June 23, 2017, 7:49 pm | ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৪৯

সর্বোচ্চ মর্যাদায় রাষ্ট্রপতিকে শেষ শ্রদ্ধা


president20130320051220ঢাকা জার্নাল: 
জাতীয় পতাকায় মোড়ানো সাদা রংয়ের একটি কফিনে রাষ্ট্রপতির মরদেহ রাখা হয়েছিল বঙ্গভবনের দরবার হলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির কফিন নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গভবনে।

লাল-সাদা ফুলে সাজানো সেনাবাহিনীর একটি পিকআপ জিল্লুর রহমানের কফিন নিয়ে বেলা ১টা ৪ মিনিটে বঙ্গভবনে পৌঁছায়।

এরপর মেজর জেনারেল ও তদোর্ধ্ব পদ মর্যাদার দশজন সেনা কমকর্তা লাল গালিচার ওপর দিয়ে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনিটি নিয়ে যান বঙ্গভবনের উত্তর অংশের শোক বেদীতে।

সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রতি সশস্ত্র সালাম জানানো হয়। এ সময় বেদীর বাম পাশে সেনা নৌ ও বিমানবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা ও শীর্ষ রাজনীতিকরা বেদীর ডান দিকে অবস্থান করছিলেন।

জাতীয় পাতাকা, রাষ্ট্রপতির পতাকা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পতাকা এবং তিন বাহিনীর পতাকা হাতে মাঝে দাঁড়ানো ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল।

গার্ড অব অনারের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর পক্ষে চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালেয়ের প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম এবং তিন বাহিনীর প্রধান এবং কূটনৈতিক কোরের ডিন রাষ্ট্রপতির কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর উত্তর লন থেকে রাষ্ট্রপতির কফিন নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গভবনের দরবার হলে। এরপর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, অ্যাটর্নি জেনারেল, বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা,  যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বিশিষ্টজনরা  একে একে রাষ্ট্রপতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন।

বেলা আড়াইটার পর বঙ্গভবনের ফটক খুলে দেয়া হয় সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

এর আগে বেলা ১২টার পর রাষ্ট্রপতির কফিন সিঙ্গাপুর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতির ছেলে সাংসদ নাজমুল হাসান ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই বিমানে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন।

বিমান থেকে কফিন নামানোর পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল রাষ্ট্রপতির প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায়। বিমান বন্দরের অস্থায়ী শোক বেদীতে রাষ্ট্রপতির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। পায়জামা-পাঞ্জাবি ও কালো মুজিব কোট পরিহিত আব্দুল হামিদকে এ সময় তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

এরপর মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ফুল দেন রাষ্ট্রপতির কফিনে। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আবারো তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতির কফিন নিয়ে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হয় সেনাবাহিনীর একটি পিক আপ। বিমানবন্দর সড়ক, বনানী, মহাখালী ফ্লাইওভার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ফার্মগেইট, বাংলামোটর, রূপসী বাংলা, মৎস্যভবন, আবদুল গণি রোড, জিপিও ও স্টেডিয়াম হয়ে বেলা ১টা ৪ মিনিটে বঙ্গভবনে পৌঁছায় কফিনবাহী গাড়িবহর।

এই পুরে সড়কের দুই পাশে নানা বয়সী হাজারো মানুষকে শোক আর শ্রদ্ধাভরে কালো পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কারো কারো হাতে দেখা যায় শোকবাণী লেখা প্ল্যাকার্ড।

রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব নেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ৮৪ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতি
মারা যান ।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল