June 23, 2017, 2:34 am | ২২শে জুন, ২০১৭ ইং,শুক্রবার, রাত ২:৩৪

ভারতের সংসদে ধর্ষণ-প্রতিরোধ বিল পাস

sdঢাকা জার্নাল: ভারতের সংসদে পাস হলো ধর্ষণ-প্রতিরোধ বিল৷ সামগ্রিকভাবে সব দলই এই বিল সমর্থন করেছে৷ তবে কড়া আইন করার পাশাপাশি মহিলাদের সচেতনতা বাড়ানোর এবং সরকারকে আইন বলবৎ করতে আরো সক্রিয় হবার ওপর জোর দেয়া হয়৷

দিল্লির বাসে গত ১৬ই ডিসেম্বর তরুণীর গণধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষণে কড়া শাস্তির সুপারিশ করেছিল ভার্মা কমিটি৷ তারই ভিত্তিতে সংসদে পাশ হলো ধর্ষণ-প্রতিরোধ বিল৷ তাতে বিধান রয়েছে, ধর্ষণের অপরাধে কমপক্ষে ২০ বছর কিংবা আজীবন জেল হবে৷ একাধিকবার ধর্ষণের মত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে৷ নতুন আইনে মেয়েদের পিছু নেওয়া বা গোপনে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তোলা বা মহিলার ওপর অ্যাসিড হামলার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বিলে৷ সর্বোপরি, যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতি দেবার ন্যূনতম বয়সসীমা ১৬ বছর থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৮ বছর৷

সহবাসে সম্মতি জানানোর বয়সসীমা বাড়ানোর পক্ষে যাঁরা, তাঁদের মত হলো আঠারো বছরের কম বয়সী কেউ ধর্ষণের অভিযোগে ধরা পড়লে তাঁর বিচার হবে নাবালক আইনে৷ তাহলে ১৬ বছরের নাবালক বা নাবালিকা কি করে সহবাসে সম্মতি জানাতে পারে৷ তবে ১৫ বছর বয়সী বৌ-এর সঙ্গে সহবাসকে ধর্ষণ বলে গণ্য করা হবে না৷

ধর্ষক যদি পুলিশ বা সেনাবাহিনীর সদস্য, সরকারী কর্মচারী, হাসপাতাল কর্মচারী হয়, তাহলে তাঁদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শাস্তি সাত বছরের জেল কিংবা তা আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে৷ রাজনৈতিক দলের একাংশ এই আইনের অপব্যবহার সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে৷ বলেছে, কড়া আইনই যথেষ্ট নয়, মানুষের চেতনা ও বিবেককেও জাগ্রত করতে হবে৷ দেশের মহিলাদেরও থাকতে হবে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন৷

ধর্ষণ-প্রতিরোধের কড়া আইন সম্পর্কে দুর্বার নামে এক এনজিওর প্রধান ভারতী দে তাঁর সন্তোষ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘সহবাসের সম্মতির বয়সসীমা ১৬ বছর রাখলেই ভালো হতো৷ প্রশাসনকে দেখতে হবে পুলিশের কাছে ডাইরি করতে গিয়ে কোনো মহিলাকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়৷ তবে আসল কথা, আইনের সঙ্গে সামাজিক দায়দায়িত্ব যেন একসঙ্গে কাজ করে৷”

একে এক অদ্ভুত সমাপতন বলা যায়৷ একদিকে ধর্ষণ-প্রতিরোধ আইন পাশ হলো, আর অন্যদিকে বিদেশি মহিলা পর্যটকদের ওপর বাড়ছে যৌন নিগ্রহের ঘটনা৷ কিছুদিন আগে এক সুইস মহিলা মধ্যপ্রদেশে গণধর্ষিতা হবার দুদিন পরেই আগ্রার এক হোটেলে এক ব্রিটিশ তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়৷ তরুণী হোটেলের বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে বাঁচান৷

বারবার এই ধরণের ঘটনায় সরকার নড়েচড়ে বসেছে৷ কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী এই নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে৷ ঐ হোটেলের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবেনা তার কারণ দর্শাবার নোটিশ দেয়া হয়েছে৷ গ্রেপ্তার করা হয়েছে হোটেলের মালিককে৷

সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের নিজামাবাদে নরওয়ের এক মহিলাকে বাসের মধ্যে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও ব্রিটিশ মহিলা পর্যটকদের ভারতে গেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷

বিদেশি পর্যটকদের শ্লীলতাহানির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভারতের ভাবমূর্তির প্রশ্ন৷ বিশ্বে পর্যটন আজ এক বড় ব্যবসা৷ সেই ব্যবসাই শুধু মার খাবেনা, দেশ হিসেবে ভারতকে লজ্জায় মুখ ঢাকতে হবে৷ যদি না স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন পর্যটকদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে পারে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল