June 29, 2017, 4:27 am | ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ৪:২৭

জামায়াত কিছু এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল

ctg-jamayat-strike-bg20130204203536ঢাকা জার্নাল: বগুড়াসহ কিছু এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল জামায়াত৷ একারণে তারা কিছুদিন আগে থানা, পুলিশ ফাঁড়ি এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়৷ হামলা চালায় সরকারি সম্পদ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক ভবনে৷

২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল৷ এরপর ৩ মার্চ ভোরে বগুড়া শহরসহ পুরো জেলায় প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির৷ তারা নন্দিগ্রাম ও শাহজাহানপুর থানা ছাড়াও বগুড়া শহরের ৫টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়৷ পুড়িয়ে দেয় নন্দিগ্রাম উপজেলা পরিষদ ভবন৷ ওই দিন বগুড়ার ৮ জেলায় সহিংসতায় ১৫ জন নিহত হন৷ এসব ঘটনায় মোট ৫৪টি মামলায় আসামি করা হয়েছে দেড় লাখ৷ তবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৪ হাজার ব্যক্তির৷ আর এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র ২৫১ জনকে৷

গ্রেফতারের সংখ্যা এত কম কেন? জানতে চাইলে বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, ওই দিনের হামলায় বগুড়ার বাইরে থেকে আসা বিপুল সংখ্যক জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী অংশ নেয়৷ তাদের চিহ্নিত করা যায়নি৷ আর গেলেও তারা তাদের এলাকায় ফিরে গেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত শিবিরের হামলায় তাদের সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকও আহত হয়েছেন৷ এর মানে হল বাইরে থেকে আসা লোকজন তাদের চিনতে পারেনি৷”

হক বলেন, ‘‘এই হামলার ধরন দেখে মনে হয়েছে তারা বগুড়ার পুলিশ এবং প্রশাসনকে আক্রমণের মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল৷ কারণ থানাগুলো তাদের দখলে চলে গেলে তারা সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারত৷ কিন্তু তারা সফল হয়নি৷”

পুলিশ সুপার জানান, জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের আটক নেতারা স্বীকার করেছে ‘সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে’ – এই গুজব তারা পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়েছিল সাধারণ মানুষকে মাঠে নামাতে৷ তারা চেয়েছিল তাদের শক্তির জানান দিতে৷ তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে৷ তবে পুরোপুরি দখলে নেয়া বলতে যা বুঝায় তা তাদের পকিল্পনায় থাকার কথা অস্বীকার করেছেন আটক জামায়াত নেতারা৷

সরকারের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সরাদেশে মোট ১৯টি জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা হয়৷ এরমধ্যে বগুড়া, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, রংপুর, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাণ্ডব আর নাশকতার ধরন একই৷ তাদের প্রধান টার্গেট ছিল পুলিশ এবং সরকারি স্থাপনা৷ তারা কিছু এলাকাকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করকে সক্ষম হয়েছিল৷ পুলিশ প্রশাসন এক সপ্তাহ পরে ওইসব এলাকায় যেতে সক্ষম হয়৷ চট্টগ্রাম মহাসড়কও বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল৷ তাদের টার্গেটই ছিল কিছু এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে শক্তি প্রদর্শন৷

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান কর্ণেল জিয়াউল হাসান  জানান, তারা তাদের শক্তি জানান দিতেই তাণ্ডব এবং সহিংসতা চালিয়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার মূল কারণ হল তাদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে একধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল