকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে করা মামলা দেখভাল করছেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গ্রেপ্তারের পরই আসলাম স্বীকার করেছেন তিনি বৈঠক করেছেন। তবে ওইসব বৈঠক শুধুমাত্র সৌজন্য ছিল। তিনি এ কথা বললেও যেসব তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে তা বিশ্বাস করা যাচ্ছে না । সেখানে কিভাবে সরকারকে উৎখাত করা যায় তার বিস্তারিত আছে। ওইসব তথ্য পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেছে শুধু আসলাম চৌধুরী একাই নয়, এর পেছনে আরও অনেকেই জড়িত। যাদের নাম আসলাম চৌধুরী রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে বলবেন বলে আশা করছি।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘৫ মার্চ ব্যবসায়ীক কাজে ভারতে গিয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তিনি। সেখানে মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। ভারতে যাওয়ার পর অন্য একজনের মাধ্যমে সাফাদির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় একসঙ্গে ঘুরেছেন, খাওয়া-দাওয়াও করেছেন। আগ্রার মেয়র তাকে সংবর্ধনা দেন। তখন মেন্দি এন সাফাদিকেও সংবর্ধনা জানানো হয়। কিন্তু মেন্দি যে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা তা তিনি জানতেন না বলে জানান।’

ওই বৈঠকর পর বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ সাতজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে গোয়েন্দা সংস্থা। নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও স্থলবন্দরে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এসব জায়গায় কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছে তাদের পাসপোর্ট নম্বরও দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থায় যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারেন সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আসলাম চৌধুরী ছাড়া বাকিদের নাম প্রকাশ করেনি গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে বিষয়টি বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোড়ন তৈরি হওয়ায় দলের হাইকমান্ড আসলাম চৌধুরীকে তলব করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। আসলাম চৌধুরী ভারতে ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে দেখা ও ছবি তোলার ঘটনা স্বীকার করলেও বৈঠক করার কথা অস্বীকার করেন। এ পরিস্থিতিতে আসলাম চৌধুরীকে সব সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিল দলীয় হাইকমান্ড।

পরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর ভারত সফরটি ছিল ব্যক্তিগত। আর ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের সহযোগিতা নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই উঠতে পারে না।’

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা আসলাম চৌধুরী ২০০৩ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি কনফিডেন্স সিমেন্টের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তিনি লায়ন্সেরও গভর্নর হন। ওয়ান-ইলেভেনে তিনি বিএনপির পক্ষে কাজ করেন। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। ২০০৯ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হওয়ায় বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন আসলাম চৌধুরী। এরই পুরস্কারস্বরূপ তাকে এবারের জাতীয় কাউন্সিলে দলের যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যায় খিলক্ষেত থানার কুড়িল-বিশ্বরোড এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের মহানগর (উত্তর) শাখা তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতে তাকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

ঢাকা জার্নাল, মে ১৭, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল