June 27, 2017, 9:27 am | ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, সকাল ৯:২৭

দেশ নিয়ে কিছু ভাবনা

Beautiful-Bangladesh-Flag-For-Facebook-and-Google+-Cover-Image-Photo-Wallpaper-350x129অতিথি লেখক, রানা হানিফ, ঢাকা জার্নাল:‘দুই নেত্রী চাইলে আলোচনার ব্যবস্থা করতে পারি’- এমন কথা কত জনে না বললেন। ভাই দেশটা কি দুই নেত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তি, যে তাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এটা কি কোনো দেওয়ানী মামলা নাকি যে দুজনের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এসব বাদ দিয়ে আসুন আমরা নিজেরাই আলোচনা করি। আলোচনা করে দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে নিজেরাই চলা শিখি।

সংলাপ 

আর কতকাল দুই নেত্রী নির্ভরতা থাকবেন। কেউ আবার মনে করবেন না যে আমি মাইনাস টু ফরমুলা দিচ্ছি। দুই নেত্রী যদি দেশের মঙ্গলের কথা না ভাবেন তাহলে হাজারো উদ্যোগ নিয়ে তাদের ভাবানো যাবে না। অভিযোগমতে- জানেন তো যারা জেগে জেগে ঘুমায় তাদের জাগানো যায় না। কি নেই এই দেশে।

এদেশের মানুষ বাইরের রাষ্ট্রে খেয়ে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে কাজ করে দেশে রেমিটেন্স পাঠায়। কখনো তো তাদের নিয়ে আলোচনা হয় না। যেসব মেয়েরা স্বামী-সন্তান, বাবা-মাকে ফেলে গার্মেন্টেসে কাজ করে দেশের হাতে তুলে দিচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। কখনো তো তাদের নিয়ে আলোচনা হয় না। যে কৃষক রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাঙালীর মুখে অন্ন তুলে দেয়, কখনো তো তাদের নিয়েও আলোচনা হয় না। আর এসব শ্রেণীর মানুষের কষ্টে অর্জিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে ছড়ি ঘুরাবে দুই নেত্রী। ভাই তাদেরকে বর্জন করুন দেখবে সুরসুর করে ভালো হয়ে যাবে। আর যদি নেত্রী নেত্রী করেন তাহলে তারা আপনাদের পেয়ে বসবে।

রাজনীতি ও কিছু কথা

আশপাশের মানুষ হতে সাবধান হন মাননীয় দুই নেত্রী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী দয়া করে আপনাদের আশপাশের মানুষ হতে সাবধান হন। আপনাদের আশপাশের মানুষ আপনাদের ভুল বোঝাচ্ছে। মনে রাখবেন আপনারা দুজন আছেন বলেই দেশের প্রধান দুটি দল অখণ্ড রয়েছে। কিন্তু আপনাদের অনুপস্থিতি দুই দলের জন্যই না দেশের জন্য হবে একটি সুনামি। আপনারা রাজনীতিতে না থাকলে বা আপনারা আপনাদের যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী (সন্তান হতে হবে এমন না) না রেখে গেলে দেশে দীর্ঘ মেয়াদী অগণতান্ত্রিক শাসন (শোষন) আসবে। কিন্তু সন্দেহ লাগে সম্প্রতি আপনাদের দুজনের কথা ও কাজ দেখে। আজ একজন তো সেনা বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানালেন দেশের শান্তি রক্ষায়। আর আরেকজন অনড় অবস্থায় বসে রয়েছেন। মাননীয় নেত্রীদ্বয় দয়া করে একটু ভাবুন শান্তিরক্ষায় সেনা বাহিনী প্রয়োজন হয় না। আপনারা একটু শান্তি চান তাহলেই হবে।

শাহবাগ নিয়ে কিছু ভাবনা

শাহবাগ স্কয়ার বা প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনকে বির্তকিত করে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন। ফলে এই আন্দোলন নিয়ে বিরোধীরা কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। গতকাল এক টক’শোতে খন্দকার মাহবুব বললেন, ‘এটা পরিকল্পিত আন্দোলন। এভাবে একটা রায় দিয়ে সরকার নিজেই সেই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে প্রমাণ করতে চায়, এই ট্রাইব্যুনার বা রায়ে সরকারের কোনো হাত নেই।’ ব্যারিস্টার রফিকুল হক বললেন, ‘এমন আন্দোলন হলে বিচারকরা ভয় পেয়ে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দিবেন। তখন তো আর বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে না। আর সরকারও এটা চাচ্ছে।’ তাদের দুজনের এমন কথা বলার সুযোগটা দিয়েছে আওয়ামী লীগই। আন্দোলনটা যখন সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্মের কাছে মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো তখন সবাই এটার সঙ্গে একাত্মা প্রকাশ করেছে। কিন্তু এখন সেখানে শুধু জয় বাংলা শ্লোগান আর ছাত্র লীগের ব্যানার দেখা যাচ্ছে। আসলে আওয়ামী লীগ কি চাচ্ছে এটায় বোঝা দায় হয়ে গেছে। আন্দোলনটিকে রাজনীতিকরণ থেকে রক্ষা করা উচিত। গণজাগরণ কখনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হয় না। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন এই আন্দোলনের মদদ দাতা আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ এখানে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করছে। সর্প হয়ে দংশন আর ওঝা হয়ে ঝাড়ছে।

আমি নব্য রাজাকার

আজ আমি রাজাকারের মতো কথা বলবো। বলতে পারেন আমি একটা ডিজিটাল রাজাকার। নব্য যুদ্ধাপরাধী বলুন তাতেও ক্ষোভ নেই। আমার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করুন তাতেও আপত্তি নেই। কেউ যদি আমার সঙ্গে কথা বলা, চলা ফেরা করতে না চান তবুও আমি আজ বলবো। কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়নি এই ক্ষোভে এ্যাক্টিভিস্টরা নাকি শাহবাগ স্কায়ার ঘোষণা করেছেন। দারুন-অভূতপূর্ব ঘটনা। কতটা হুজুগে মাতাল আমরা তার প্রমাণ এই স্কায়ার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমিও চাই। অবশ্যই চাই এবং চাই তাদের ফাঁসি হোক।

স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে এটা যেমন সুখের কথা তেমনি দুখের কথা স্বাধীনতা আমাদের কি দিয়েছে। শুধুই একটা স্বাধীন ভূ-খণ্ড। শাসকের শোষন, বিত্তবানদের দুর্নীতি।

এখনো ক্ষমতাবানরা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিচ্ছে। এখনো সংখ্যা লঘুরা মার খাচ্ছে অহরহ। ধনী আরো ধনী হচ্ছে আর গরিব মরছে না খেয়ে। গণতন্ত্রের নামে চলছে দুই পরিবারের রাজতন্ত্র।

যারা কাধে কাধ মিলিয়ে, ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধ করলো তাদের মধ্যে কেনো আজ বিভাজন? কেনো একে অন্য বলছে তুই রাজাকার। যদিও আগে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলে এটি হত না।

আজ দু:খ একটাই আমার দেশে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ মানুষকে মরতে হয় দিবালোকে শাসক শ্রেণীর চাপাতির আঘাতে। সাগর-রুনিকে জীবন দিতে হয় সত্য কথা বলার জন্য। অভ্যন্তরিণ ষড়যন্ত্রে জীবন দিয়েছে অর্ধ শতাধিক সেনা কর্মকর্তা। কোথায় ছিলেন এ্যাকটিভিস্টরা। তখন তো কোনো স্কয়ার ঘোষণা করলেন না। দেশ যখন একটা অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবমান তখন কোথায় আপনাদের এ্যাক্টিভিটিজ। দেশে একটা ধর্ষণের প্রতিবাদে তো শাহবাদ স্কায়ার গঠন করলেন না। নাকি এখন নারী ধর্ষণ জায়েজ হয়ে গেছে। নাকি বিশ্বজিৎদের প্রকাশ্যে হত্যা করাটা স্বাধীনতার সুফল। লজ্জা লাগে আমাদের এই আতলেমি দেখলে। এমন ভাব ধরেন একেক জন যেন, সবাই চে, সবাই লেলিন, সবাই মাও সেতুং। ডুগডুগি বাজিয়ে গান গাইলেই লাল আন্দোলন শেষ হয় না। এ কথাও বলি ভাংচুর অগ্নি সংযোগ আর আর মানুষ হত্যা করেও আন্দোলন হয়না।

আজ যদি দেশটা পাকিস্তান থাকতো তাহলে সেদিন যারা মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছিলেন তাদের ফাঁসি লটকাতে ৪২ বছর সময় নিতো না তারা। এরপরও হয়তো অনেকেই বলবেন আমি নব্য রাজাকার।

ফেসবুক মন্তব্য থেকে সংগ্রহিত 

রানা হানিফ, লেখক- সাংবাদিক, ৩০ মার্চ, ২০১৩

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল