June 23, 2017, 7:37 pm | ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৩৭

ওবামার মধ্যপ্রাচ্য সফরে প্রতীকের গুরুত্ব

god_bless_americaঢাকা জার্নাল: ডেড সি স্ক্রলস, ইয়াদ ভাশেম স্মৃতিসৌধ, জিওনিজমের প্রতিষ্ঠাতা টেওডোর হ্যার্ৎসল’এর সমাধি: ইসরায়েলের সুদীর্ঘ অতীতের বিভিন্ন অধ্যায় উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম ইসরায়েল সফরে৷

সফরের এই প্রতীকি দিকটি পরিকল্পিত, কেননা ওবামার এই ‘চার্ম অফেন্সিভ’ বা ইসরায়েলি জনগণের মন জয়ের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই ছিল তাই৷ ২০০৯ সালে ওবামা কায়রোয় যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তাতে তিনি ইসরায়েলের অস্তিত্বের কারণ হিসেবে শুধু হলোকস্টের কথা বলেন৷ ইসরায়েলিরা সেজন্য তাঁকে – সম্ভবত এই সফর অবধি – ক্ষমা করেনি৷

বার্তা

এবার ওবামা ইসরায়েলের সুদীর্ঘ অতীতের বিভিন্ন প্রতীকি স্থান পরিদর্শন করে যে বার্তা রাখতে চেয়েছেন, তা তিনি বৃহস্পতিবার ইয়াদ ভাশেম হলোকস্ট মেমোরিয়ালে নিজের মুখেই বলেছেন: ‘‘তোমাদের এই সুপ্রাচীন দেশে সারা বিশ্বকে শুনিয়ে বলা যায়: ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হলোকস্টের কারণে নয়৷ বরং ইসরায়েল নামের ইহুদি রাষ্ট্রটি থাকার অর্থ, হলোকস্ট আর কোনোদিন ঘটবে না৷”

আধুনিক জিওনিজমের প্রতিষ্ঠাতা টেওডোর হ্যার্ৎসল পরলোকগমন করেন ১৯০৪ সালে, ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টি হবার অনেক আগে৷ তাঁর সমাধিতে ইহুদি প্রথায় পাথর রেখেছেন ওবামা, নিহত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইৎশাক রাবিনের সমাধিতেও রেখেছেন৷ এবং সে পাথর নাকি ওয়াশিংটনের মার্টিন লুথার কিং স্মৃতিসৌধের প্রাঙ্গণ থেকে আনা৷ সবই প্রতীকি৷

স্তর

ইয়াদ ভাশেম হলোকস্ট স্মৃতিসৌধে ওবামা যেভাবে তাঁর পুষ্পার্ঘ রেখেছেন, সেই দৃশ্য তাঁর এই সফরে আবেগ-অনুভূতির এক নতুন স্তর সংযোগ করবে, বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷ আরো বড় কথা, ওবামা বুধবার জেরুসালেমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতি যে শান্তির আবেদন রেখেছেন৷ ওবামা তাদের বলেছেন, অধিকৃত এলাকার ফিলিস্তিনিদের অবস্থাটা একবার ভেবে দেখতে৷ এই ছাত্ররাই তো তাদের নেতাদের ওপর চাপ দেবে, ঝুঁকি নিয়ে হলেও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের ব্যবস্থা করতে৷

প্রত্যাশা ও হতাশা

নয়তো এবার ওবামা সরাসরি অধিকৃত এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধের ডাক দেননি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম কর্মকালে তিনি যা একাধিকবার করেছিলেন৷ তার একটি ফলশ্রুতি হয়েছে এই যে, ফিলিস্তিনিরা হতাশ এবং ক্ষুণ্ণ হয়েছে, ওবামা বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরে গিয়ে যেটা বুঝতেও পেরেছেন৷ ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা ছিল, ওবামা বসতি নির্মাণ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের উপর আরো বেশি চাপ সৃষ্টি করবেন৷

তবে ওবামার এ সফর ছিল একান্তভাবে ইসরায়েল সফর, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ সত্ত্বেও৷ ওবামা যে লেবাননস্থিত হেজবোল্লাহ’কে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করার ডাক দিয়েছেন, সেটাও ঐ যুক্তি থেকে৷ তিনি এবার এসেছেন ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এবং বিশেষ করে তাঁর নিজের সম্পর্কের একটা নতুন সংজ্ঞা ও মাত্রা প্রদান করতে৷ এবং সে কাজে যে তিনি সফল হয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে বলা চলে৷

এসি / এসবি (এপি, রয়টার্স)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল