July 27, 2017, 10:41 pm | ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ১০:৪১

যেভাবে হরতাল সফলের চেষ্টা

gulshan20130326210648ঢাকা জার্নাল: সিলেটে পুলিশের ওপর শিবিরের গুলি-ভাংচুর, রাজশাহীতে সংঘর্ষ, লক্ষী বাজারে ককটের বিস্ফোরণ, রাজধানীর গুলশানে মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, তেজগাঁ-সবুজবাগে গাড়িতে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ, ধানমন্ডিতে ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সকাল থেকে আতঙ্ক সৃষ্ঠি শুরু হরতাল সমর্থনকারীদের।

বিএনপি’র টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের আগের দিন ময়মনসিংহে ট্রেনে আগুন এবং রাজধানীতে গাড়িতে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি শুরু করে হরতাল সমর্থনকারীরা।

তবে সকাল থেকে পিকেটারদের মাঠে দেখা যায়নি। গলি, ঘুপচি থেকে বেরিয়ে এসে এই অবস্থা সৃষ্টি করছে। এই অবস্থা মোকাবেলা করতে পুলিশও সক্রিয় রয়েছে মাঠে। মাঠে রয়েছে বিজিবি।

সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়া পল্টনেও নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরকে তালাবদ্ধ করে সবাই বলে যায়।

সিলেট 

জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার মধ্য দিয়ে সিলেটে টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। ভোরে পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় হরতাল সমর্থকরা।

বুধবার সকাল ৬টায় নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশ বহনকারী একটি লেগুনায় ঝটিকা হামলা চালায় শিবিরকর্মীরা। মোটরসাইকেলে করে ২০/২৫ জনের একদল শিবিরকর্মী পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এসময় ৫ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন।

সকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর দর্শনদেউড়ী এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে শিবিরকর্মীরা। এসময় তারা কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। পৌনে ৮টায় মিছিল করে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল। সকাল সোয়া ৮টায় জিন্দাবাজারে জেলা বিএনপি হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে।

সকাল থেকে নগরীতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চললেও ভারী যানবাহন চলছে না। নগরীর বেশিরভাগ রাস্তাই অনেকটা ফাঁকা, দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, সিলেট থেকে যথাসময়ে  নির্দিষ্ট গন্তব্যে ট্রেন ছেড়ে গেছে।

হরতালে নাশকতা এড়াতে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীর সব গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) রেজাউল করিম জানান, বিচ্ছিন্ন দুয়েকটি ঘটনা ছাড়া সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালিত হচ্ছে। শিবিরকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মাঠে রয়েছে।

রাজশাহী

রাজশাহীতে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল।

হরতাল শুরুতে বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মহানগরীর কাদিরগঞ্জ মোড়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে মহানগর বিএনপি।

মিছিলটি মালোপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় সবাই রাস্তার ওপর বসে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মিজানুর রহমান মিনু। এক পর্যায়ে পাশ থেকে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে হরতাল সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ প্রথম সারির নেতারা মালোপাড়ার কাবিল ম্যানসনে অবস্থিত মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন।

এদিকে সকাল সাড়ে ৭টার সময় শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। শিবির কর্মীরা মহানগরীর হেতেমখাঁ এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় লোকনাথ হাইস্কুলের সামনের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। পরে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে শতাধিক টিয়ারসেল,সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

শিবির কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে। এসময় ইটের আঘাতে আনোয়ার নামের এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পিছু হটলে পুলিশ হেতেমখাঁ ও রাজারহাটা এলাকায় অভিযান চালায়। তবে এসময় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, হরতালে নাশকতা এড়াতে বুধবার ভোরে ধরমপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনসার আলীকে আটক করে। বর্তমানে তাকে বোয়ালিয়া থানায় রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আরও দশজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সকাল সাড়ে ৮ টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজশাহীতে বড় ধরণের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল করছে না। মহানগরীতে রিকশা, অটো রিকশা, হিউম্যান হলারসহ হাল্কা যানবাহন চলাচল করছে।

হরতালে যে কোনো ধরনের নাশকতার রোধে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মহানগরীতে ৩ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সিল্কসিটি ও খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

সকাল থেকেই মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মণিচত্বর, সোনাদীঘির মোড়, আলুপট্টি, কুমার পাড়া, লক্ষীপুর, গৌরহাঙ্গা রেলগেট, বিনোদপুর, তালাইমারী, ভদ্রা, কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বাস টার্মিনাল, কোর্ট, শালবাগান, নওদাপাড়াসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গুলশান

রাজধানীর গুলশানে হরতাল সমর্থনের মিছিল থেকে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মিছিলকারিরা। ১৮ দলের চলা হরতালের প্রথম দিনে বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলশানের ইকবাল টাওয়ারের কাছে ছাত্রদলের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলের এক পর্যায়ে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরে।

জানা গেছে, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় এবং পুরো এলাকায় তল্লাসি শুরু করে। এসময় সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিনসহ ছাত্রদলের দুই কর্মী রুপম ও মোহাম্মদ আলীকে আটক করে পুলিশ।

পুরান ঢাকা

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা বুধ ও বৃহস্পতিবারে টানা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের সর্মথনে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কর্মীরা।

বুধবার সকাল সোয়া আটটার দিকে সুবাভ বোস এভিনিউতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না’র নেতৃত্বে ছাত্রদল কর্মীরা মিছিলটি বের হয়। মিছিলে ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী অংশ নেন।

মিছিলটি থেকে কলরেডি মোড়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হরতাল সমর্থকরা।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইমলাম বাংলানিউজকে বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বনানী

রাজধানীর বনানীতে হরতাল সমর্থনের মিছিল থেকে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মিছিলকারিরা। ১৮ দলের চলা হরতালের প্রথম দিনে বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বনানীর ইকবাল টাওয়ারের কাছে ছাত্রদলের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলের এক পর্যায়ে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরে।

জানা গেছে, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় এবং পুরো এলাকায় তল্লাসি শুরু করে। এসময় সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিনসহ ছাত্রদলের দুই কর্মী রুপম ও মোহাম্মদ আলীকে আটক করে পুলিশ।

এছাড়া রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হরতাল সমর্নকারীরা সহিংসতা চালায়। ঝটিকা মিছিল বের করে।

ঢাকা জার্নাল, মার্চ ২৭, ২০১৩

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল